টেস্ট ক্রিকেটে ফিরতে চান মোহাম্মদ হাফিজ

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১৬
মোহাম্মদ হাফিজ সাম্প্রতিক সময়ে তিন ফর্মেটেই পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে সেরা এবং টি-২০ তে দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার তিনি। ২০১০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার পর থেকেই অসাধারণ পারফরমেন্স করে আসছেন। তবে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে ভাল করতে না পারায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাট-বল উভয় ক্ষেত্রেই ভাল পারফরমেন্স অব্যাহত রেখেছেন হাফিজ। মিসবাহউল হকের কাছ থেকে গত বছর টি-২০ দলের নেতৃত্ব দেয়া হয় হাফিজের হাতে। অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর ১৮ ম্যাচের মধ্যে ১২ ম্যাচে পাকিস্তানকে জয় এনে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি ওয়েবসাইটকে দেয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেট বাজে ফর্ম, দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, মিসবাহর পরে টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট সম্ভাব্য অধিনায়কত্ব এবং টেস্ট ক্রিকেটে নিচের দিকে ব্যাটিং করার প্রস্তুতিসহ বিস্তারিত বিষয়ে কথা বলেন হাফিজ— প্রশ্ন: ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেটে আপনার ব্যাটিং রেকর্ড বেশ খারাপ। কি কারণে এটা হয়েছে বলে আপনি মনে করেন? হাফিজ: গত তিন বছর যাবত্ আমি তিন ফর্মেটেই পাকিস্তানের হয়ে খেলছি। এর ঠিক আগে কিংবা আরো আগে আমাকে এক ফর্মেটেই খেলতে হয়েছে। অন্য ফর্মেটে ভাল করা সত্ত্বেও এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে উল্লেখ করার মতো কিছু আমি করতে পারিনি। প্রকৃতপক্ষে জিম্বাবুয়েতে ওয়ানডে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হই আমি। যা থেকে প্রমাণিত হয় আমার ফর্ম কোন সমস্যা নয়। হ্যাঁ। অবশ্যই এ বছর টেস্ট ক্রিকেটে আমার রান নিয়ে আমি শঙ্কিত। তবে আমার ফর্ম নিয়ে কোন সমস্যা আছে বলে আমি মনে করি না। ২০১০ সালে আমি পুনরায় জাতীয় দলে ফিরি এবং ধারাবাহিকতার প্রমাণ দিয়েছি। সীমিত ওভারের চেয়ে টেস্ট ক্রিকেটে আমার ব্যাটিং নিয়েই আমি কঠোর পরিশ্রম করছি। প্রশ্ন: আপনি বলেছেন, টেস্ট ক্রিকেটে এ বছর আপনার রান সংখ্যা খারাপ থেকে আরো খারাপ হয়নি। যদি তাই হয়, আর কতো খারাপ হতে পারে ? হাফিজ: একজন ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে সব সময়ই আপনাকে আক্রমণ সহ্য করতে হয়। নতুন বলের মোকাবেলা করাটা যে কোন ব্যাটসম্যানের জন্যই কঠিন পরীক্ষা এবং আমার ক্ষমতাবলে তিন ফর্মেটেই আমাকে নতুন বল মোকাবেলা করতে হয়। এটা যদি মানসিক, কৌশলগত কিংবা অন্য কোন বিষয় হতো তাহলে তিন ফর্মেটেই আমার সমস্যা হতো। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। আমার জন্য চ্যালেঞ্জ হচ্ছে- পুনরায় পাকিস্তান টেস্ট দলে ফিরে টপ অর্ডারে নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ন রাখা এবং আমার বিশ্বাস আমি তা পারবো। আমি কঠোর পরিশ্রম করছি এবং আশা করছি খুব শিগগিরই আমি পাকিস্তানের টেস্ট দলে ফিরবো। প্রশ্ন: দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দল থেকে বাদ পড়ার পর মিসবাহ আপনাকে কি বলেছেন? হাফিজ: টেস্ট দল থেকে আমার বাদ পড়ার বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোন কথা হয়নি। এটা নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত এবং এ সিদ্ধান্তের প্রতি আমাকে সম্মান দেখাতে হবে। আমি তাদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। প্রশ্ন: আপনার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আছে—দল নির্বাচন বিষয়ে আপনি খুব বেশি কথা বলেন। এমন অভিযোগ সঠিক ? হাফিজ: টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় ফর্মেটেই আমি দলের সহ-অধিনায়ক এবং টি-২০ অধিনায়ক; কিন্তু একটা বিষয় আমি পরিষ্কার করতে চাই যে, আমি কেবল টি-২০ ফর্মেট নিয়েই কথা বলি। টি-২০ ফর্মেটে অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচকদের আমার বলতে হয় যে, আমি কিছু নতুন মুখ চাই কিংবা তরুণদের দলে দরকার এবং কেবল এতটুকুই আমরা করে থাকি। প্রশ্ন: অবশ্যই দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজের উইকেট খুব বেশি বোলিং সহায়ক ছিল। যা সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেটের চেয়ে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী। আপনি কি মনে করেন যে, টেস্ট দল থেকে আপনাকে বাদ দেয়াটা ঠিক হয়নি অথবা অধিকতর সহায়ক কন্ডিশনে আপনার নিজকে প্রমাণ করার একটা সুযোগ দেয়া উচিত ছিল ? হাফিজ: আমি বিষয়টি এভাবে চিন্তা করি না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে কন্ডিশনের পার্থক্য আকাশ-পাতাল। সাধারণভাবে এ দুই কন্ডিশনকে আপনি তুলনা করতে পারবেন না। তবে আমি দক্ষিণ আফ্রিকায় পারফর্ম করতে পারিনি সেটা আমার ক্ষতি। কন্ডিশন সহায়ক না হলেও দক্ষিণ আফ্রিকায় আমার পারফরমেন্স করতে পারা উচিত ছিল। একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বের সব জায়গায় সব কন্ডিশনেই আপনাকে পারফর্ম করতে হবে। প্রশ্ন: মাত্র কিছু দিন যাবত্ই আপনি এবং তৌফিক উমর টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তান দলে একটা ভাল ওপেনিং জুটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সব কিছু এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে পরিবর্তন হলো ? হাফিজ: আমরা দুই জনই ২০১০ সালে কাছাকাছি সময়ে দলে ফিরি। আমরা ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ফিরি এবং আমাদের বোঝাপড়াটা ছিল চমত্কার। ওপেনিং জুটি হিসেবে আমাদের কয়েকটি সেঞ্চুরি ও হাফ-সেঞ্চুরির পার্টনারশিপ আছে। একটা স্থিতিশীল ওপেনিং পার্টনারশিপ থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। যে সকল দলে ভাল স্থিতিশীল ওপেনিং পার্টনারশিপ থাকে বছরের পর বছর সে দল ভাল করে। দুঃখের বিষয় হলো- আমরা কেউই বর্তমান টেস্ট দলে নেই; কিন্তু পেশাদার ক্রীড়াঙ্গনে এটাই হয়ে থাকে। ভাল-খারাপ সময় সব কিছুই আপনাকে মেনে নিতে হবে। প্রশ্ন: কিন্তু টেস্ট-ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব করার আপনার কোন চিন্তা-ভাবনা আছে কিনা? হাফিজ: এ বিষয়ে আমি কিংবা অন্য যে কোন ক্রিকেটারের ভাবনায় কিছু আসে-যায় না। বিষয়টা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)। পিসিবি নির্ধারণ করে, কে দলের নেতৃত্ব দেবে। দেশের হয়ে টি-২০ দলের নেতৃত্ব পেয়ে আমি গর্বিত। খুব স্বল্প সংখ্যক ক্রিকেটারই নেতৃত্ব দেয়ার গৌরব অর্জন করতে পারে। প্রশ্ন: টেস্ট ক্রিকেটে আপনি সব সময় একজন ওপেনার হিসেবে খেলে থাকেন। টেস্ট দলে জায়গা নিশ্চিত করতে নিচের দিকে ব্যাটিং করার বিষয়টি কি আপনি বিবেচনা করবেন? হাফিজ: আপনি যেটা উল্লে¬খ করলেন, টেস্ট ক্রিকেট আমি সব সময় ওপেন করে আসছি। কর্তৃপক্ষ সংক্ষিপ্ত ভার্সনে সম্প্রতি আমাকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে বলেছে এবং আমি সেটা করেছি। তিন নম্বরে ব্যাট করার বিষয়ে আমি মানসিকভাবে প্রস্তুত। তবে আমি মনে করি, আজহার আলী একজন চমত্কার ব্যাটসম্যান এবং টেস্ট ক্রিকটে তিন নম্বরে খেলার জন্য আদর্শ ব্যাটসম্যান সে। সব শেষে এটা টিম ম্যানেজমেন্টের বিষয়। তবে টেস্ট ক্রিকেটে সব সময় আমি নিজকে ওপেনার হিসেবে বিবেচনা করি। তবে দলের প্রয়োজনে আমাকে তিন নম্বরে কিংবা মিডল অর্ডারে ব্যাট করার জন্য বলা হলে অবশ্যই আমি সানন্দে সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবো। প্রয়োজনে টেস্ট ক্রিকেটে অবশ্যই নিচের সারিতে আমি ব্যাট করবো। প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন আগামী বছর বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় টি-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ে ফেভারিটদের তালিকায় পাকিস্তান আছে? হাফিজ: গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদেরকে সুখস্মৃতির মধ্যে রাখা। টি-২০ ফর্মেটে বেশ কিছুদিন যাবত্ আমরা ভাল ক্রিকেট খেলছি এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ও তারপর শ্রীলংকার বিরুদ্ধেও এই ভাল খেলাটা আমরা অব্যাহত রাখতে চাই। টি-২০ ক্রিকেটে আমাদের দলে বেশ কয়েকজন ম্যাচজয়ী খেলোয়াড় আছে, যা সত্যিই বাড়তি কিছু এবং আমাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে। বাংলাদেশের কন্ডিশন আমাদের জন্য সহায়ক হবে এবং সেখানে আমাদের স্পিনাররা যথেষ্ট কার্যকর হবে। আমি মনে করি, আমাদের ভাল একটা সুযোগ আছে। -বাসস