লক্ষ্য যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:৪১
এইচএসসি পাস করার পর ইচ্ছে থাকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। তবে আসন সংকটের কারণে সবার স্বপ্ন পূরণ হয় না। এ ক্ষেত্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। ভর্তি পরীক্ষা ২৭ ডিসেম্বর: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের প্রথমবর্ষ অনার্স ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক ফয়জুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব সাইট (www.nu.edu.bd) সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে যথাসময়ে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য ভর্তি পরীক্ষা হয় সাধারণত MCQ (Multiple Choice Question) পদ্ধতিতে। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকে ১০০টি। প্রতি প্রশ্নের মান হয় সমান। মানবিক ও ব্যবসায় শাখার পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে ২৫টি করে মোট ৫০টি প্রশ্ন থাকে। বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও ইংরেজী বিষয়ে ৪০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে সব শাখার জন্য। বাকি নম্বর বিষয়ভিত্তিক বণ্টন করা হবে অর্থাত্ মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞান শাখার জন্য পৃথক বিষয়ের ওপর নম্বর বণ্টন করে দেয়া হবে। যেসব বিষয় আছে: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় অনুষদের আওতায় ২৮টি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী দেয়া হয়। এগুলোর মধ্যে মানবিক বিভাগে রয়েছে বাংলা, ইংরেজী, ইতিহাস, দর্শন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ইসলামী শিক্ষা, আরবী, পালি ও সংস্কৃত, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজকল্যাণ, সমাজকর্ম, নৃ-বিজ্ঞান, জনপ্রশাসন, গার্হস্থ্য অর্থনীতি। বিজ্ঞান বিভাগের রয়েছে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, পরিসংখ্যান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, ফিজিওলজি, ভূগোল, সয়েল সায়েন্স। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে রয়েছে ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, মার্কেটিং, ফিন্যান্স এ্যান্ড ব্যাংকিং। অধিভুক্ত নামকরা কলেজ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে কিছু নামকরা কলেজ রয়েছে। এসবের মধ্যে কিছু শতবর্ষী আর কিছু রয়েছে তার চেয়ে বেশি বয়সের। এর মধ্যে ঢাকার ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, সিলেটের এমসি কলেজ, রাজশাহীর রাজশাহী কলেজ, বরিশালের বিএম কলেজ, যশোরের এমএম কলেজ, খুলনার বিএল কলেজ, বগুড়ার আযিযুল হক কলেজ, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন কলেজে হল সুবিধা: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন দেশের বিভিন্ন বিভাগে অবস্থিত খ্যাতনামা কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হল সুবিধা রয়েছে। ঢাকার ঢাকা কলেজে হল রয়েছে ৭টি। তিতুমীর কলেজে ৩টি। যার মধ্যে ২টি ছাত্রীদের এবং ১টি ছাত্রদের জন্য। ইডেন কলেজে হল রয়েছে ৫টি। সিলেটের এমসি কলেজে ছাত্রছাত্রীদের জন্য পৃথকভাবে ১টি করে হল রয়েছে। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজে ছাত্রদের জন্য ৩টি এবং ছাত্রীদের জন্য ২টি হল রয়েছে। রংপুর কারমাইকেল কলেজে ছাত্রদের জন্য ২টি এবং ছাত্রীদের জন্য ১টি হল রয়েছে। এর মধ্যে ছাত্রদের একটি হল সংখ্যালঘু শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ। সা ক্ষা ত্ কা র ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজাতে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর একটি উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। নতুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এটা নতুনদের মেনে নিতে হবে। আশা করছি যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো দ্রুত সমাধান করতে পারব। এজন্য শিক্ষার্থীদেরও সহায়তাও প্রত্যাশা করছি’ উচ্চ শিক্ষায় অবদান রাখছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর হারুন-অর-রশিদ উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্ববৃহত্ উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রায় দুই হাজার কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধিভুক্ত রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১২ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী পড়ছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সমস্যা থাকলেও সেটা থেকে উত্তরণে কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। সেশনজট কমেছে: একথা সত্যি আমাদের এখানে সেশনজট আছে। তবে সেশনজট কমিয়ে আনতে প্রধান করণীয় হচ্ছে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা। আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি। আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছি। অনলাইনে ভর্তি: পরীক্ষা ব্যবস্থাকে অনলাইনের আওতায় আনা হচ্ছে। আইসিটি ইউনিটকে আরো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রথম বর্ষেও ভর্তি, ডিগ্রী ও মাস্টার্স প্রথম পর্বের ভর্তিও অনলাইনে করা হচ্ছে। এতে হয়রানি ও ভর্তি বাণিজ্য কমেছে। আঞ্চলিক কেন্দ্র জোরদার: গাজীপুর কেন্দ্র থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা সম্ভব নয়। তাই ঢাকার বাহিরে ৬টি বিভাগীয় শহরে ৬টি আঞ্চলিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ডিজিটালাইজড: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপান্তরিত করতে চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ওয়েবসাইট পুনর্গঠন, ইন্টিগ্রেটেড সফটওয়্যার তৈরি, কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি, ই-টেন্ডারিং প্রবর্তন, ই-লাইব্রেরি, শিক্ষকদের ডাটাবেজ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন বিষয়: আগামী শিক্ষাবর্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় বছর মেয়াদী থিথিসসহ এমএ ও এমএস প্রোগ্রাম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটিকে শিক্ষা ও উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা আমাদের লক্ষ্য। ২০১৪ সাল থেকে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ আবশ্যিক বিষয় হিসেবে সব বিভাগে পড়ানো হবে।