ভ্যাটিকানের ফোনকলের ওপর নজরদারি করার বিষয়টি অস্বীকার করে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) জানায়, ইটালির সংবাদ মাধ্যমে যে খবরটি এসেছে তা ‘সত্য নয়’।
বুধবার ইটালির প্যানোরামা ম্যাগাজিনে খবর প্রকাশ হয়, এনএসএ ভ্যাটিকানের ফোনকলে আড়ি পেতেছিলো। সেই সঙ্গে সাবেক পোপ বেনেডিক্টের উত্তরাধিকারী খোঁজার আলোচনার সময়ও তারা সম্ভবত আড়িপাতার কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছিল।
এনএসএ’র মুখপাত্র ভ্যানি ভিনেস এক বিবৃতিতে বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যাটিকানকে লক্ষ্যবস্তু বানায়নি। এনএসএ ভ্যাটিকানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল বলে ইটালির প্যানোরামা ম্যাগাজিনে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা সত্য নয়।” তথ্যের উত্স উল্লেখ না করে প্যানোরামা জানায়, ১০ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ৮ জানুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত এনএসএ ভ্যাটিকানে আসা এবং ভ্যাটিকান থেকে বাইরে যাওয়া চার কোটি ৬০ লাখ ফোনকলের ওপর নজরদারি করেছে।
এনএসএ ভ্যাটিকানের ফোনকলগুলো রেকর্ড করে সেগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করতো। তা হলো— নেতৃত্বের উদ্দেশ্য, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি হুমকি, বৈদেশিক নীতির উদ্দেশ্য এবং মানবাধিকার।
বৃহস্পতিবার পুরো খবরটি প্রকাশ করার আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্যানোরামা বলেছিল, “এনএসএ পোপের ফোনে আড়ি পেতেছে।” তবে এনএসএ’র এ ধরনের কার্যক্রমের ব্যাপারে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ কিছুই জানতো না জানিয়ে ভ্যাটিকানের মুখপাত্র ফাদার ফেদেরিকো লমবার্দি বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমরা কিছুই জানতাম না এবং এটা নিয়ে আমাদের কোনো ধরনের উদ্বেগও নেই।”
প্যানোরামা তথ্যের উেসর বিষয়টি না জানালেও ধারণা করা হচ্ছে এনএসএ’র তথ্য ফাঁসকারী সাবেক কর্মকর্তা অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের কাছ থেকেই তারা এ তথ্য পেয়েছে। এর আগে স্নোডেনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে জার্মানি এবং ফ্রান্স এনএসএ’র ওপর আড়িপাতার আভিযোগ আনে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পোপ বেনেডিক্ট পদত্যাগ করেন এবং তার উত্তরাধিকারী হিসেবে পোপ ফ্রানসিস ১৩ মার্চ নির্বাচিত হন।
