অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩ অনুষ্ঠিত

২০২০ সালে আইসিটি বাজারের ৪০% এশিয়ার দখলে আনার প্রত্যয়

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:১০
তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন, তিনি হলে এশিয়ান-ওশেনিয়ান কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (অ্যাসোসিও)-এর চেয়ারম্যান আব্দুল্লাই এইচ. কাফি। অ্যাসোসিও ছাড়াও ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের মতো বহু আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি। এশিয়া মহাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন অ্যাসোসিও’র ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে থাইল্যান্ডে আয়োজিত অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩ অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি মোজাহেদুল ইসলামের সাথে উঠে এসেছে সেই আয়োজনের কথা। থাইল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর, ব্যাংককের কুইন সিরিকিত জাতীয় কনভেনশন সেন্টারে। অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটের পাশাপাশি এই আয়োজনে চলে সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়া ২০১৩। এ বছর অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব থাই আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি (এটিসিআই), সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন এজেন্সি (SIPA) এবং থাইল্যাণ্ডের আইসিটি মন্ত্রণালয়। ২০টি দেশ থেকে প্রায় ৫০০ প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে। তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে এশিয়ার আইসিটি সেক্টরের সম্ভাবনা, সমস্যা, ভবিষ্যত্ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার, আলোচনা সভা, বিজনেস ম্যাচিংয়ের আয়োজন করা হয়। অ্যাসোসিও সম্মেলনের নানা আয়োজন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি প্রমোশন এজেন্সি (SIPA)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুপাচাই ত্যাং-অং-শান, অ্যাসোসিয়েশন অব থাই আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি (এটিসিআই)-এর প্রেসিডেন্ট আদিরাক পাতিতাস এবং অ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফি স্বাগত বক্তৃতা প্রদান করেন। স্বাগত বক্তব্যে কাফি বলেন, ‘সারা বিশ্বের আইসিটি সেক্টরের মাত্র ২৬% এশিয়ার দখলে অথচ বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি বসবাস করেন মহাদেশে। তাই আগামী ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের আইসিটি সেক্টরের অন্তত ৪০% এশিয়ার দখলে নিয়ে আসার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’ তবে এ জন্য এশিয়ার দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে উদ্ভাবনের দিকে এগুতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন থাইল্যান্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী গ্রুপ ক্যাপ্টেন আনুদিত নাকর্নথাপ। সম্মেলনে থাইল্যান্ডের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী গ্রুপ ক্যাপ্টেন আনুডিথ নাকর্নথাপকে অ্যাসোসিও আইসিটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় থাইল্যন্ডের আইসিটি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য। ‘স্মার্ট থাইল্যান্ড’ গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে যাওয়া নাকর্নথাপ থাইল্যান্ডের প্রতিটি শিশুর হাতে ট্যাবলেট পিসি তুলে দেওয়া ছাড়াও ২০২০ সাল নাগাদ প্রায় ৮০০ ধরনের সরকারি সেবা ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। নাকর্নথাপের সাথে সাথে ইনফোসিস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা এবং চেয়ারম্যান এনআর নারায়ণ মূর্তিকেও ভারত ও এশিয়ার আইসিটি সেক্টরে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে সন্মাননা প্রদান করা হয়। ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হংকংয়ের আইএসআইএ এক বিশেষ সংবর্ধনার আয়োজন করে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফিসহ অনেকে। এ সংবর্ধনায় অ্যাসোসিও’র চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ এইচ কাফি বলেন, ‘হংকংয়ের আইসিটি সেক্টর শুধু এশিয়া নয় বরং সারা পৃথিবীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই অ্যাসোসিও’র অন্যান্য দেশগুলোর হংকংয়ের কাছে অনেক কিছু শেখার আছে। এ বছরের মার্চ নাগাদ হংকংয়ে মোবাইল সার্ভিস পেনিট্রেশনের হার ছিল ২২৮% যা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। হংকং এখন পৃথিবীর দ্রুততম ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি।’ অ্যাসোসিও’র দেশগুলোর দিকে হংকংয়ের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অ্যাসোসিও’র ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাসোসিও’র ৩০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন। ১৯৮৪ সালে মাত্র পাঁচ সদস্য নিয়ে অ্যাসোসিও যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে ২০টিরও বেশি দেশের ১০ হাজারেরও বেশি আইসিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে এই সংগঠন। ৩০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২৬ সেপ্টেম্বর ব্যাংককে গালা ডিনারের আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিওতে অবদান রাখার জন্যে অ্যাসোসিও সদস্য, ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অ্যাসোসিও ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। তিনজন ব্যক্তিকে তাদের অসামান্য অবদানের জন্যে ‘অ্যাসোসিও আউটস্ট্যান্ডিং অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এ সময়ে ১২ জন ব্যক্তিকে ‘অ্যাসোসিও স্পেশাল কন্ট্রিবিউশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়, যার মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের মোস্তাফা জব্বার। এ ছাড়া ‘অ্যাসোসিও চেয়ারম্যান’স অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং সাপোর্ট’ এবং SIPA-কে ‘অ্যাসোসিও স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ও প্রদান করা হয় এ সময়। সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়া ২০১৩ সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়া ২০১৩তে দেশি-বিদেশি তিন শতাধিক আইসিটি প্রতিষ্ঠান এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছে। পণ্য এবং সেবা প্রদর্শনী ছাড়াও সফটওয়্যার এক্সপো এশিয়াতে ছিল কনফারেন্স, আলোচনা সভা, নেটওয়ার্কিং সেশন এবং বিজনেস ম্যাচমেকিং। অ্যাসোসিও সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৮ জনের একটি দল অংশ নেয়। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)-এর নেতৃত্বে ছয়টি কোম্পানির স্টলও ছিল। অ্যাসোসিও স্মারকগ্রন্থ অ্যাসোসিও তাদের ৩০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে একটি স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করে। এই স্মারকগ্রন্থে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের আইসিটি সেক্টরের সাম্প্রতিকতম তথ্য, পরিসংখ্যান, ছবি এবং বেশকিছু প্রবন্ধ রয়েছে। এই স্মারক গ্রন্থটি প্রকাশের নেতৃত্ব দেন আব্দুল্লাহ এইচ কাফি। বইটির সকলের কাছেই সমাদৃত হয়। আব্দুল্লাহ এইচ. কাফি চেয়ারম্যান, অ্যাসোসিও আমি সুদীর্ঘ দেড় দশক ধরে অ্যাসোসিও’র সাথে যুক্ত এবং এ দেড় দশকে প্রায় সবগুলো আইসিটি সামিটে অংশগ্রহণ করেছি। এ কথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে এটিসিআই কর্তৃক আয়োজিত অ্যাসোসিও আইসিটি সামিট ২০১৩ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এবং আমাদের সকলের জন্যে একটি অত্যন্ত স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। সারা পৃথিবীতে তথ্যপ্রযুক্তিতে সবাই এগিয়ে চলেছে। আমরা নিজেদের ভারত-চীনের সাথে তুলনা না করে শ্রীলংকা-ভিয়েতনামের সাথে তুলনা করলেই দেখব আমরা কতটা পিছিয়ে আছি। আমরা বর্তমানে সফটওয়্যার রপ্তানি করছি ১০০ মিলিয়ন ডলারের। সেখানে শ্রীলংকা রপ্তানি করছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার আর ভিয়েতনাম ১ হাজার মিলিয়ন ডলার। থাইল্যান্ড সরকার ইতোমধ্যে চালু করেছে ‘ওয়ান ল্যাপটপ পার চাইল্ড’ প্রকল্প। এর আওতায় এ বছর ১৭ লাখ ট্যাবলেট পিসি প্রদান করা হয়েছে। আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যেমন কম, তেমন সংযোগও ধীরগতির। আমার কথা হচ্ছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্রদান করা উচিত। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে হলে প্রয়োজন ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রণোদনা দেওয়া। দেশে এখন আর বড় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না।