একবছরে তিন পণ্যে আয় ২৩ মিলিয়ন ডলার

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪৮
গত অর্থ বছরে তিন ধরনের পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছে প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। অপরদিকে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ বেশি। সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রশ্নোত্তর পর্বে বাণিজ্য মন্ত্রী জিএম কাদের সংসদকে এসব তথ্য জানান। রাশেদা বেগম হীরার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, গত অর্থ বছরে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত দ্রব্য ও পাটজাত দ্রব্য রফতানি করে আয় হয়েছে ২২ হাজার ৭০৭ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সবেচেয়ে বেশি আয় হয়েছে ২১ হাজার ৫১৫ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন ডলার পোশাক খাত থেকে। দ্বিতীয় অবস্থানে পাটজাত দ্রব্য থেকে আয় হয়েছে এক হাজার ৩০ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার। আর চামড়াজাত দ্রব্য থেকে আয় হয়েছে ১৬১ দশমিক ৬২ মিলিয় ডলার। একই বিষয়ে গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মূল্যের পণ্য রফতানি হয়েছে। আর একই অর্থ বছরে বেশি মূল্যের পণ্য আমদানি করা হয়েছে চীন থেকে। ওষুধ রফতানি :বেগম নাসরিন জাহান, রত্নার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের ৯৩টি দেশে ওষুধ রফতানি করা হয়। উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে শ্রীলংকা, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, পানামা, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, বুলগেরিয়া, যুক্তরাজ্য, ঘানা, কেনিয়া, লিবিয়া, নেপাল, স্লোভেনিয়া, অষ্ট্রিয়া এবং ব্রাজিল। দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় ত্রাণ বিতরণ :আমিনা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, বর্তমান সরকারের সময় দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় তিনটি খাতে ২০৩ কোটি ৭১ লাখ এক হাজার ৭৪৭ টাকা ত্রাণ হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গৃহনির্মাণ মঞ্জুরী খাতে ১৪৫ কোটি ৩১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। জিআর ক্যাশ ৪৮ কোটি ৪১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৪৭ এবং কম্বল কেনা বাবদ ৯ কোটি ৯৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এছাড়া জিআর চাল ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৯৬ টন, ঢেউটিন ১ লাখ ৪ হাজার ৩৯৬ বান্ডিল এবং ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৫০ পিস কম্বল। চাল-গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা :একেএম রহমতুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে খাদ্য মন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক জানান, চলতি অর্থ বছরে বাজেটে অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্যশস্য সংগ্রহের লক্ষ্যে চাল সাড়ে ১৪ লাখ এবং গম দেড় লাখ টন নির্ধারণ করা হয়েছে। মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দীন প্রামাণিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে যে সকল খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়েছে তাতে ব্যয় হয় ৭৬০ কোটি ৩৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। নির্মিত গুদামে ৩ দশমিক ২৯ লাখ টন খাদ্য মজুদ করা যাবে। বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি ৮৫৭টি :বেগম শাহিদা তারেক দীপ্তির প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, দেশে বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ৮৫৭টি। বিদেশের কারাগারে বন্দী :বেগম সুলতানা বুলবুলের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে ২১টি দেশের কারাগারে চার হাজার ৫৪৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দী রয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশি কর্মীদের মুক্ত করার ব্যাপারে সরকার সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস/ হাইকমিশনের শ্রম উইং-এর মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে আসছে। বহির্বিশ্বে আড়াই লাখ নারীর কর্মসংস্থান :পিনু খানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পুরুষের পাশাপাশি বহির্বিশ্বেও গৃহস্থালী, টেস্কটাইল ও গার্মেন্টস কাজে অভিজ্ঞ নারী শ্রমিকের চাহিদা রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে নারী শ্রমিক প্রেরণ করা শুরু হয়। তবে ২০০১ থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত বিদেশে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৭ বাংলাদেশি নারীর কর্মস্থান হয়েছে। এর মধ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯ জন নারীর কর্মসংস্থান হয়। রেমিটেন্স বেড়েছে : সাধন চন্দ্র মজুমদারের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিগত চারদলীয় জোট সরকারের চেয়ে বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে বৈদেশিক রেমিটেন্স বেড়েছে ১৮ হাজার ১৮৯ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।