নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে হত্যা মামলায় ১৭ জন এবং চাঁদপুর ও পাবনায় অস্ত্র মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধিদের।
নেত্রকোনা
নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোঃ আব্দুল হামিদ দুর্গাপুর উপজেলার নাগেরগাতি গ্রামের আব্দুস ছালাম নামে একব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে একই গ্রামের ১৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। দীর্ঘ ১২ বছর মামলা চলার পর গত সোমবার সকল আসামির উপস্থিতিতে এই রায় প্রদান করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে মোঃ আব্দুল হক, আব্দুল কদ্দুছ, আব্দুর রহমান, ছাত্তার, মোস্তফা, সফিকুল ইসলাম, আবু জাহেদ, আবু সায়েম, নান্দু মিয়া, জাহেদ মিয়া, ছোয়াব মিয়া, আব্দুল হাই, তৌফিক মিয়া, শহিদ মিয়া এবং ফজল মিয়া। জানা গেছে, আব্দুস ছালামের সাথে আসামি আব্দুল হক গংদের জমি-জমা সংক্রান্ত এবং পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। এই শত্রুতার জের ধরে ২০০১ সালের ১২ নভেম্বর আব্দুল হক ও তার লোকজন ছালামকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
কিশোরগঞ্জ
কিশোরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নজরুল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত দুইজনকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জেলা ও দায়রা জজ আ. ম. মো. সাঈদ মঙ্গলবার আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা হচ্ছে- কটিয়াদী উপজেলার দেবালেরকান্দা গ্রামের মামুন এবং বাগহাটা গ্রামের জিলান। মামলার বিবরণে প্রকাশ, কটিয়াদী উপজেলার চান্দপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলামকে আসামিরা ২০১১ সালের ৪ অক্টোবর রাতে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ ও রগ কেটে হত্যা করে।
চাঁদপুর
চাঁদপুরে অস্ত্র মামলায় মো. মিন্টু ও আবু বকর নামে দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ মো. শফিকুল করিম এ রায় দেন। জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ ডিসেম্বর উল্লেখিত দুই যুবক চাঁদপুর সদর উপজেলার চাঁদখার দোকান এলাকায় শহরের তালতলার বাসিন্দা বদরুল পাটওয়ারীকে পায়ে গুলি করে মোটর সাইকেল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ মতলব ফেরিঘাট থেকে হোন্ডা ও পিস্তলসহ তাদের আটক করে।
পাবনা
পাবনার সাঁথিয়ায় ডাকাতির সময় গুলিবর্ষণ ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি অস্ত্র মামলায় রাশেদ হোসেন নামে একব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে আরও ১২ জনকে। সোমবার পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ কারাদণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত রাশেদের বাড়ি সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার বিলসলঙ্গি গ্রামে।
জানা যায়, ২০১০ সালের ১৩ আগষ্ট সাঁথিয়ার ভিন্নগ্রামে একদল ডাকাত সশস্ত্র অবস্থায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২টি রাইফেল, ৪ রাউন্ড গুলি ও ২টি হাত বোমাসহ রাশেদকে আটক করে।
