বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য নেয়া সরকারের ‘ন্যাশনাল সার্ভিস’ কর্মসূচি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করলেও কিছু বিষয় সাফল্যকে ম্লান করে ফেলছে। এগুলো হল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা, রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও দুর্নীতি। শনিবার রাজধানীর ব্রাক সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। কর্মসূচির কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি: সুশাসনের সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করে কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বহুবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ১৩ দফা সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মো. রফিকুল হাসান। প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার (রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি) নীনা শামসুন নাহার।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অভাবে কর্মসূচিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণকালে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণের উপর বিশেষ নজর দেয়া প্রয়োজন। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ঘোষিত হরতাল প্রত্যাশিত নয়। তাছাড়া সরকার ও বিরোধী দলের মাঝে আলোচনার উদ্দেশ্য যদি হয় সমঝোতা তাহলে এটা শুরুর আগে কখনোই শর্ত দেয়া উচিত নয়।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির বিষয়ে বলেন, একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে এ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জিত হয়নি। তবে পরবর্তী পর্যায়ে এ প্রকল্প চলমান থাকলে প্রকল্পকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
উল্লেখ্য, কর্মসূচির আওতাধীন ১৯টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলা থেকে দৈবচয়নের ভিত্তিতে গবেষণার জন্য তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মসূচির পরিকল্পনা, সুবিধাভোগীদের নির্বাচন প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উল্লেখযোগ্য অনিয়মের মধ্যে রয়েছে ধারণাপত্রে উল্লিখিত অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যার তুলনায় বাস্তবে অনেক বেশি প্রার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সবাইকে সুযোগদান (শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্তি), প্রকৃত বেকার নির্ধারণে জরিপ কার্যক্রমের ত্রুটি, আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের সদস্যদের সুযোগ পাওয়া, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের সুযোগ পাওয়া, প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচনে দায়িত্বে অবহেলা, বেকার না হয়েও কাজ পাওয়া, নিয়মিত চাকরি ছেড়ে অংশগ্রহণ, একইসাথে একাধিক চাকরি করা, অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে দুই বছরের ছুটি নিয়ে অংশগ্রহণ, ব্যবসার পাশাপাশি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তি, বয়স, জেলার বাসিন্দা, শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে আবেদন করা ও অন্যের নাম ব্যবহার করে অংশগ্রহণ করা।
