ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতাধীন লালবাগ, বাসাবো, মানিকনগর, বংশাল, জুরাইন এবং নারায়ণগঞ্জ পূর্ব এই ৬টি কাস্টমার সার্ভিস ডিভিশনে পাইলট আকারে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারিং চালুর লক্ষ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় গতকাল এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০টি প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুতের শতভাগ রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি গ্রাহক সেবার মানের উন্নয়ন হবে। জুলাই, ২০১৩ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৯১ কোটি টাকা জার্মানির নিকট থেকে ঋণ সহায়তা হিসেবে পাওয়া যাবে।
এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষার সংস্কার ও গুণগতমান উন্নয়নে এক হাজার ৬৫৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। অনুমোদিত ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ প্রকল্পের কার্যক্রম বর্তমান সরকারের ১০ বছর মেয়াদি জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পে মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়ন, কারিকুলাম পরিমার্জন, অবকাঠামো উন্নয়ন, আইসিটি বেইজড টিচিং ও লার্নিং প্রোগ্রাম, দরিদ্র ও অনগ্রসরদের বৃত্তির ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া প্রকল্পে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসকদের জন্য স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। জানুয়ারি ২০১৪ থেকে চার বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য এডিবি’র (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) কাছ থেকে ৭২০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে।
গতকালের সভায় মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। এতে প্রায় চার হাজার ২৫৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। প্রকল্প ব্যয়ের তিন হাজার ১২৩ কোটি টাকা জিওবি খাত থেকে এবং এক হাজার ১৩০ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য থেকে মেটানো হবে।
সভায় অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্প হল, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিএএফএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, যশোর প্রকল্প, ৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে তথ্য ভবন নির্মাণ প্রকল্প, ১৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা পর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য কৃষক প্রশিক্ষণ প্রকল্প, ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চাষী পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উত্পাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্প, ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে যশোর জেলাধীন ভবদহ এবং তত্সংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প, ৩৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ১.০৫ লাখ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন খাদ্য গুদাম নির্মাণ প্রকল্প, ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০টি ব্রডগেজ (বিজি) ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ প্রকল্প, ২৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ৭৮টি (সংশোধিত-৮২টি) উপজেলা সদর/স্থান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন প্রকল্প, ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নওগাঁ-বদলগাজী-পত্নীতলা সড়ক উন্নয়ন এবং মহাদেবপুর ও বদলগাজী ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্প, ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ভূগর্ভস্ত পানি অনুসন্ধান, উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রকল্প, ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলাধীন কলাপাড়া-বালিয়াতলী-গঙ্গামতি সড়কে বড় বালিয়াতলী আন্ধারমানিক নদীতে ৬৬৮ মি. দীর্ঘ আরসিসি ডেকযুক্ত সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ২৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা জেলার ভুতিয়ার বিল এবং বর্ণাল-সলিমপুর-কোলাবাসুখালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্প এবং ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪-লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প।
