গুপ্তচরবৃত্তি করে যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্বাসহীনতার পরিচয় দিয়েছে তা সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। ব্রাসেলসের বৈঠকে একথা বলেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা। নেতাদের সর্বসম্মত এক বিবৃতিতে শুক্রবার বলা হয়েছে, আস্থার অভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা ব্যাহত হতে পারে। এদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মোবাইল ফোনে আড়িপাতার ঘটনার বিষয় তদন্তে বার্লিন তাদের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাচ্ছেন। জার্মান সরকারের এক মুখপাত্র কথা জানান। ব্রাসেলসে ইইউর বৈঠকে নেতারা আরো বলেন, মার্কিন এই গুপ্তচরবৃত্তি ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মাঝে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তারা বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও আস্থার অভাবে তা বিভিন্ন দেশের সহায়তা লাভের চেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। সামপ্রতিক সময়ে মার্কিন গোয়েন্দাবৃত্তির অসংখ্য অভিযোগ প্রকাশ পেয়েছে। সর্বশেষ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ইটালি সরকারের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির খবর পাওয়া গেছে। এর আগে কোটি কোটি ফরাসি নাগরিকের ফোনকলে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর আড়িপাতার খবর পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকাও জানায়, এনএসএ ৩৫ জন বিশ্বনেতার ফোনে আড়ি পেতেছে। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুপ্তচরবৃত্তির এ খবর দেয় পত্রিকাগুলো।
এদিকে জার্মানি তাদের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ওয়াশিংটনে পাঠাচ্ছেন চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের মোবাইল ফোনে আড়িপাতার ঘটনা তদন্ত করতে। এ লক্ষ্যে দেশটির বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা হোয়াইট হাউস এবং এনএসএর (ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স) সঙ্গে আলোচনা করবেন। এর আগে ফ্রান্স ও জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছিল, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোন গোয়েন্দা চুক্তি করতে চান না। আর এ কারণেই ইইউর নেতারা ব্রাসেলস সম্মেলনে এই বলে সতর্ক করেছেন যে, অবিশ্বাসের দোলাচল সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে।
