স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জন্য ২০১৪ স্বাধীনতা পুরস্কারের আবেদন করছে দেশের ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল বাফুফের জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আজকালের মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন পাঠাবে বাফুফে।
স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশের এক ঝাঁক ফুটবলার সংগঠকদের প্রেরণায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য ফুটবল মাঠে নেমেছিলেন। ভারতের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল। দেশের বাইরে তারাই প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। নানা আয়োজন আর অনেক ত্যাগের দিন কেটেছিল দলের ফুটবলার, কোচ, ম্যানেজার এবং কর্মকর্তাদের। এই সব মুক্তিযোদ্ধা ফুটবলারদের ঋণ শোধবার নয়; কিন্তু এই মানুষগুলো গত চার দশকে দলগতভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মানিত হননি।
১৯৯৫ সালে দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু এবং পরের বছর ১৯৯৬ সালে কাজী মো. সালাহউদ্দিন স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেও পুরো দলকে সরকার থেকে পুরস্কৃত করা হয়নি। ফুটবল ফেডারেশন পুরো দলের সব সদস্যকে পুরস্কৃত করতে সম্প্রতি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের ম্যানেজার তানভীর মাজহার তান্না এবং কাজী সালাহউদ্দিন জোরে-শোরে তত্পরতা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি দফতর থেকে বাফুফেতে স্বাধীনতা পুরস্কারের আবেদন আসায় গতকাল জরুরি সভা ডেকে প্রক্রিয়া শুরু করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফে।
তবে ২০০৯ সালের ৪ জানুয়ারি কাজী সালাহউদ্দিনের উদ্যোগেই বাফুফে থেকে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। দলের কোচ, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের নামের ফলক স্থাপন করা হয়েছে বাফুফেতে; কিন্তু এতো দিনেও কেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল দেশের সর্বচ্চো পুরস্কার পেল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে বাফুফে থেকে কেউ আবেদন করেনি। সরকার থেকেও কোনো উদ্যোগ ছিল না। অবহেলা, অনাদর আর অভিমানে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অনেকেই ফুটবল থেকে নিজেকে সংকুচিত করে ফেলেছেন। সময়ের পরিক্রমায় অনেকেই এখন বার্ধক্যে পৌঁছে গেছেন। কেউ পৃথিবী ছেড়েও চলে গেছেন। সব কিছুর পরও স্বাধীনতার চল্লিশ দশক পেরিয়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলকে যদি স্বাধীনতা পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাহলেও সবাই খুশি।
