হাজার কোটি টাকা ট্রান্সফার ফি আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সমান বেতন দিয়ে ট্রান্সফার মৌসুমের একেবারে শেষ মুহূর্তে রিয়াল মাদ্রিদ যখন গ্যারেথ বেলকে যখন হোয়াইট হার্ট থেকে উড়িয়ে আনলো তখন ভ্রূ কুচকেছিলেন অনেকেই। অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হবার ভয়ও ছিলও সমালোচকদের। সমালোচকদের সেই অনুমান এখন পর্যন্ত পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণ করতে না পারলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে ক্রমেই নিজের সেরা ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন বেল। আর বেলের সহায়তায় দুরন্ত ফর্মে থাকা রোনালদো হয়ে উঠেছেন আরো বেশি ক্ষুরধার। সেভিয়ার পর গত শনিবার রাতে রায়ো ভালেকানোর বিরুদ্ধেও এই জুটির দারুণ পারফরম্যান্সে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জয় নিয়েই ঘরে ফিরেছে ব্লাঙ্কোসরা।
রোনালদোর সঙ্গে দুর্দান্ত এক আক্রমণ জুটি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নিয়ে বেলকে আনা হয়েছিল মৌসুমের প্রথম ম্যাচগুলোতে রিয়ালের সে লক্ষ্য পূরণ হয়নি মোটেই। বলা চলে বেলের ইনজুরিই পূরণ করতে দেয়নি সে উদ্দেশ্য। তবে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে ক্রমেই নিজের সেরা ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন এই ওয়েলসম্যান। আর রিয়াল ফিরছে তাদের পুরনো চেহারায়।
মাদ্রিদ ক্যারিয়ারে নিজের টানা দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথমবারের মত মূল একাদশে খেলার সুযোগ পাওয়া বেলকে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে আরো উজ্জীবিত হয়ে ওঠা রোনালদো রিয়ালকে এগিয়ে নিতে সময় নেন মাত্র তিন মিনিট। লুকা মডরিচের পাস থেকে পাওয়া বলকে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার আলেসান্দ্রো গালভেসকে পাস কাটিয়ে রায়োর গোলে জড়াতে কোন ভুল করেননি সিআর সেভেন। এই পর্তুগিজ সুপারস্টারের জন্য এটি ছিল মৌসুমের ১৯তম গোল। মিনিট খানেক পরেই রিয়ালের গোল এরিয়ার মধ্যে নাচোকে ফাউল করার অপরাধে স্বাগতিকরা ডানি কারাভাজালের বিরুদ্ধে পেনাল্টির আবেদন করলেও তাতে রেফারি কোন সাড়া না দেননি। উল্টো ম্যাচের ৩১ মিনিটে বেলের ডান পায়ের ক্রস থেকে ফ্রেঞ্চম্যান করিম বেনজেমা সফরকারীদের পক্ষে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এই নিয়ে মৌসুমে সপ্তম গোলের দেখা পেলেন বেনজেমা। কাউন্টার এ্যাটাক থেকে রোনালদো বিরতির আগেই আরেকটি গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু অল্পের জন্য সেযাত্রা রক্ষা পায় স্বাগতিকরা। তবে বিরতির ঠিক পরপরই বেলের নীচু গতির একটি ক্রস থেকে রোনালদো নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
তবে ৫৩ ও ৫৫ মিনিটে দুই মিনিটের ব্যবধানে জোনাথন ভিয়েরার দুটি পেনাল্টিতে রায়ো আশা জাগিয়ে তুলেছিল। শেষের আধা ঘণ্টা স্বাগতিকরা রিয়ালের উপর পুরোপুরি চাপ সৃষ্টি করে খেলেছে। আলবার্তো বুয়েনোর শট পোস্টে না লাগলে ম্যাচে ফিরেও আসতে পারতো স্বাগতিকরা।
জিতলেও বিরতির পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাওয়ায় ম্যাচ শেষে অসন্তোষই ঝরেছে কার্েলা আনচেলত্তির কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘সেভিয়ার বিপক্ষে আমরা ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরে তাদেরকে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। আজকের ম্যাচেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এটা মোটেই কোন অঘটন নয়। আমাদের অবশ্যই এগুলোর পরিবর্তন করতে হবে এবং মাঠে অতি আত্মবিশ্বাসী মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দ্বিতীয়ার্ধ আজ পুরোপুরি বাজে পারফরমেন্স ছিল। রিয়াল মাদ্রিদের মত দলে থাকলে তুমি কোনভাবেই প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারো না।’
