সংবিধানকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যার সুযোগ নেই

আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৩, ২১:২১
সংবিধান দিবসের আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সুষুম ও সুন্দরভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করার জন্য সংবিধানের সঠিক প্রয়োগ ছাড়া কোন বিকল্প নেই। সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের অভিভাবক। জনগণের অধিকার রক্ষার কবচ। সংবিধানকে না বুঝার কারণেই দেশে গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খাচ্ছে। তাই সংবিধানকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। যারা এটি করেন তাদের অসত্ উদ্দেশ্য থাকে। এ ভুল ব্যাখ্যা বন্ধ করতে হবে। সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা রোধ করতে শিক্ষার সকল স্তরে সংবিধান পাঠ রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ৪১তম সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর কনস্টিটিউশনাল স্ট্যাডিজ (বিক্স) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, সংবিধান আমাদের রক্ষা কবচ। স্বাধীনতা লাভের এক বছরের মধ্যেই আমরা যে সংবিধান পেয়েছি, তাতে গর্ববোধ করতে পারি। কিন্তু বিভিন্ন সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংবিধান সংশোধন করেছে ক্ষমতাসীনরা। ১৯৭২’র গণপরিষদ ও খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছর পরও আমাদের দেশের গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে ইতিহাস ও সংবিধান একসাথে না বুঝা। আমরা এর একটা বুঝলে অন্যটা বুঝি না। তাই দেশের গণতন্ত্র বারবার হোঁচট খাচ্ছে। দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান খান বলেন, সংবিধান একটি দেশের অভিভাবক। সংবিধানের বিভিন্ন ধারা অনুযায়ীই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। ’৭২ সালের সংবিধান অন্যান্য দেশের সংবিধানের তুলনায় অনেকটা ভিন্ন। কিছু ধারা রয়েছে যা অন্য কোন দেশে নেই। চেঞ্জ মেকারস্’র প্রেসিডেন্ট এডভোকেট তানবীর সিদ্দিকী বলেন, দেশে বিভিন্ন টকশোতে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সংবিধানকে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। সংবিধানকে এই অপব্যাখ্যা করার প্রধান কারণ হচ্ছে সংবিধানের মূলকপি আইন মন্ত্রণালয় থেকে ছাপানোর জটিলতা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ফর কনস্টিটিউশনাল স্ট্যাডিজ (বিকস্) এর পরিচালক আরিফ খান।