মুগ্ধ ‘গুরু’ সাকলায়েন

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৮
বাংলাদেশে তখন মাঝরাত, ইংল্যান্ডে কেবল বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে। বাংলাদেশ থেকে ফোন পেয়ে অনেক কালের হারানো বন্ধু ফিরে পাওয়া উচ্ছাস নিয়ে খাঁটি বাংলায় বলে উঠলেন, ‘কেমন আছেন? দলের খবর ভালো তো?’ বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও একেবারে বাংলা ভাষায় বাংলাদেশ দলের খবর জানতে চাওয়া এই মানুষটি পাকিস্তানের কিংবদন্তী স্পিনার সাকলায়েন মুশতাক। সাবেক এই গ্রেটের এখন অবশ্য একটা বড় পরিচয়—তিনি বাংলাদেশ দলের উপদেষ্টা বোলিং কোচ। ফলে বাংলাদেশ দল নিয়ে তার আগ্রহটা ব্যাখ্যাতীত নয়। তবে সাকিব আল হাসান অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এটা শুনে যেভাবে শিউরে উঠলেন, পেশাদার দুনিয়ায় তার ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন। উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন, ‘সাকিব আমার খুব প্রিয় ক্রিকেটার। শুধু ওর কোচ বলে বলছি না, আমাকে ওর ভক্ত বলতে পারেন। ওকে কাল ম্যাচে না পাওয়াটা আমাদের জন্য বড় ধাক্কা হবে।’ হ্যাঁ, সাকলায়েন এখন বাংলাদেশ দলকে ‘আমাদের দল’ বলতে পছন্দ করেন। সেই পছন্দ কতোটা, সেটা বোঝা গেল এরপর এক এক করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ নিয়ে যখন কথা বলতে শুরু করলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে পাকিস্তান হয়ে ইংল্যান্ড; গত কিছুদিন হয় একেবারে আক্ষরিক অর্থেই দৌড়ের ওপর আছেন সাকলায়েন। সেই দৌড় অবশ্য তাকে শিষ্যদের খেলা দেখা থেকে বিরত রাখতে পারছে না। কাজের ফাঁকে ফাঁকেই চট্টগ্রাম ও মিরপুর টেস্টে মুশফিকুরদের পারফরম্যান্স দেখেছেন। দুই টেস্ট দেখে নিজের মতো করে কিছু মূল্যায়নও করেছেন, ‘এই দু’ টেস্টে বাংলাদেশ অন্তত এটা প্রমাণ করেছে যে, তারা যে কোনো ফরম্যাটে এখন যে কোনো দলের সঙ্গে লড়াই করার যোগ্যতা রাখে। দলের সিনিয়র খেলোয়াড়রা তো আছেই, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, তরুণরাও দারুণভাবে প্রয়োজনে সাড়া দিচ্ছে।’ এই সাড়া দেয়া তরুণদের মধ্যে স্বভাবতই তার সবচেয়ে চোখে ধরছে মুমিনুল হকের পারফরম্যান্স। খুবই উচ্ছসিত গলায় ‘সাকি’ বললেন, ‘মোমিনুল এক কথায় অসাধারণ। শুধু দুটো সেঞ্চুরি করেছে তা নয়, প্রতিটা ইনিংসে সে যে পরিণত ব্যাটিং করেছে, সেটা বিস্ময়কর। সত্যিই আমি ওর ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি।’ তবে বোলিং কিংবদন্তী সাকলায়েন কী আর ব্যাটসম্যানেই মুগ্ধ হয়ে আটকে থাকতে পারেন! স্বভাবতই তার শিষ্য স্পিনাররা কী করেছে, সেটা নিয়েই ‘দুসরা’ বোলিংয়ের এই জনকের। আর শিষ্যদের মধ্যে প্রথমেই তার আবেগটা পুরো দখল করে নিয়েছেন যেন সোহাগ গাজী। সোহাগ নিজে তার বর্তমান রূপের জন্য মূল কৃতিত্বটা সবসময় সাকলায়েনকে দিয়ে থাকেন। কিন্তু এবার সোহাগ তার ‘গুরু’ও ছাপিয়ে গেলেন; সাকলায়েন যে টেস্ট হ্যাটট্রিক না নিয়েই ক্যারিয়ার শেষ করেছেন, এখন সেই সম্পদের মালিক সোহাগ। সেটা মনে করিয়ে দিয়েই সাকলায়েন বলছেন, ‘ও যেটা করেছে, তার প্রশংসা করে বোঝানো যাবে না। ওর পারফরম্যান্সই ওকে ইতিহাসে নিয়ে গেছে। হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেট আবার সেঞ্চুরি! অবিশ্বাস্য বোলিং-ব্যাটিং করেছে গাজী। আশা করি, ও এটা ধরে রাখবে।’ এই আশাটা সাকলায়েনের পুরো দলের জন্যই। সেই সঙ্গে সাকিবের জন্য বিশেষ শুভ কামনা জানিয়ে বলে দিলেন, এখন শিষ্যদের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন, ‘আমার শুভ কামনা ও ভালোবাসা সবসময় বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকে। আমি জানুয়ারিতে আশা করি, আবার ওদের সঙ্গে কাজ করবো। আর আপাতত আশা করি, সাকিব দ্রুত সেরে উঠবে এবং বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজে ভালো একটা ফল নিয়ে শেষ করতে পারবে।’ সেটা শুধু সাকলায়েনের নয়, বাংলাদেশেরই প্রত্যাশা বটে।