বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়কেরা

নামে নয়, বাজেটে পরিচয়

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২০:৪৯
গতকাল আমরা বিনোদন প্রতিদিনে সম্ভাবনাময় ৫ নায়িকার খবর জানিয়েছিলাম, যারা কমার্শিয়াল চলচ্চিত্রে রেস করছেন। আজ এই সময়ের বাণিজ্যিক নায়কদের রেসের খোঁজ জানাব। বরাবরের মতোই এই সময় আর চলচ্চিত্রে তারকা সঙ্কট নেই। বরং যে সঙ্কট রয়েছে তা হলো তারকাদের সঠিকভাবে ব্যবহারের, পরিচালক ও প্রযোজকদের খামখেয়ালির। এরই ভেতরে শাকিব খান ‘সুপারস্টার’ তকমাটা জুড়েছেন অনেক আগেই। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অবস্থানে শাকিবের ছবিসংখ্যা সর্বাধিক। তবে নতুনদের জোয়ারে সে অবস্থানের কী ভবিষ্যত্ দাঁড়াবে তা এখনই বোঝা মুশকিল। চলতি রেসে শাকিব খানের দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে টেক্কা দিয়ে খুব অল্প সময়ে বিগ বাজেট ও উন্নত কারিগরিতে নির্মিত চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনায় এসেছেন প্রযোজক-অভিনেতা অনন্ত জলিল। বছরে তাই শাকিবের রিলিজকৃত এক ডজন ছবির সাথে যেন একটি বা দুটি ছবি দিয়েই আলোচনায় এগিয়ে থাকছেন অনন্ত। যদিও অনন্তের নিজের প্রযোজনায় বিগ বাজেটের চলচ্চিত্রের লগ্নি ফিরে আসার হিসাব নিয়ে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। এদিকে শাকিব খানও প্রযোজক হিসেবে যাত্রা শুরু করছেন এই বছর থেকে। তবে ঝকঝকে বিনোদন আর উন্নতমানের গান ও ফাইটিংয়ের দৃশ্যায়নে অনন্ত জলিলের ছবি এখন শীর্ষে। ক্যাটাগরিতে বিভক্ত এই নায়কদের রেসে খুব সম্ভাবনা নিয়ে উঁকি দিচ্ছেন আরেফিন শুভ ও বাপ্পী। শুভর একক অভিনীত চলচ্চিত্র এখনও মুক্তি না পেলেও বেশ কিছু ছবির ক্যাম্পেইন ও আলোচনার কারণে রেসে তিনি আছেন বেশ এগিয়ে। অন্যদিকে বাপ্পীর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সুবিধা ও সমস্যা দুটোই তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জ্যাজ মাল্টিমিডিয়া। কারণ তার সবকটি ছবি এই এক ব্যানারে হওয়ায় একই গোত্রে আটকে পড়ার ভয় রয়েছে। অন্যদিকে ভালো হিসেবে বেশ কিছু ছবি রিলিজ হওয়ায় দর্শকদের চোখের দরজায় নাড়া দিয়েছেন তিনি। সুযোগের এই খরার সময় এইটুকুই বা কে লগ্নি করে? এর বাইরে কখনও ছোট পর্দা কখনও বিজ্ঞাপনের মডেলিংয়ের মাধ্যমে প্রচার ও প্রচেষ্টার পর এখন চলচ্চিত্রে আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া দুজন হলেন ইমন ও নীরব। এখন পর্যন্ত সুপার হিট বা হিটের দৌড় না দিতে পারলেও নিজেদের লেগে থাকার বিষয়টি তারা দারুণভাবে চালিয়ে নিচ্ছেন। হাতে ছবি সংখ্যাও থাকে বেশ। সব সময় সমানতালে। কিন্তু রিলিজের পর সবকিছু মিলিয়ে একটা তালগোল পেকে যায় যেন। তবে ধীরে ধীরে এই সিঁড়ি বাওয়ার কৌশলে এগোচ্ছে ইমন-নিরব। ইমনের নতুন ছবি হিসেবে স্বপন আহমেদের ‘পরবাসিনী’, চাষী নজরুলের ছবি এবং নিরবের ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘গেম’সহ বেশ কিছু ছবির ওপর তাদের অবস্থানের সূচক নির্ভর করছে। জায়েদ খান চলচ্চিত্রে আরও কিছুদিনের অবস্থান রাখতে পারলে নিজের লেগে থাকার ধৈর্যে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে পারেন। সেই কলেজ পরিষদের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা যেমন সেমিস্টার শেষ হলেও লেগে থাকেন... সেই ‘আদু ভাই’-এর গল্পের মতো। জায়েদও আছেন সেই অধ্যবসায় নিয়ে। তবুও বলা যায় না হয়তো আগামী একটি-দুটি ছবিতেই হয়তো ঝলসে উঠতে পারেন নিমিষেই এই তারকা। সাইফ চন্দনের ‘ ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ নামের চলচ্চিত্রের ক্যাম্পেইনে সরব হয়েছেন আরজু। আরজুর নিজেরও ইচ্ছে দারুণ একটি সুযোগের সদ্ব্যবহারের। এদিকে নিলয়ের ‘বেইলী রোড’ নামের একটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেলেও সেই ছবির কোনো আওয়াজ না থাকায় পরবর্তী ছবি ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ই যেন তার ভরসা। কিন্তু এখানে কো-আর্টিস্ট শখের সাথে তার প্রেমের ভাঙন হয়তো অশুভ কোনো অন্ধকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারপরও চলচ্চিত্রের জন্য ছোট পর্দার ছোট ছোট লোভগুলো নিরব, ইমন, নিলয়, আরজু প্রত্যেকেই সংবরণ করে চলেছেন। আর বাকি শাকিব, অনন্ত, বাপ্পী, জায়েদের অবশ্য চলচ্চিত্রেই ফ্রেশ ক্যারিয়ার শুরু। এখন তাদের প্রত্যয় আর ভালো একটি বাজেট, ক্যাম্পেইন, সুষ্ঠু পরিকল্পনাই বলতে পারবে আগামী দিনের চলচ্চিত্রকে নেতৃত্ব দেবেন কে? তার উত্তর হয়তো আগামী সময়ের কাছে, যে সময় সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় থাকে!