ভারতের রাজনীতিতে পেঁয়াজের ঝাঁঝ

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৮
পেঁয়াজের ঝাঁঝে কাঁদছে ভারত। পেঁয়াজের দাম বাড়তে বাড়তে ইতিমধ্যে ১শ রুপি (প্রতি কেজি) ছুঁয়েছে। পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষের মাঝে অসন্তোষ দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। আর এটা মনমোহন সিংয়ের কোয়ালিশন সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দল ভোটের রাজনীতি শুরু করে দিয়েছে। ভারতের আগের সরকারের নির্বাচনে ভরাডুবির পেছনে সবজির দাম বৃদ্ধিকে একটা বড় কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। পেঁয়াজের এই দুর্মূল্যের দিনে সকলের নজর এখন এশিয়ার বৃহত্তম পেঁয়াজের বাজার ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশের দিকে। দেশে উত্পাদিত পেঁয়াজের সিংহভাগ এই মহারাষ্ট্র প্রদেশের পাইকারী বাজার লাসালগাঁও থেকেই সরবরাহ করা হয়ে থাকে। দেশের রাজনীতিতে পেঁঁয়াজ যে একটা নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে তা প্রকাশ করতে দ্বিধা করলেন না লাসালগাঁওয়ের কৃষি পণ্য বাজার কমিটির চেয়ারম্যান নানা সাহেব পাতিলও। তিনি বলেন, পেঁয়াজ এখন সরকারি কর্মকান্ডের দক্ষতা নিরূপনের সূচকে পরিণত হয়েছে। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির ঝাঁঝে মানুষের চোখের পানি নাকের পানি এক হতে শুরু হয় মাস খানেক আগে থেকেই। দিন পনের আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ৮০ রুপিতে পৌঁছালে মানুষের নাভিশ্বাস ওঠে। গত জুলাইতেও দাম ছিল এর অর্ধেক। আগস্টে এসে পেঁয়াজের পাইকারি দামবৃদ্ধির হার দাঁড়ায় গত বছরের ঐ সময়ের তুলনায় ২৪৫ শতাংশ বেশি। আর বর্তমানে পেঁয়াজের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার আগস্টের চেয়ে বেড়েছে শতকরা প্রায় সাড়ে ৬ ভাগ। পেঁয়াজের এত অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিকভাবেই এর ব্যবহার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। ঘরবাড়িতে গৃহিনীরা তরকারিতে পেঁয়াজ দিচ্ছেন মেপে মেপে- যেটুকু না দিলেই নয়। আর হোটেল রেস্টুরেন্টে তো কথাই নেই, তরকারিতে পেঁয়াজ না দিতে পারলেই বাঁচে। মূল খাবারের সাথে দেয়া সালাদে তো পেঁয়াজের নাম নিশানাই খুঁজে পাওয়া যায় না। পেঁয়াজের দেশ ভারতে কেন পেঁয়াজের এই আকাল। এ জন্য মহারাষ্ট্রে গত বছরের খরাকে দুষছেন কৃষকেরা। লাসালগাঁও পাইকারি কৃষি পণ্য বাজার কমিটির চেয়ারম্যান মি. পাতিলও বললেন একই কথা। তিনি বলেন, খরার কারণে পেঁয়াজের উত্পাদন হয়েছে শতকরা ৪০ ভাগেরও কম। ফলে এক্ষেত্রে অর্থনীতির সেই চিরায়ত সূত্রই কাজ করেছে। সরবরাহ কম থাকায় পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। দিন পনের আগে লাসালগাঁও বাজারে কৃষকেরা ১০০ কেজি পেঁয়াজ বেঁচে পান ৪ হাজার ৫শ রুপি। আর গত বছর একই সময়ে পেয়েছিলেন সর্বোচ্চ দেড় হাজার রুপি। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণে কিছুটা লাভের মুখ দেখায় তারা খুশি। আর কিছুদিন পরই বৃষ্টি শুরু হলে পেঁয়াজের দামও কমে আসতে থাকবে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা। তবে ব্যবসায়ীরা জানালেন পেঁয়াজের দাম বাড়ায় তাদের মোটেই লাভ হয়নি। কারণ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণ পেঁয়াজই মিলছে না। এক ব্যবসায়ী জানালেন, তিনি আগে এ সময়ে প্রতিদিন ৮ ট্রাক পেঁয়াজ সরবরাহ করতেন, আর এখন এক ট্রাক বোঝাই করাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণে অনেকে পেঁয়াজ খাওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন। মুম্বাইয়ের এক অটোরিকশা চালক জানালেন, তিনি গত এক মাস ধরে পেঁয়াজ কেনা বাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এত দামি জিনিস গরীবেরা খাবে কিভাবে?” এই দরিদ্র অটোরিকশা চালকের কথায় যেন গোটা ভারতের সাধারণ মানুষের হাহাকারই প্রতিধ্বনিত হলো।