মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান জেমস ক্ল্যাপার দেশটির গোয়েন্দা নীতির পক্ষে সাফাই গাইলেন। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জেমস ক্ল্যাপার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের ফোনে আড়িপাতার ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের বলেন, বিদেশি নেতাদের গোপন অভিপ্রায় বের করে আনাটাই গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান লক্ষ্য। আর এ ধরনের কর্মপ্রচেষ্টা বহুদিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধান নীতি হিসেবে চলে আসছে।
এদিকে স্পেনে কোটি কোটি নাগরিকের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন দেশটির সরকারি কৌসুলি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) একমাসে স্পেনের ছয় কোটি ফোনকলের ওপর গোপনে নজরদারি করেছে বলে সোমবার দেশটির ‘এল পাইস’ এবং ‘এল মুন্দো’ পত্রিকা খবর প্রকাশ করে। এরপরই স্পেনের এটর্নি জেনারেল এদুয়ার্দো টোরেস-ডুলস বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেন বলে তার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
স্পেনের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তির প্রতিবাদে সোমবার মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব করে মাদ্রিদ। এর আগে ফ্রান্স এবং জার্মানিতেও একই ধরনের মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তির খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটন ও এর ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরল কূটনৈতিক টানাপড়েন দেখা দিয়েছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসে ম্যানুয়েল গার্সিয়া-মারগাল্লো বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির খবর সত্য হলে দুই দেশের মধ্যে “আস্থার পরিবেশ নষ্ট হবে”। স্পেনের এল পাইস এবং এল মুন্দো পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ১০ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত এনএসএ স্পেনের নাগরিকদের কয়েক মিলিয়ন ফোনকল, ক্ষুদেবার্তা এবং ই-মেইলের ওপর নজর রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাগিরির তথ্য ফাঁস করে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনের সরবরাহ করা নথির ওপর ভিত্তি করেই তারা এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে।
ক্ল্যাপার বলেন, যেসব তথ্য আমরা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করি এর মধ্যে নেতাদের অভিপ্রায় জানাটা হল আমাদের প্রধান কাজ। মিত্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপর গোয়েন্দাগিরি চালানো একটি নিয়মিত কাজ। তিনি বলেন, মিত্রদেশগুলোও মার্কিন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নিয়মিত গুপ্তচরবৃত্তি চালিয়ে থাকে।
এদিকে, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার (এনএসএ) পরিচালক কেইথ অ্যালেক্সান্ডার ফ্রান্স, স্পেন এবং ইটালিতে মার্কিন গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে তাকে পুরোপুরি মিথ্যা বলেছেন।
