থ্রি কমরেডস

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ১৮:১১
বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে সম্প্রতি শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘থ্রি কমরেডস’। কমেডি ধাঁচের গল্প ‘থ্রি কমরেডস’ নাটকটির গল্প গড়ে উঠেছে একটি মেস বাড়িকে কেন্দ্র করে। শফিকুর রহমান শান্তুনুর রচনায় এবং দীপু হাজরার পরিচালনায় এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন হাসান মাসুদ, শাহরিয়ার নাজিম জয়, আদনান ফারুক হিল্লে¬াল, নওশীন, অহনা, সীমানা, শামস সুমন, গোলাম ফরিদা ছন্দা, মাসুদ রানা মিঠু, সুমনা সোমা, ড. ইনামুল হক, কচি খন্দকার, তন্দ্রা, সিরাজ হায়দার, তুষার মাহমুদ, সুজাত শিমুল, মরিয়ম সরকারসহ আরও অনেকে। নাটকের গল্পে দেখা যাবে, গলি ঘুপচির শহর ঢাকা। তেমনই এক গলির শেষ মাথার শেষ বাড়ির গল্প থ্রি কমরেডস। মেস বাড়ির আদলে নির্মিত এই দোতলা বাড়িতে থাকে কয়েকটি কম আয়ের পরিবার ও কয়েকজন ব্যাচেলর। বাড়ির মালিকও থাকে এদের সাথে। সারাদিন নানা টুকিটাকি বিষয় নিয়ে এই বিচিত্র মানুষদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ লেগে আছে। আবার কারও দুঃসময়ে কেউ এগিয়ে আসতে কখনও দ্বিধা করে না। এখানে থাকে আমাদের গল্পের তিন নায়ক বা তিন বন্ধু জিয়া, হেলাল ও অপু। জিয়া ট্যাক্সি ড্রাইভার। তার প্রিয় নায়ক মান্না। তার ঘরে মান্নার বিভিন্ন পোস্টার সাঁটানো রয়েছে। পোস্টারের সাথে সে মাঝেমধ্যে একা একা কথাও বলে। তার ট্যাক্সিতে যখন সুন্দরী যুবতী মেয়েরা ওঠে সে তখন নিজেকে মনে মনে মান্নার আসনে বসিয়ে নেয়। মান্নার স্টাইলে কথা বলে। কল্পনায় সেই মেয়েকে নিয়ে গানও করে ফেলে। তবে তার একটা বিশেষ পছন্দের মেয়েও আছে যাকে সে রোজ কলেজে পৌঁছে দিয়ে আসে। সেই মেয়েটি হচ্ছে এ বাড়ির মালিকের ছোট মেয়ে। তাকে পটনোর জন্য সে একের পর এক মজার কাণ্ড করে কিন্তু সুবিধা করে উঠতে পারে না। হেলাল সব কাজের কাজি। কথায় আছে, যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখিও তাই—সে এই নীতিতে বিশ্বাসী। যখন যে কাজ হাতের কাছে পায় সেটাই করে ফেলে। কখনো সিনেমার টিকেট ব্ল্যাক করে। কখনও কোনো হকার অসুস্থ থাকলে তার হয়ে পেপার বিলি করে আসে। আর তার সোর্স অব ইনকাম? সেটা মাছের তেলে মাছ ভাজার মতো। ফটকাবাজি। যেমন এই বাড়ির কেউ হয়তো কাজের বুয়ার সাথে প্রেম করছে। সে মোবাইলে ছবি তুলে তার বৌকে দেখাবার ভয় দেখিয়ে ছোটখাটো ব্ল¬্যাক মেইল করে। এমন ছোটখাটো ব্ল¬্যাকমেইল করতে গিয়ে সে বড় বিপদে জড়িয়ে যায়। অপু মফস্বল থেকে ভার্সিটিতে পড়তে আসা যুবক। পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে নিজের খরচ চালায়। থিয়েটার করে। থিয়েটারে তার চেয়ে এক বছর সিনিয়র এক মেয়েকে সে মনে মনে পছন্দ করে। কিন্তু বলতে পারে না। ওই মেয়েটি আবার উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও সুযোগ সন্ধানী। সে থিয়েটার দলের প্রধানের সাথে যেমন ভাব করে তেমনি এক টিভি মেগা সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে থিয়েটার ছাড়তে দ্বিধা করে না। অপুর চোখের সামনে মেয়েটি একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি টপকাতে থাকে। সেই সাফল্যের হাতছানি অপুকেও ডাকে। কিন্তু অপু যেন সাড়া দিতে পারে না। বাড়তে থাকে তার জটিলতা। এই তিন বন্ধু দিনে তিন রকম কাজে ব্যস্ত থাকলেও রাতের আড্ডাটা শুধু তাদের। সেই আড্ডার হাসি মজার মধ্যে উঠে আসে তাদের স্বপ্ন ও স্বপ্ন ভঙ্গের কথা। এদের পাশাপশি এই বাড়ির মালিকের বড় মেয়ে ও তার ঘরজামাই দুটো মজার চরিত্র। ঘরের ভেতরে ঘরজামাই নিষ্পেশিত বেড়াল হলেও বাইরে ডাকাবুকো বাঘ। অন্যদিকে তার স্ত্রী ঘরে খ্যাপা বাঘিনী হলেও বাইরে বড্ড লাজুক। শত অনটন, প্রতিকূলতার মধ্যেও এদের জীবনে টিকে থাকার সংগ্রাম একদিকে যেমন অনুপ্রাণিত করে অন্যদিকে তাদের ছোট ছোট ঘটনার হাসি-তামাশা জীবনকে কীভাবে উপভোগ্য করে তোলে তাও দেখতে পাই। নাটক প্রসঙ্গে পরিচালক বলেন, ‘এই নাটক দেখে দর্শকরা শুধু বিনোদন পাবেন, তা নয়। এর মধ্যে আছে বেশ কিছু মেসেজ। আশা করছি নাটকটি সবার ভালো লাগবে।’ ধারাবাহিক নাটক ‘থ্রি কমরেডস’ প্রচার হয় প্রতি রবি এবং সোমবার রাত ০৮টা ২০ মিনিটে।