মু খো মু খি

নতুনদের প্লে-ব্যাকে মনোযোগী হওয়া উচিত

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৪
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন। সকালে ঘুম ভাঙে ‘রাঙা সকাল’কে ঘিরে। তারপর বাসায় ফিরে খানিকটা ঘরের কাজ করি। আজ অবশ্য বাসায় ফিরেই আবার বাইরে গিয়েছি। ফটোসেশন ছিল। তারপর স্টুডিও, রেকর্ডিং, গানবাজনা এগুলোতেই সময় যাচ্ছে। অন্যদিকে নিজের অ্যালবামের কাজ শেষ করেছি। খুব শীঘ্রই এটি বের হবে বলে আশা করছি। নাম এখনও ঠিক হয়নি, তবে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ চলচ্চিত্রে যেহেতু ‘ও প্রিয়’ গানটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে, তাই এই গানের শিরোনামটিই অ্যালবামের নাম হিসেবে এখন পর্যন্ত ভেবেছি। প্রযোজনা সংস্থাও চাইছে যেন এই নামটিই হয়। এই অ্যালবামের বাইরে আর কী কাজ করছেন? লেজার ভিশন থেকে এরইমধ্যে বেশ কিছু প্রজেক্টের প্ল্যানিং চেয়েছে, এর কাজগুলো গোছাচ্ছি। তবে এক্সক্লুসিভ কাজের মধ্যে বলব যে, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ভাইয়ের কিছু কাজ করেছি। ১৭ বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি, কিন্তু বুলবুল ভাইয়ের সঙ্গে কখনোই কাজ করা হয়নি। বুলবুল ভাই গত ১ মাস আগে আমাকে ডাকলেন। তিনি আমাকে ফেলানীর উপর একটি গান গাওয়ালেন। এই গানটি দেখে অনেকেই কেঁদেছে, অনেকেই ফোন করেছে। আমি তার সঙ্গে আরও বেশ কিছু বড় বড় প্রজেক্টে কাজ করছি। কিছুদিন আগে আলাউদ্দিন আলী ভাই আমাকে ডেকে নিয়ে একটি গান গাওয়ালেন। গানটি তার মৌলিক গান। দীর্ঘদিন পর মৌলিক গান করেননি তিনি। এত বড় বড় সংগীতজ্ঞদের সঙ্গে এখন কাজ করছি। এটা আসলেই অনেক বড় পাওয়া। ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ চলচ্চিত্রে আপনার গানটি বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে। এই সফলতায় কেমন লাগছে? আল্লাহর রহমতে আমি যেসব সাধুবাদ পাচ্ছি তা আমি আশাই করিনি। ১ লক্ষেরও বেশি হিট পড়েছে গানটিতে ফেসবুকে। নওশাদ ভাই গানটি এতটাই পছন্দ করেছে যে, তিনি তার সিনেমা হল মধুমিতার সামনে এই গানের সিডিটি বিক্রির ব্যবস্থাও করেছেন। আবার অনেকে এই গানটা শুনেই ছবিটা দেখতে গিয়েছে, বিশেষ করে মেয়েরা। আমাদের দেশে তো প্লে-ব্যাকের শিল্পীর গ্রহণযোগ্যতাটা কতটুকু বলে মনে হয়? ডুয়েট গান কিংবা অ্যালবাম করেই তো এ দেশে এখন শিল্পীরা বেশি আলোচিত হচ্ছেন! ডুয়েট গানের শিল্পী বা নতুন গানের শিল্পী, তাদেরকে ছোট করে বলছি না। শোবিজ মিডিয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হচ্ছে ফিল্ম। আমরা অতীতের দিকে তাকালে দেখি, রুনা লায়লা-সাবিনা ইয়াসমিনের গানই কিন্তু রয়েছে। বাকিরা কিন্তু নেই প্রায়। মডার্ন মিউজিক শিখতে হলে ফিল্মের গানে চান্স নিতেই হবে। আমি মনে করি, নতুনদের ফিল্মের প্লে-ব্যাকে আসা উচিত। আপনার স্বামী এ দেশের একজন বিশিষ্ট গীতিকার এবং সাংবাদিক। এই বিষয়টি আপনার কাজের জন্য কতটা সহায়ক মনে করেন? আমি সব সময়ই যেকোনো সাক্ষাত্কারে বলি যে, আমি মিডিয়া জগতে আজকের যে অবস্থানে আছি তার সবকিছুই কবির বকুলের অবদান। সেই আমাকে শিখিয়েছে সবকিছু। তিনি আমার ফিলোসোফিক্যাল গাইড। হয়তো এ কারণেই অনেকের মতো ঝড়ে যাইনি। তাই কবির বকুলই আমার সব কৃতিত্বের অংশীদার। গান গাওয়ার পাশাপাশি আপনি তো উপস্থাপনাও করছেন। এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন। আমি যখন ‘রাঙা সকালে’ বসি, তখন একজন উপস্থাপক হিসেবেই দর্শকদের সামনে হাজির হই। আমি নিজেকে ভাঙতে চেয়েছি এবং পেরেছি। ছোট্ট একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, একজন অতিথি আমার অনুষ্ঠানে বললেন, ‘দিনাত জাহান মুন্নী কী আপনার কিছু হয়! আমি না আপনার চেহারার সাথে তাকে মিলিয়ে ফেলেছি।’ পরে আমি বললাম যে, না আমিই সেই দিনাত জাহান মুন্নী। এই অনুষ্ঠানে অসংখ্য বুদ্ধিজীবীরা এসেছেন, আসছেন নিয়মিত। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এটা বাদে আর কোনো অনুষ্ঠান আপাতত উপস্থাপনা করছি না।