এখনও ইতিবাচক নিউজিল্যান্ড!

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৫
ডুবতে থাকা মানুষ নাকি খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকতে চায়। বাংলাদেশ সফরে আসা নিউজিল্যান্ড দলের অবস্থাও এখন অনেকটা সেরকমই। ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর এখন তাদের চোখ একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচের দিকে। গতকাল সোমবার এমনটাই জানালেন নিউজিল্যান্ডের কলিন মানরো। কলিন মানরো’র চোখ মুখ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে একদিন আগেই বড় একটা ধাক্কার মুখোমুখি হতে হয়েছে তার দলকে। হাসিমুখেই তিনি বললেন, ‘আমাদের অনেক প্রতিযোগিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে হয়েছে। এটা অবশ্যই আমাদের জন্য ইতিবাচক।’ সিরিজ হারের পরও ইতিবাচকতা খুঁজে পাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে মানরো বলেন, ‘আমরা শেষ ম্যাচে হারলেও ভালই খেলেছিলাম। আমার আর রসের (রস টেলর) পার্টনারশিপটা ভাল জমেছিল। এর ফলে দলের মধ্যে কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। আর ব্যক্তিগত দিক থেকে বলতে পারি, আমারও অনেক লাভ হলো। উপমহাদেশীয় কন্ডিশন বুঝে ওঠা দরকার ছিল। শ্রীলঙ্কা সিরিজে এটা কাজে দিবে।’ প্রথম দুই ওয়ানডেতে দলে ছিলেন না। আর প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই করলেন ৮৫ রান। বাংলাদেশের বোলারদের রীতিমতো শাসন করে একের পর এক রিভার্স হিট করে গেলেন। পরে অবশ্য আউটও হলেন সেই একই কাজ করতে গিয়ে, ‘আমি এভাবেই খেলি। গত ২/৩ বছরে আমি এ ধরনের শট খেলায় নিজের উন্নতি করেছি। উপমহাদেশে আমরা সেটা কাজে লাগাতে চেয়েছিলাম। সুতরাং এটা খুবই ভাল একটা সুযোগ।’ এমন ইনিংস খেলার পরও দিনশেষে পরাজিত দলের অংশ। একটু খারাপ লাগা তো থাকবেই। কিন্তু ব্যাপারটাকে দেখছেন একটু ভিন্নভাবে, ‘রস (টেলর) ম্যাচ শেষে বেশকিছু ভাল কথা বলেছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যাটিং করাটা সত্যিই দারুণ বিষয়। আমি মনে করি গতকাল আমাদের ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ভালভাবে চাপ সামলেছেন। আমি ছাড়াও ভাল খেলার মতো আরও খেলোয়াড় ছিল। বাকিরা আমাকে বলছিল, স্বাধীনভাবে খেলো। আমি আমার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হয়েছিলাম। প্রমাণ করার মতো অনেক কিছুই ছিল আমার। এখানে আমার প্রথম ম্যাচেই রান করাটা খুবই সন্তুষ্টির বিষয়। আমি স্পিনের বিরুদ্ধে খেলার জন্য অনেক কাজ করেছি। ভাল খেলতে পেরে তাই ভাল লাগছে।’ ফতুল্লায় প্রায় হাজার ১৫ দর্শকের সামনে খেলতে নামাটাও মানরো’র জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা, ‘এখানে খেলার অভিজ্ঞতার অংশ হওয়া সত্যিই অসাধারণ। যখন রুবেল প্রথম বল করার জন্য আমার দিকে দৌড়ে আসছিলেন। আর সাথে সাথে হাজার হাজার দর্শকের চিত্কার। অন্যরকম একটা ব্যাপার।’ তার মতোই আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি মিস করেছেন বাংলাদেশের শামসুর রহমান শুভ। তার প্রসঙ্গে মানরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ওপেনাররা অনেক ভাল ব্যাটিং করেছেন। তাড়াতাড়ি অনেক রান করে ফেলেছিল তারা। বিশেষ করে শুভ’র কথা আলাদা করে বলতে হয়। প্রথমে হাত খুলে খেললেও পড়ে সে ছিল অনেক শান্ত। তার দুর্ভাগ্য যে সে ৯৬ রানে আউট গয়ে গিয়েছে।’