বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোন অপারেটরদের বৃহত্তম সংগঠন জিএসএম’র নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন টেলিনরের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও ফ্রেডরিখ বাকসাস। বিশ্বব্যাপী পরিচালিত প্রায় ৮০০টি মোবাইল অপারেটরদের এই সংগঠনকে তিনি নেতৃত্ব প্রদান করবেন আগামী ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় ফ্রাংকো বার্নাবির স্থলাভিশিক্ত হবেন বাকসাস। জিএসএমএ’র চেয়ারম্যান হিসেবে ফ্রেডরিখ বাকসাস সংগঠনটির সার্বিক কর্মকৌশল নির্ধারণ এবং তার বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করবেন। ফলে বিশ্বব্যাপী পরিচালিত প্রায় ৮০০ মোবাইল অপারেটর এবং মোবাইল-সংশ্লিষ্ট আড়াই শতাধিক কোম্পানির নেতৃত্ব দেবেন তিনি। এসব কোম্পানির মধ্যে রয়েছে হ্যান্ডসেট নির্মাতা, সফটওয়্যার কোম্পানি, মোবাইল যন্ত্রাংশ নির্মাতা, ইন্টারনেট কোম্পানি প্রভৃতি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য, সেবা, শিক্ষা, চিকিত্সা কিংবা অন্যান্য খাতেরও যেসব প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন মোবাইলের সেবা গ্রহণ করে থাকে, তাদের নিয়েও জিএসএমএ’র হয়ে কাজ করবেন তিনি। জিএসএমএ’র বার্ষিক আয়োজন মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস এবং মোবাইল এশিয়া এক্সপো’র নেতৃত্বেও যথারীতি থাকবেন তিনিই। মোবাইল অপারেটরদের এই শীর্ষ সংগঠনের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে বাকসাস বলেন, ‘জিএসএমএ’র পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এবং অন্যান্য সকল সদস্যদের নিয়েই মোবাইল শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ সব ইস্যুতে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে আছি। ব্যক্তি এবং সমাজের উপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তারকারী এই শিল্প নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা অনেক গর্বের বিষয়। বিশ্বব্যাপী যেসব মানুষ এখনও মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের বাইরে রয়েছেন, তাদের এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করাই আমাদের অন্যতম প্রধান একটি লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণে মোবাইল নেটওয়ার্ক, নতুন নতুন সব নিরাপদ সেবাকে আত্মীকরণ করা এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে মোবাইল শিল্পের নতুন নতুন চাহিদাগুলোকে তুলে ধরার বিষয়ে জিএসএমএ’র মনোযোগ নিবদ্ধ থাকবে।’ এদিকে জিএসএমএ’র ডিরেক্টর জেনারেল অ্যান ব্যুভেরট বলেছেন, ‘বাকসাসেসর কাজ করে জিএসএমএকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমি আশাবাদী। বিশ্বব্যাপী যাতে সব ধরনের মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে আরও বেশি সেবা গ্রহণ করতে পারে এবং মোবাইল সেবা শিল্পে যেন আগের চাইতে আরও বেশি বিনিয়োগ হয়, সেই লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক প্রতিবেশ তৈরি করতে পারব বলেই আমরা মনে করি।’ উল্লেখ্য, নরওয়েজিয়ান ফ্রেডরিখ বাকসাস দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে কাজ করছেন টেলিকম খাতে। ২০০২ সাল থেকে তিনি টেলিনর গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের ৫৫.৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এই টেলিনর গ্রুপের অধীনে।
