চ্যানেলগুলোকে অতি বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনা ত্যাগ করতে হবে

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৮
এ দেশের সত্যিকার অর্থেই প্রথিতযশা নাট্যকার ও নির্দেশকের সংখ্যা হাতে গোনা। এই গুটিকয়েক নির্মাতাদের অন্যতম হলেন ফেরদৌস হাসান। টানা ৩ দশক ধরে নাটক নির্মাণ করছেন এবং বর্তমানে তার নির্মিত নাটকের সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। এই সংখ্যাই বলে দেয় নাট্যকার হিসেবে তার সফলতার কথা। সম্প্রতি মালয়েশিয়াস্থ এক বাঙালির উপর ডকুমেন্টারি নির্মাণ শুরু করেছেন তিনি। এই ডকুমেন্টারিসহ নাটকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান আপনি এখন একটি ডকুমেন্টারির উপর কাজ করছেন, এই সম্পর্কে জানতে চাই। কিছুদিন আগে আমি মালয়েশিয়াতে গিয়েছিলাম। যাওয়ার পর দেখলাম অবৈধ বাঙালিদের পুলিশ খুব ধরপাকড় করছে। এদের মেধ্য ইন্দোনেশিয়ান, ভিয়েতনাম, পাকিস্তানিও আছে। তবে বাঙালিদের সংখ্যাই বেশি। এটা দেখে খুব খারাপ লাগল। অন্যদিকে আবার একটা খবর দেখি যে, বাংলাদেশি একজনকে ‘দাতো’ উপাধিতে ভূষিত করেছে সে দেশ। ‘দাতো’ উপাধি মালয়েশিয়ার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি। এটা দেখেও অবাক হলাম। একই দেশে আমাদের দেশের কিছু লোক অবৈধভাবে থাকার জন্য জেলে যাচ্ছে, অন্যদিকে আমাদের দেশেরই একজন দেশের জন্য সুনাম কুড়াচ্ছেন। তার নাম দাতো এন সাহা। বড় প্রিন্টিং ফ্যাক্টরির ব্যবসা, রিয়েল এস্টেটসহ নানা ব্যবসাই করেন তিনি। ডকুমেন্টারিটা শুরু করলেন কীভাবে? আমি ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। বাংলাদেশে তার বাড়ি সাভারে। তিনি ৩০ বছর আগে স্কলারশিপ নিয়ে মালয়েশিয়ায় পড়তে গিয়েছিলেন, সেখানেই স্থায়ী হন, ব্যবসা করেন। তিনিই প্রথম বাঙালি যিনি দাতো উপাধি পেলেন। আমি সরাসরি তাকে বললাম, আপনার উপর একটা ডকুমেন্টারি বানাবো। আপনি কী দেশে যান? তিনি বললেন, ‘প্রায়ই তো দেশে যাই।’ তিনি দেশে আসার পর ডকুমেন্টারিটা নির্মাণ শুরু করেছি। অনেকদূর শুটিং করেছি। মালয়েশিয়ায় কিছু দৃশ্যধারণের কাজ বাকি আছে। সেটা হলেই ডকুমেন্টারিটা সম্পন্ন হবে। ডকুমেন্টারিতে কী কী থাকছে? ডকুমেন্টারিতে তুলে ধরব যে, একই দেশে একজন মাতৃভূমির জন্য সম্মান বয়ে আনছেন, আরেক দল মানুষ জেলে যাচ্ছেন। তারপর মালয়েশিয়াতে এত প্রভাবশালী ও গুণী ব্যক্তি হয়ে উঠার পেছনের কারণগুলো। আমি এটাও তুলে ধরব, যে যেই কাজে সেখানে যান না কেন, নিজের জায়গা থেকে ভালো কিছু করার চেষ্টা করুন। নাটকের কাজ কী করছেন? ঈদে তো বেশ কয়েকটা নাটক প্রচার হলো। এখন একটা ধারাবাহিক শুরু করছি। নাম ‘জার্সি নম্বর দশ’। এটি চ্যানেল আইয়ে প্রচার হবে। গল্পটা ফুটবল নিয়ে। এই নভেম্বর থেকে এর শুটিং শুরু করব। এতে অভিনয় করবেন মাহফুজ আহমেদ, তানিয়া, আহমেদ রুবেল, সৈয়দ হাসান ইমাম, আল মনসুর, কেএস ফিরোজসহ অনেকেই। এত এত চ্যানেল আমাদের এত এত নাটক হচ্ছে, তবুও এ দেশের ধারাবাহিকের নির্দিষ্ট দর্শকরা কিন্তু ভারতীয় চ্যানেলেই থাকছে। এর কী করণীয় বলে মনে করেন? যারা টিভি চ্যানেলে আছেন তারা যদি অতি বাণিজ্যিক চিন্তা ছেড়ে দেয় তাহলেই সম্ভব। আমাদের নাটকের মান ভারতের নাটকের মানের চেয়ে অনেক ভালো। দর্শককে যদি আমরা বিরক্ত করি অর্থাত্ বিজ্ঞাপনের ফাঁকে নাটক দেখাই তাহলে দর্শক কেন দেখবে। আমিই তো দেখব না, যত ভালো অনুষ্ঠানই আমরা করি না কেন। চ্যানেলগুলোর অতি বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনা যদি ত্যাগ করে, তাহলেই দর্শক ফিরবে। আগে এতটা বাজে অবস্থা ছিল না। আগে ১টা নাটকে ৭-৮টা বিজ্ঞাপন থাকত। আর এখন একেকটা নাটকে ৪০-৫০টা স্পন্সর থাকে। স্বাভাবিকভাবেই দর্শকরা অন্য নাটক দেখবে। এই ঈদসহ গেল কয়েক ঈদের প্রচারিত নাটকের প্রায় ৯৫ শতাংশ নাটক ছিল এজেন্সির। এখন এজেন্সিরাই নাটকের সব ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এটা আমাদের নাটক শিল্পের কী রূপ প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয়? এটা তো মোটেই ভালো লক্ষ্যন নয়। আমার মনে হয় না যে, চ্যানেলগুলো নিজেদের স্বত্ত্বা এজেন্সির হাতে দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কোনো উপকার করছেন। এটা অতি বাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে। এতে চ্যানেল নিজেই হয়তো একটা সময় বিপাকে পড়বেন।