৮২ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধার ছোটগল্পের জন্য নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি নিঃসন্দেহে ২০১৩ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। ঐতিহাসিক এই জন্য যে, শুধু ছোটগল্পের জন্য বছর কয় আগে ব্রিটেনের লেখিকা ডোরিস লেসিং নোবেল পেয়েছিলেন। তখন থেকে বছর সাত-আট ধরে মৃতপ্রায় শিল্পের এই শাখাটির পুনর্জীবন ঘটে। আর এবারের কানাডার অ্যালিস মুনরোর ছোটগল্পে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি ছোটগল্পের জন্য এক বিশাল বিজয়, এক নতুন পৃথিবীর উন্মোচন। নোবেল কর্তৃপক্ষ, অ্যালিস মুনরোকে সম্মাননা দেখানোর ভেতর দিয়ে শিল্পের এই হারিয়ে যাওয়া শাখাটিকে সম্মান দেখালেন, অনুপ্রাণিত করলেন তার দেশের ও বাইরের দেশের ছোট গল্পকারদের। প্রতিদিনের খুব সাদামাটা ঘটনা, খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন-যাপন নিয়ে যে অসাধারণ গল্প লেখা যেতে পারে—সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রমাণ দিলেন কানাডিয়ান ছোটগল্পকার অ্যালিস মুনরো।
ছেলেবেলা থেকেই তিনি গল্প লেখেন। তখন থেকেই চেয়েছিলেন গল্পকার হতে, এবং এই একটা স্বপ্ন সারাজীবন লালন করেছেন। তিনি ছিলেন ছোটগল্পের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ। ছোটগল্পই ছিল তাঁর একমাত্র ধ্যান, একমাত্র প্রেম, একমাত্র স্বপ্ন।
সাম্প্রতিক এক সাক্ষাত্কারে তিনি বলেছেন : I want to tell a story, in a traditional way. তিনি তাঁর গল্পে কোনো নিরীক্ষা করেননি, না ভাষায়, না ফর্মে, না বিষয়বস্তুতে, তারপরও গল্পে যোগ হয়েছে এক নতুন মাত্রা। উদাহরণস্বরূপ যদি আমরা ‘অ্যা রেড ড্রেস’ গল্পটি ব্যবচ্ছেদ করি, তা হলে দেখতে পাব, খুব সহজ-সরল ভঙ্গি ও ভাষায় গল্পটি শুরু হয়েছে। মেদহীন, খটখটে, সাদামাটা গদ্য। ‘My Mother was preparing a Dress’. কোনো শব্দ বাহুল্যতা নেই, বাক্য নেই। সাদামাটা, সরাসরি, অনেকটা মুখের ভাষার কাছাকাছি। অনেকটা কাফকার ‘দ্য আউটসাইডার’ উপন্যাসের প্রথম বাক্য—My Mother Died Yesterday or Today, I don’t Remember’. কাফকায় দোদুল্যমানতা আছে, অনিশ্চয়তা আছে, একজন একুশ শতকের আধুনিক মানুষের যা থাকে, যেমনটি থাকে। কিন্তু অ্যালিস মুনরো কোনো তত্ত্ব বা ইজম দ্বারা তাড়িত নন। তাঁর জন্মভূমি কানাডার অন্টারিওতে বসবাসকারী নারীদের চরিত্র খুব গভীর অভিনিবেশে চিত্রণ করেছেন। তাঁর শেষতম গল্পগ্রন্থ ‘ডিয়ার লাইফ’ ২০১২ সালে প্রকাশিত হয়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে। একজন সমালোচক লিখেছেন, ‘অ্যালিস সম্ভবত বর্তমান সময়ের উল্লেখযোগ্য একজন গল্পকার।’ সমসাময়িক লেখকরাও একথা একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর সমসাময়িক কানাডিয়ান কথাশিল্পী অ্যাটউড তাঁর এক গল্পগ্রন্থের ভূমিকায় অ্যালিসকে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন, তাঁর গল্পের গঠনমূলক ব্যবচ্ছেদ করেছেন। অন্য এক কানাডিয়ান কথাশিল্পী মাইকেল ওনদাজেও তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
অ্যালিস মুনরো লিখেছেন, ‘আমার পরিকল্পনা ছিল খুব অল্পবয়স থেকে যে, আমি লেখক হব। তখন আমার বয়স মাত্র এগারো। তখন থেকেই আমি ভাবতাম—আমি কী লিখব, কেমন করে লিখব। এটাই ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ বিষয়, একমাত্র স্বপ্ন।’
যে সময়টাতে মুনরো লেখালেখি শুরু করেছিলেন সেই চল্লিশের দশকে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত পৃথিবী, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধও শুরু হয়ে গেছে ১৯৩৯-এ—এরকম একটি সময়ে হাতেগোনা গুটিকয় লেখক কানাডার অন্টারিওতে বসবাস করতেন, লেখাচর্চা করতেন। তাঁর বিষয় ছিল ইংরেজি সাহিত্য, পরবর্তী পর্যায়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক লেখকের সম্মান পেয়েছিলেন। তাঁর জীবন সাবলীলভাবে এগোয়নি, প্রেম-প্রণয় হয়েছে, বেশ কিছুদিন দাম্পত্য জীবন কেটেছে, তিনজন সন্তান জন্ম দিয়েছেন, লেখালেখির সাথে কোনো সমঝোতা করেননি। ছোটগল্পে নিবেদিতপ্রাণ এই কথাশিল্পী শুধুই ছোটগল্প নিয়ে থেকেছেন। মাঝখানে প্রথম বিয়ে, ভালোবাসার বিয়ে ভেঙে যায়, কিন্তু তাঁর হূদয়ের অফুরন্ত ভালোবাসার ফল্গুস্রোত নিঃশেষ হয়ে যায়নি তখনও। প্রথম যৌবনে যাঁকে ভালো লেগেছিল, কিন্তু বিয়ে হয়নি, তাঁকে ২২ বছর পর বিয়ে করলেন।
মুনরোর জীবনটাও গল্পের মতো। তিনি লিখেছেন, ‘যখন আমি গল্পলেখা শুরু করি, কানাডিয়ান লেখকরা ছিল ক্ষুদ্র একটি গোষ্ঠী, বিশ্ব খুববেশি একটা মনোযোগ দিত না। আর এখন কানাডিয়ান লেখকরা বহুল পঠিত, বিপুল জনপ্রিয় এবং বিশাল সম্মানের অধিকারী সারাবিশ্বে। আমি এবছর সাহিত্যে নোবেল পেয়ে খুব অভিভূত হয়েছি। নোবেল কর্তৃপক্ষ আমাকে পুরস্কারে ভূষিত করে, পক্ষান্তরে ছোটগল্পকেই সম্মানিত করেছে। আমি মনে করি, ছোটগল্প শিল্পমাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে আরও জনপ্রিয় একটি সাহিত্যধারা হিসেবে গড়ে উঠবে।’
ঠিকই মন্তব্য করেছেন মুনরো। মাঝখানে পরপর বেশ ক-বছর কবি ও কবিতার জন্য নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। উপন্যাসও পুরস্কার পায়। কিছুটা রাজনীতি ও পক্ষপাতিত্ব কাজ করেছিল তখন। এখন ছোটগল্পের প্রত্যাবর্তন বিশ্বের তাবত্ এলাকার ছোটগল্পকারদের আশার আলো দেখাতে পারছে, এটা কম গৌরবের কথা নয়। হারিয়ে যাওয়া ছোটগল্প আবার তার স্বভূমিতে ফিরে এসেছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকাও ছোটগল্পচর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, দ্য নিউ ইয়র্কার, দ্য আটলান্টিক, লন্ডন ম্যাগাজিন ইত্যাদি। যদিও এগুলো পরিপূর্ণভাবে সাহিত্যপত্রিকা নয়, কিন্তু এসব পত্রিকায় প্রতিসংখ্যায় একটি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক ছোটগল্পকারদের ছোটগল্প ছাপা হয়। লন্ডন ম্যাগাজিনই একমাত্র সাহিত্যপত্রিকা, যেখানে একাধিক গল্প, গল্প বিষয়ক প্রবন্ধ, বই সমালোচনার পাশাপাশি কবিতা ও প্রবন্ধ ছাপা হয়।
একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, এবছর খুব সম্ভাবনা ছিল জাপানের অভিবাসী লেখক হারুকি মুরাকামির নোবেলপ্রাপ্তির; তিনি ইংরেজিতে খুব দ্রুত এবং খুব ভালো অনুবাদকের আশির্বাদে সারাবিশ্বে বহুল পঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন; কিন্তু অ্যালিসও অপ্রত্যাশিত ছিলেন না। জেমস জয়েস কিংবা কবি ডব্লিউ বি ইয়েটস অথবা আলবেয়ার কাম্যুর মতো একটি বিশেষ অঞ্চল তিনি গল্পের অধিকাংশ পটভূমি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর জন্মশহর অন্টারিও তাঁর গল্পে ফিরে ফিরে এসেছে। আর এসেছে স্মৃতি, পেছনে ফেলে আসা দিনরাত্রি, খুব সাধারণ জীবন এবং খুব সাধারণ নারী। এসব তাঁর গল্পের অনুষঙ্গ, মাল-মসল্লা, তাঁর গল্পের চারণভূমি আর কুশীলব। অন্টারিওর গ্রামীণ সাধারণ মানুষ, এদেরকে তিনি আবার ‘সাব-অল্টার্ন’ বলতে নারাজ, তাঁর গল্পের জায়গা-জমি জুড়ে আছে। এদের জীবনে মূল্যবোধের সংঘাত আছে, সংগ্রাম আছে, এর মাঝে বেঁচে থাকারও স্বাদ আছে।
অন্যসব নৈরাজ্যবাদী আধুনিক লেখক, বিশেষ করে কাম্যু, কাফকায় যেরকম নেতিবাচক বিপর্যস্ত জীবনের আখ্যান দেখতে পাই, মুনরোতে তা নেই। তিনি জীবনের ইতিবাচক দিকটায় আলো ফেলতে ভালোবাসেন। তাঁর গল্পে নস্টালজিক ব্যাপার নেই, বুদ্ধদেবীয় স্মৃতিকাতরতা পাঠককে বিব্রত করে না। তাঁর গল্পে আছে এক ঝলক স্বস্তি ও প্রশান্তি। জীবনের নেতিবাচক দিকগুলো, যৌনতা, প্রেমহীনতা, নারী নির্যাতন ইত্যাদি জীবনের অংশ হিসেবে এসেছে। পাশ্চাত্যের ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতার ভেতর যে নগ্ন যৌনতা, অন্য এক নোবেল বিজয়ী জি এম কোয়েিজর লেখায়, বিশেষত ‘ডিসগ্রেইস’ উপন্যাসে আমরা
পাই, তা মুনরোতে নেই। পাশ্চাত্যের লেখিকা হয়েও তিনি ক্ষয়িষ্ণু সভ্যতার প্রতিনিধিত্ব করেননি। কট্টর বাস্তবতা থেকেও তিনি পালিয়ে বেড়াননি, জীবন যেরকম, ঠিক সেরকমটিও তিনি চিত্রিত করেননি, তিনি জীবনের গল্পে জীবনকে যুক্ত করে একটি নতুন মাত্রা দিতে চেষ্টা করেছেন।
অন্য অনেক সাম্প্রতিক কথাশিল্পী ও গল্পকারদের মতো জাদুবাস্তবতা, উত্তর-আধুনিকতা, মার্ক্সবাদ ইত্যাকার ভারী ভারী তত্ত্বকথা ও তাত্ত্বিক বিষয়বস্তু তাঁর গল্পকে ভারাক্রান্ত করে না। খুব সাধারণ পাঠকও তাঁর গল্প পাঠ করে অভিভূত হন।
পঞ্চাশের দশকে অর্থাত্ ১৯৫০ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ছাপা হয়। ১৯৭১ সালে ‘লাইভস অব গার্লস অ্যান্ড উইমেন’ প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়। তাঁর গল্পে মনস্তাত্ত্বিক বাস্তবতা চিত্রিত হয়েছে। নারী চরিত্রগুলো বিশেষ যত্নে গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি লিখেছেন, ‘গল্পগুলো আমার জীবনের অভিজ্ঞতাসঞ্জাত, আমি যে জীবন জানি না, তা নিয়ে লিখিনি।’ মানব সম্পর্কের সংঘাত ও টানাপোড়েন খুব নিখুঁতভাবে সাদামাটা মেদহীন স্মার্ট গদ্যে বলেছেন তিনি।
এ পর্যন্ত তাঁর ১৪টি ছোটগল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ‘সামথিং আই হ্যাভ বিন মিনিং টু ইউ’, ১৯৭৮ সালে ‘হু ডু ইউ থিংক ইউ আর?’ ছাপা হয়। ১৯৮২ সালে দ্য মুনস অব জুপিটার’, ১৯৮৬ সালে ‘দ্য প্রগ্রেস অব লাভ’, ১৯৯০ সালে ফ্রেন্ড অব মাই ইয়ুথ’, ১৯৯৪ সালে ‘ওপেন সিক্রেটস’, ১৯৯৮ সালে দ্য লাভ অব অ্যা ওম্যান’, ২০০১ সালে ‘হেটশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, কোর্টশিপ, লাভশিপ, ম্যারেজ’, ২০০৪ সালে ‘রানঅ্যাওয়ে’, ২০০৯ সালে ‘হ্যাপিনেস’, ২০১২ সালে অর্থাত্ নোবেলপ্রাপ্তির আগে শেষতম গল্পগ্রন্থ ‘ডিয়ার লাইফ’ প্রকাশিত হয়।
মুনরোর গল্প বাইরে থেকে সাদামাটা ও সরলরৈখিক মনে হলেও আসলে গল্পের অন্তঃপুরে আছে গভীর অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানুষের হতাশা, শোষণ, বিচ্ছিন্নতাবোধ, প্রায়শ মানব সম্পর্কের জটিলতা, অবিশ্বাস ও প্রত্যাখ্যান। শিল্পসহযাত্রী কানাডার অন্য এক ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউড মুনরোর এক গল্পগ্রন্থের ভূমিকা লিখতে গিয়ে বলেছেন, ‘মুনরো মানব চরিত্রের রূপকার; তিনি স্মৃতি হারিয়ে যাওয়া অতীত ইত্যাকার বিভিন্ন বিষয় যা জীবনেরই অংশ, তা নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।’
অন্য অনেক নারী গল্পকার টনি মরিসন (নোবেলপ্রাপ্তি ১৯৯৩), না দিন গার্ডেমার (নোবেলপ্রাপ্তি ১৯৭৪)—এঁদের গল্পকথন রীতির সাথে যথেষ্ট মিল ও অমিল লক্ষ করা যায়। মুনরোকে ‘কানাডার চেখভ ’ বলা হয়ে থাকে তাঁর অপূর্ব গল্পকথন রীতি ও আঙ্গিকের জন্য। তিনি সহজ-সরল ন্যারেটিভ রীতি অনুসরণ করেছেন। তাঁর অন্যতম বিখ্যাত গল্প ‘অ্যা রেড ড্রেস’ এবং বহুল পঠিত ও জনপ্রিয় গল্প ‘দ্য ট্রেন’ ন্যারেটিভ রীতিতে লেখা হয়েছে। তাঁর কয়েকটি গল্প আকৃতিতে বেশ দীর্ঘ হলেও গল্পের মেজাজ ও অনুষঙ্গ পরিপূর্ণভাবে খুঁজে পাওয়া যায়।
চেখভ এবং মুনরো দুজনেরই রয়েছে গল্প বয়নের এক অসম্ভব প্রভাবশালী ক্ষমতা যা পাঠককে অভিভূত করে। পাঠক ক্রমশ এক জাদুর পৃথিবীতে প্রবেশ করে, আর এখানেই চেখভের ভাবশিষ্য মুনরোর মুনশিয়ানা।
আরেকটি অবিস্মরণীয় গল্প ‘দ্য বিয়ার কেইম ওভার দ্য মাউনটেন’। স্মৃতিভ্রষ্ট একজন বৃদ্ধ ও বৃদ্ধার বিশ্বাসঘাতকতার গল্প, কাহিনি খুব নির্মম ও নৈর্ব্যক্তিক। ২০০৬ সালে এই গল্পটিকে ‘অ্যাওয়ে ফ্রম হার’ শিরোনামে চলচ্চিত্রায়ণ করা হয়।
প্রায় প্রতিবছর নোবেল পুরস্কার নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে। রাজনীতি ও পক্ষপাতিত্বের বিবেচনায় লেখককে পুরস্কৃত করা হয়। এবার মুনরোর নোবেলপ্রাপ্তি ছিল অনেকটা নিরপেক্ষ। সমালোচক সেভন বার্কাটস বলেছেন, ‘রাজনীতির বিবেচনা মুনরোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তিনি পেয়েছেন সাহিত্যের জন্য, শিল্প হিসেবে ছোটগল্পের পুনরুত্থানের বিবেচনায়, অন্যকোনো বিবেচনা এখানে কার্যকর নয়’।
অ্যালিস মুনরোর জন্ম কানাডার অন্টারিওতে ১৯৩১ সালে একটি কৃষক পরিবারে। দীর্ঘ ৮২ বছরের ঘটনাবহুল জীবনে দুবার বিয়ে করেছেন। তাঁর শেষতম স্বামী এ বছরের এপ্রিল মাসে মারা গেছেন। প্রায়ই তিনি লেখালেখি থেকে অবসর নেয়ার কথা ঘোষণা করতেন, কিন্তু বাস্তবে তা হতো না। তিনি উপন্যাস লিখতে চেয়েছেন, প্রকাশকদের এরকম আভাস দিয়েছেন, ‘এবার একটা বড় কিছু লিখব’। কিন্তু উপন্যাস লেখা হয়নি; সম্পূর্ণভাবে ছোটগল্পেই নিমগ্ন ছিলেন ছোটগল্পেই অবগাহন করেছেন।
বাংলাদেশে কানাডিয়ান ঔপন্যাসিক মার্গারেট অ্যাটউডকে পণ্ডিত লেখকেরা এবং কিছু বিদগ্ধ পাঠকেরা যেমন পাঠ করেছেন ইংরেজির মাধ্যমে, তেমনি দুই কানাডিয়ান লেখক মাইকেল ওন্দাজে ও অ্যালিস মুনরোকেও অবহেলা করেননি। এবার তো অনেকেই মার্গারেট অ্যাটউটকে আশা করেছিলেন সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ী হিসেবে, কিন্তু পেলেন অ্যালিস মুনরো যিনি দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে ভুগছেন। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
