নিজ দেশে প্রবাসির মত বাস করে টাঙ্গাইলের প্রায় দুই শতাধিক হিজড়া। নিজেদের স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় তারা পায়নি জন্ম সনদ। হতে পারেনি ভোটার। পাচ্ছে না চাকরি করার অধিকার।
মির্জাপুরের হাঁটুভাঙ্গার কয়েকজন হিজড়া চোখের জল ফেলে জানান, হিজড়া বলে কেউ তাদের বাসা ভাড়া দিতে চায় না। এক বৃদ্ধাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে কেবলমাত্র রাতে থাকার শর্তে এক হাজার টাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে ১০/১২ জন গাদাগাদি করে থাকেন।
সর্দারনী সোহাসিনী ও প্রেমা জানায়, একবুক জ্বালা নিয়ে কেবলমাত্র পেটের তাগিদে অন্যের বাচ্চা নিয়ে নাচগান ও কৌতুক করে জীবিকা অর্জন করতাম। নানা অবিশ্বাসের কারণে বাসাবাড়ির কাজ এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তাই হাট-বাজারে ভিক্ষা করে বেঁচে আছি।
উপজেলার দুল্লা গ্রামের হিজড়া নজর জানায়, সে এক মহিলাকে বিয়ে করে সংসারি হয়েছিল। কিন্তু হঠাত্ করে পুরুষ থেকে হিজড়া হয়ে যাওয়ায় ভেঙ্গে গেছে সংসার। লজ্জা শরমে সে আজ গৃহত্যাগী।
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর, বাসাইল, সখীপুর, দেলদুয়ার, নাগরপুর, কালিহাতী, ভুয়াপুর, ঘাটাইল, গোপালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ি উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক হিজড়া বসবাস করে। তাদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।
হিজড়ারা আরো জানায়, আমাদের করুণ অবস্থা কেবল টাঙ্গাইলেই নয় সারাদেশের হিজড়াদের একই অবস্থা। আমাদেরকে যদি সরকারিভাবে কোন আবাসন প্রকল্প করে দেয়া হয় তবে আমরা পাব নাগরিক অধিকার। আমরা আশা করি, সরকার আমাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করবেন।
এ ব্যাপারে সমাজ সেবা অধিদপ্তর জানায়, হিজড়াদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা সরকারের আছে। কিন্তু কতদিনে সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হবে তা কেবল সময়ই বলতে পারে। তাই কোন সহূদয়বান মানুষ যদি সমাজের এই অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু একটা করে অন্যকে উত্সাহিত করতে পারে তবেই তাদের দুর্বিষহ জীবনের অবসান হতে পারে।
