ভারতে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের দিকে নজর রেখে সামপ্রদায়িকতা বিরোধী মঞ্চ গড়া উদ্যোগ নিল বামেরা। কংগ্রেস, বিজেপিকে বাদ রেখেই ধর্ম নিরপেক্ষ মঞ্চ গড়তে ৩০ অক্টোবর দিল্লিতে সামপ্রদায়িকতা বিরোধী কনভেনশন ডেকেছে তারা। কনভেনশনে অংশ নিচ্ছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদব, তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার দল। রাজনৈতিক দলগুলি ছাড়াও এই মঞ্চে উপস্থিত হচ্ছেন শ্যাম বেনেগাল এবং মল্লিকা সারাভাইয়ের মতো বুদ্ধিজীবীরা।
জোট গড়ার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আজমেরের পথ ধরে আঞ্চলিক দলগুলোকে নিয়ে দিল্লির দরবারে তৃতীয় শক্তি হওয়ার দৌড় শুরু করেছে সিপিএম। নভেম্বরে রাজস্থানের বিধানসভা নির্বাচনে বিহার, উত্তর প্রদেশের শাসক দল জনতা দল (ইউনাইটেড), সমাজবাদী পার্টির সঙ্গে জোট গড়ে লড়বে বাম দল সিপিএম, সিপিআই। সঙ্গে থাকবে জনতা দল (সেকুলার)।
হিন্দি বলয়ে রাজস্থানেই সিপিএমের তুলনামূলক শক্তি বেশি। ২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় তাদের তিন জন বিধায়কও রয়েছেন। এছাড়া আজমের শহরে সিপিএমের ভিত বেশ শক্ত। খাজা মইনুদ্দিন চিস্তির শহর আজমেরে প্রচুর বাঙালি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শক্তিশালি সংগঠন গড়ে তুলেছে সিপিএম। এক কথায় বলা যায় দিল্লিতে শক্তিশালি হওয়ার কৌশলের অঙ্গ হিসেবেই আজমেরের পথ ধরে ভারতে ফের একবার তৃতীয় ফ্রন্টের সলতে পাকানোর কাজ শুরু করল সিপিএম। কিন্তু কেন?
২০০৪ সালে বিজেপিকে আটকাতে কংগ্রেসকে সমর্থন দিয়েছিল বামেরা। তাহলে এবার কেন বাদ পড়ল কংগ্রেস? সিপিএম নেতারা বলছেন, মনমোহন সিংয়ের ইউ পি এ-২ সরকার যে অর্থনীতি নিয়ে চলছে তাতে কোনওভাবেই বিকল্প মঞ্চে কংগ্রেসকে রাখা চলে না। ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গার সময় নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে ছিলেন নৃত্য শিল্পী মল্লিকা সারাভাই। রীতিমতো প্রচারে নেমেছিলেন নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে। তিনিও সামিল হচ্ছেন এই ধর্মনিরপেক্ষ মঞ্চে। মঞ্চের সমর্থনে মুখ খুলেছেন চিত্র পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
তবুও কংগ্রেসকে বাদ রেখে বিজেপিকে রোখা কী সম্ভব? বাম নেতারা বলছেন এর জবাব মিলবে লোকসভা নির্বাচনের পর। একান্ত উপায় না থাকলে কংগ্রেসকে সমর্থন করতেই হবে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সমীক্ষায় যা প্রকাশ, তাতে আগামী লোকসভা নির্বাচনের পর তৃতীয় শক্তিই নির্ণায়ক ভূমিকা নেবে। হয়তো এমনও হতে পারে সামপ্রদায়িকতাবিরোধী শক্তিগুলো আগামী লোকসভা নির্বাচনে একশ’র বেশি আসনে জিতে গেল। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস তৃতীয় ফ্রন্টকে বাইরে থেকে সমর্থন করতে বাধ্য হতে পারে।
উল্লেখ্য, ৫৪৩ আসনের লোকসভায় এখন বামেদের রয়েছে ২৪ জন এমপি। সমাজবাদী পার্টির ২২, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর ১৯, তামিলনাডুর মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার দলের ৯, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দলের ১৪, জনতা দল (সেকুলার)-এর ২ জন। সমীক্ষা বলছে বামেরা ৩২, জয়ললিতার দল ২৮, সমাজবাদী পার্টি ২৫, জনতা দল (ইউনাইটেড) ৯, নবীন পট্টনায়েকের বিজেডি ১৪, জনতা দল (সেকুলার) ৮ মিলে মোট ১১২ টি আসন পেতে পারে। তাই আজমেরের পথ ধরে দিল্লির পথে দৌড় শুরু করছে বামেরা।
