আত্মঘাতী হামলা চীনেও!

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২৫
ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে আত্মঘাতী হামলার খবর পাওয়া যায় প্রায়ই। এসব দেশে আত্মঘাতী হামলা নিত্যনৈমিত্তিক এবং স্বাভাবিক ঘটনা। এসব দেশের মানুষের কাছেও এসব হামলা যেন নিয়তির লেখা। সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। তবে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি চীনে আত্মঘাতী হামলাতো দূরে থাক, সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না। আর সেই চীনেই এবার প্রথমবারের মতো আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটলো। হামলার পেছনে উইঘুর নামে একটি মুসলমান গোষ্ঠী রয়েছে বলে অভিযোগ চীন সরকারের। এই ঘটনাটি একটি সন্ত্রাসী হামলা বলে প্রথমবারের মতো উল্লেখ করেছে চীনের পুলিশ। চীনের পুলিশ বলছে, গত সোমবার বেইজিং-এর বিখ্যাত তিয়ানআনমেন স্কয়ারের একাংশে একটি দ্রুতগামী জীপ গাড়ি একদল পর্যটকের ওপর উঠে পড়ে এবং তার পর সেখানকার ঐতিহাসিক ফরবিডেন সিটির পথে একটি সেতুর ওপর আঘাত করে। এতে তারা তিনজনই এবং স্কয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা দু’জন লোক নিহত হন। গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচ সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনায় নিহত ওই গাড়ির আরোহীদের নামও প্রকাশ করেছে। তারা বলছে আত্মঘাতী হামলায় ব্যবহূত গাড়ির চালক উসমান, তার স্ত্রী ও মা সকলেই জিনজিয়াং প্রদেশের মুসলমান সংখ্যালঘু উইঘুর সমপ্রদায়ের লোক। গাড়িটির ভেতরে পুলিশ চাপাতি, লোহার রড, পেট্রোল কন্টেইনার, চরমপন্থি ধর্মীয় স্লোগান সম্বলিত পতাকা ইত্যাদি পেয়েছে। আত্মঘাতী হামলায় অংশগ্রহণকারী তিনজন হলেন উসমান হাসান, তার স্ত্রী এবং মা। বেইজিংএ বসবাসকারী উইঘুর সম্প্রদায়ের কয়েকজন লোক বলেছেন, তারা ঘটনার পর থেকে পুলিশের ঘন ঘন তল্লাশি এবং হয়রানির শিকার হচ্ছেন। উইঘুরদের অভিযোগ, চীনা সরকার তাদের সংস্কৃতি, ভাষা ও ধর্মের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। তারা চাকরিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার। তবে সরকারের দাবি, তারা উইঘুরদের অনেক বেশিই স্বাধীনতা দেয়। চীন সরকারের অভিযোগ, বিচ্ছিন্নতাবাদের চরমপন্থার দিকে যাচ্ছে উইঘুর সমপ্রদায়। সরকার এদেরকে আল-কায়েদার একটি অংশ বলে মনে করে। নাইন ইলেভেনের পর থেকে এই ধারণা আরো বদ্ধমূল হয় সরকারের মধ্যে। মধ্য এশিয়ার পামির মালভূমিতে যে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস তাদেরকে উইঘুর নামে ডাকা হয়। মধ্য এশিয়ায় সুলতান সাতুক বুগরা খানের শাসনামলে (৯২০-৯২৬ খ্রিস্টাব্দ) উইঘুররা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। এর আগে তারা ছিল তিব্বত ও মঙ্গোলীয় ধারার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। ১৯৪৯ সালে চীনের কমিউনিস্টরা তাদের অঞ্চল জিনজিয়াং বা শিনকিয়াং দখল করে। এরপর থেকেই মূলত উইঘুরদের বঞ্চনার ধারাবাহিকতা শুরু হয়। স্বাধীনতার দাবি তোলে তারা। বিশ শতকের গোড়ার দিকে তারা নিজেদের স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু চীন তাদেরকে স্বীকৃতি দেয়নি। বরং দমন-পীড়ন অব্যাহত রাখে। উইঘুর সমপ্রদায়ের নেতৃত্বদানকারীর নাম রেবিয়া কাদির। তাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে। এর ফলে তাদের দাবি আদায় আরো জোরালো হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।