আল-কায়েদাকে মোকাবেলায় ইরাকে ‘শুদ্ধ গণতন্ত্র’ চর্চার আহ্বান ওবামার

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৫৬
ইরাকে ‘অধিকতর তত্পর’ আল-কায়েদাকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেই বিষয়ে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইরাকের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল-মালিকির মধ্যে আলোচনা হয়েছে। জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় ওবামা ইরাকে আরো বেশি ‘শুদ্ধ গণতন্ত্র’ চর্চার জন্য মালিকির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক থেকে তাদের সেনাবাহিনীকে সরিয়ে নেয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে আবারো জাতিগত ও সামপ্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা বাড়তে শুরু করেছে। ধারণা করা হয়, ইরাকের শিয়া নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে সুন্নি বিদ্রোহীরা পুনরায় মাথাচাড়া দেয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য কামনা করতে ওয়াশিংটন সফরে যান মালিকি। শুক্রবারের বৈঠকে জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদাকে মোকাবিলার জন্য ইরাককে সাহায্য করার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘শুধু ইরাকে কার্যক্রম চালানো জঙ্গি সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেই নয় বরং ওই অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে থাকা জঙ্গি দলকে হটিয়ে দিতে কীভাবে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো সে ব্যাপারে আমাদের মধ্যে অনেক আলোচনা হয়েছে।’ মালিকি জানান, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কীভাবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যায় সে ব্যাপারে তিনি এবং ওবামা আলোচনা করেছেন। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের নির্মিত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার চেয়েছেন মালিকি। উভয় সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরাকের যেসব দুর্গম এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটি রয়েছে সেসব এলাকায় অভিযান চালানোর জন্য ইরাকের সেনাবাহিনীর জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত কিছু যন্ত্রপাতি প্রয়োজন বলে উভয় পক্ষের কূটনৈতিকরা একমত হয়েছেন। তবে সেখানে বিশেষভাবে সামরিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজনের কথা বলা হয়নি। বৃহস্পতিবার দু’দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনায় মালিকির বেশ কিছু দুর্বলতাও উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরাকের রাজনীতিতে তার দুর্বল ব্যবস্থাপনার ব্যাপক সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ছয়জন সিনেটর মালিকির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সিনেটরদের যুক্তি শিয়া মুসলিম মালিকি দেশটির সুন্নি, কুর্দি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীকে ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা জাতিগত নৃশংসতা বৃদ্ধিতে ইন্ধন যুগিয়েছে। চলতি বছর ইরাকে জাতিগত নৃশংসতায় প্রায় সাত হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।