গত এক দশকেও বেহাল দশা কাটেনি ময়মনসিংহের ফুটবল কন্যাদের কলসিন্দুর-ধোবাউড়া ভায়া তারাকান্দা সড়কের। তারাকান্দা থেকে ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর পর্যন্ত ৪৫ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ খানাখন্দে ভরা।
সড়কের এমন বেহাল দশার কারণে সুসং দুর্গাপুর, ধোবাউড়া, ফুলপুর উপজেলার যাত্রী সাধারণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ রয়েছে এলজিইডি বিভাগ ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এই অবহেলিত জনপদের মানুষকে। ১ ঘন্টার পথ ৩ ঘন্টায় যেতে পারছে না সাধারণ যাত্রীরা। সেই সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ভাড়া।
সবচেয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে প্রসুতি মাসহ রোগীরা। অথচ এ নিয়ে মাথাব্যাথা নেই এলজিইডি ও জেলা প্রশাসনের। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদার প্রভাবশালী বলে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
যদিও ময়মনসিংহের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম ইসমত কিবরিয়া জানিয়েছেন কাজে গাফলতির কারণে দুইজন ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। তারপরও সড়ক সংস্কারের কাজে কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না।কলসিন্দুর তারাকান্দা সড়কের কাজ বছরে এক দুইবার শুরু হলেও অজানা কারণে সারা বছর বন্ধ থাকে।
ফলে বর্ষা মৌসুমে সড়ক পুরোটায় অকার্যকর হয়ে যায়। বর্তমানে সড়কের সিলকোট কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলে এসব গর্তে হাঁটুপানি জমে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওভারলোডেড বালির ট্রাক যাতায়াতের কারণে সড়কটির বেহাল অবস্থা। কলসিন্দুর স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মালা রানী সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সড়কের বেহাল দশার কারণে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
তিনি বলেন, ‘এ সড়ক দিয়ে কলসিন্দুরের ফুটবল কন্যাদের জীবন বাজি রেখে চলাচল করতে হচ্ছে।’ তিনি সড়কটি দ্রত সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রতিষ্ঠান নাওয়াল কনস্ট্রাকশন ও ফরিদপুরের হানিফ এন্টারপ্রাইজকে এ সড়কের কাজের কার্যাদেশ দিয়েছিল এলজিইডি বিভাগ। ২০১৮ সনের ডিসেম্বর মাসের মাঝে কাজ শেষ করতে না পারায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। আরটিআই-২ প্রকল্পের আওতায় ধোবাউড়া তারাকান্দা সড়কের সংস্কার কাজে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে চেয়ারম্যান আজাদ হত্যা মামলার ১ আসামি গ্রেফতার
ধোবাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহিনূর ফেরদৌস বলেন, ‘ধোবাউড়া কলসিন্দুর সড়ক সংস্কারের কাজ গত অর্থ বছরের। ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া সত্বেও কাজটি করছে না। কাজ বাতিলের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবরে পত্র দেওয়া হয়েছে।’
ইত্তেফাক/নূহু

