রংপুর-৪ আসনে বিএনপি জাপায় কোন্দল, আওয়ামী লীগে হতাশা

আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৪৮
৯ ইউনিয়নে ২ লাখ ২ হাজার ২৭৬ ভোটারের পীরগাছা ও ৬ ইউনিয়নে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬ ভোটারের কাউনিয়া উপজেলা নিয়ে রংপুর ৪ আসন। এই আসনে বিএনপির শিল্পপতি রহিম উদ্দিন ভরসা তার ভাই জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা এবং বিজিএমইএ-এর সাবেক সভাপতি শিল্পপতি টিপু মুন্সি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনীতিক। ভরসা ভ্রাতৃদ্বয়ের রসাত্মক বাকযুদ্ধ ও শিল্পপতি টিপু মুন্সির নির্বাচনী কৌশলের জন্য ভোটের সময় আসনটি থাকে খুবই আলোচনা মুখর। গত ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসা, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তারই বড় ভাই রহিম উদ্দিন ভরসা এবং আওয়ামী লীগের টিপু মুন্সি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই ভাইকে রাজনৈতিক ফাঁকিতে ফেলে ১ লাখ ২০ হাজার ৪শ’ ৫১ ভোট পেয়ে জয়ী হন টিপু মুন্সি। করিম উদ্দিন ভরসা ১ লাখ ৫ হাজার ১শ’ ৯২ এবং রহিম উদ্দিন ভরসা পান ৬৪ হাজার ৮শ’ ৯৪ ভোট। এই আসনে প্রতিশ্রুত উন্নয়ন করতে না পারলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া দুরূহ। এরই ধারাবাহিকতায় আসনটি জাপার দখল থেকে ছিটকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী টিপু মুন্সির হস্তগত হয়েছে। সাড়ে ৪ বছরের হতাশা খুঁজে ফিরছে নতুন কাউকে। এ সুযোগ হারাগাছের ব্যবসায়ী ও রংপুর যুবলীগের আহ্বায়ক মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল কপালে জুটে যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিএনপির রহিম উদ্দিন ভরসার বিকল্প হিসেবে তার পুত্র এমদাদুল হক ভরসাকে চাচ্ছে কাউনিয়া বিএনপি। অপরদিকে পীরগাছা বিএনপি চাচ্ছে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক চেয়ারম্যান শাহেদ কামাল পাটোয়ারীকে। এই দুয়ের বাইরে কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে আছেন। তিনের মধ্যে কে পাবেন বিএনপির টিকিট তা সময় ছাড়া আর কেউবা বলতে পারে! জাতীয় পার্টির করিম উদ্দিন ভরসার ভোট ছিনিয়ে নিতে মাঠে আছেন পীরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু শাহ মো. মাহবুবার রহমান। জামায়াতের টিকিটে এটিএম আজম খান প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ মনে করছে ক্ষমতাসীন দলের এমপির জনপ্রিয়তা হ্রাস, বিএনপি নেতৃত্ব সঙ্কট কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জয়ের মালা পরতেও পারে।