চতুর্থ মত্স্য প্রকল্পের ৯০ জনের বেতন বন্ধ

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৫৪
সরকারের শর্ত না মেনে মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া ৪র্থ মত্স্য প্রকল্পের ৯০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছে হিসাব রক্ষণ অফিস। সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের ১ জুলাই শেষ হওয়া আলোচ্য প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী গ্রাচ্যুইটিসহ অন্যান্য সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চাকরি থেকে চলে যান। এসব কর্মকর্তার মধ্যে ছিলেন ৮৭ জন মত্স্য সমপ্রসারণ কর্মকর্তা, মত্স্য কর্মকর্তা (হিলসা),ভান্ডার রক্ষক ও বার্তা বাহকের একটি করে পদ। মত্স্য ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের অধীনের এই প্রকল্পের অবসান হলেও এ সরকার ক্ষমতায় আসার পুনরায় প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। সূত্র জানায়, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বের জনবলসহ প্রকল্পটি রাজস্বখাতে স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেয়া হয়, রাজস্বখাতে প্রকল্প স্থানান্তরের শর্ত পূরণ না করায় এ প্রকল্পটি রাজস্বখাতে নেয়া সম্ভব নয়। পরবর্তীতে মত্স্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রস্তাবটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দেন। এ পর্যায়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় শুধুমাত্র পদগুলো রাজস্বখাতে স্থানান্তরের পক্ষে মত দেয়। অর্থ মন্ত্রণালয় শর্তসাপেক্ষে জনবলসহ প্রকল্পটি অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে স্থানান্তরের পক্ষে মত দেয়। মত্স্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয় শর্তপূরণ না করেই প্রকল্পের পূর্বের সবপদসহ জনবল রাজস্বখাতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। যেসব শর্ত পূরণ করার কথা ছিল তার মধ্যে আছে প্রকল্পের স্থানান্তরিত পদ রাজস্বখাতে নিয়মিত করার ক্ষেত্রে ‘ উন্নয়ন প্রকল্প হতে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরিত পদের পদধারীদের নিয়মিত করা ও জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ বিষয়ে নতুন এসআরও জারি করা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত আদেশ অনুসরণ করা এবং স্থানান্তরিত পদ মত্স্য অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সাংগঠনিক কাঠামোর কপি অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা। কিন্তু এ সবের কোন কিছুই করা হয়নি। গত ২২ সেপ্টেম্বর হিসাব রক্ষণ বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে শর্তসমূহ পূরণ করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কি পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এসব প্রশ্নের জবাব না দেয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।