স্ক্যান্ডিনেভিয় কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বাণিজ্য বিস্তারে আগ্রহী

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ১৯:৪৬
বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনাকারী ৯৪ শতাংশ স্ক্যান্ডিনেভিয় কোম্পানি আগামী ৩ বছরে তাদের কার্যক্রম বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি চীনের মত অন্যান্য বাজারে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। তাদের অভিজ্ঞতায় অন্যান্য দেশের বাজারের চেয়ে এদেশের বাজারে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি থাকাটা আগ্রহের একটা অন্যতম কারণ। বাংলাদেশে স্ক্যান্ডিনেভিয় কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক আবহ সংক্রান্ত পরিচালিত একটি গবেষণা থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে। সুইডেন বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (এসবিবিসি) ও তিনটি স্ক্যান্ডিনেভিয় দেশের দূতাবাসের (সুইডেন, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ড) সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালনা করছে নরডিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ (এনসিসিআই)। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, অনিয়মিত বিদ্যুত্ সরবরাহ, নিম্নমানের যোগাযোগ অবকাঠামো, আইনগত জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করলেও ৬৭ শতাংশ উত্তরদানকারী জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইতিবাচক ব্যবসায়িক আবহ রয়েছে। আগামী তিন বছর মেয়াদে এদেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ সম্পর্কে প্রায় অর্ধেক (৪৭ শতাংশ) উত্তরদানকারী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বাংলাদেশ পুরোপুরি ব্যবসা-বান্ধব এমনটি বলেনি তারা। তাদের মতে, বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় ব্যবসায়িক কেন্দে পরিণত করতে নীতি-নির্ধারকদের কয়েকটি ক্ষেত্রে নজর দেয়া উচিত। জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে স্ক্যান্ডিনেভিয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ব্যবসায়িক ক্ষেত্র হচ্ছে টেলিযোগাযোগ ও আইটি/আইটিইএস (৩২ শতাংশ উত্তরদাতার মতে) এবং ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা আরএমজি/টেক্সটাইলের পক্ষে মত দিয়েছেন। জরিপে আরো বলা হয়েছে, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো সুবিধা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। প্রায় ৬৬ শতাংশ উত্তরদাতা অপর্যাপ্ত বিদ্যুত্ সরবরাহকে প্রধান সীমাবদ্ধতা বলে মনে করছে। অন্যদিকে ৬১ শতাংশ বিশুদ্ধ পানি ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন। এছাড়া অপর্যাপ্ত ভূমি ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ের ঘাটতির কারণে কোম্পানিগুলোর মধ্যে অসন্তুষ্টি রয়েছে বলে জরিপটি থেকে জানা গেছে। জরিপের ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্য গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে এনসিসিআই “বাংলাদেশে সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ: স্ক্যান্ডিনেভিয় ব্যবসায়িক প্রেক্ষিত” শিরোনামে একটি আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এইচ.ই. এনেলিলিনদাল কেনি ও ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের-আইএফসি এসইডিএফ বিভাগের প্রধান জন মেকিনজ।