ত্রিপোলিতে গোলাগুলি, পূর্ব লিবীয় বিদ্রোহীদের সরকার গঠন

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২০:২৫
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়েছে। প্রায় তিনঘণ্টা ধরে চলা ঐ গোলাগুলির ঘটনায় বিমানবিধ্বংসী অস্ত্রও ব্যবহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে। সুক আল-জুমা এলাকার পূর্বাঞ্চলে আধা-সামরিক বাহিনীর মধ্যে এই যুদ্ধ হয় বলে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধা-সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে লিবিয়ার তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের নেতারা একতরফাভাবে একটি আঞ্চলিক সরকারের ঘোষণা দিয়েছে। রবিবার পূর্বাঞ্চলীয় ছোট শহর আজদাবিয়ায় মিলিত হয়ে স্বায়ত্তশাসিত সরকারের ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট করা একটি ছবিতে দেখা গেছে ঘটনাস্থলে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া দু’টি গাড়ি পড়ে আছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ ব্যাপারে বলেন, তার কাছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই। লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের শহর বেনগাজির অধিবাসীরা জানান, নিরাপত্তার নামে হত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে সোমবার বিকালের দিকে বন্দরনগরীর বিভিন্নস্থানে কয়েক ডজন মানুষ আলাদা-আলাদাভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। ঐ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী আলি জিদানের পদত্যাগ এবং দেশটির সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার দাবি জানান। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন দাবি করা আন্দোলনকারীরা রবিবার একটি ছায়া সরকারের ঘোষণা দেয়। এর মাধ্যমে তারা দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে চ্যালঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। আরো বেশি ক্ষমতা ও তেল সম্পদের অংশী-দারিত্বের দাবিতে গত গ্রীষ্ম থেকে পূর্বাঞ্চলীয় বেসামরিক বাহিনী ও বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সদস্যরা পূর্বাঞ্চলীয় তেলখনি ও বন্দরগুলো অবরোধ করে রেখেছে। তাদের এ সরকার গঠনের বাস্তব কোনো প্রভাব না থাকলেও ত্রিপোলির সঙ্গে নাজুক হয়ে পড়া সম্পর্ক এতে আরো খারাপ হবে। কারণ পূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে ত্রিপোলি। নব ঘোষিত আঞ্চলিক সরকারের মন্ত্রী হিসেবে ২০ জন নেতা শপথ নেন। লিবিয়ার বিমান বাহিনী ত্যাগ করা আব্দ রাব্বো আল বারাসি এই নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন বেসামরিক বাহিনী ও নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোর নেতারাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।