ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে করা হচ্ছে তার বহি:প্রকাশ ঘটাতে ইরানের সদিচ্ছার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। সোমবার রাতে দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনে একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে বক্তৃতাদানকালে একথা বলেন কেরি। এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা টেলিফোনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিইয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ইরান ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা করেন। হোয়াইট হাউজ সূত্রে এ খবর জানানো হয়েছে। —খবর সিনহুয়ার।
জানা যায়, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম এমন অস্ত্রের বিস্তার রোধে সহায়তা করার লক্ষ্যে এ তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির প্রশাসন শান্তিপূর্ণভাবে তাদের পরমাণু কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর ইরান শান্তিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে ইচ্ছুক কি না সেটাই পরীক্ষা করে নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রেসিডেন্ট ওবামা আমাকে দিয়েছেন। কেরি বলেন, কাজের মধ্য দিয়েই দেশটির সদিচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে। কেননা কথা নয় কাজই মুখ্য ও গ্রহণযোগ্য। এছাড়া বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্র হ্রাসকরণে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও কংগ্রেস একযোগে কাজ করে যাওয়ারও আহ্বান জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি তদন্তের বিষয়ে সোমবার থেকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তিসংস্থা (আইএইএ) ও দেশটির মধ্যস্থতাকারীদের ভেতর আলোচনা শুরু হয়েছে। এর ফলে দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় আন্তর্জাতিক তদন্তের একটি সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ওদিকে তেহরানের এই বিতর্কিত পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মত অর্থাত্ মঙ্গলবার পর্যন্ত আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউজের দেয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে ইরান, ইসরাইল ও ফিলিস্তিন বিষয়ে বিভিন্ন অগ্রগতি এবং অন্যান্য আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন এ দুই নেতা। এতে আরো বলা হয়, নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের গভীর সম্পর্ক যাতে অব্যাহত থাকে সে বিষয়ে একমত হন তারা। এর আগে বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে এক কৌশলগত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় তারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র শক্তিধর দেশ হওয়া থেকে বিরত রাখা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তাদের সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
