অল্প সময়েই মাহিয়া মাহি একজন নায়িকা হিসেবে এই সময়ের নায়িকাদের মধ্যে শীর্ষস্থানে চলে এসেছেন। এর আগে তার মুক্তিপ্রাপ্ত পাঁচটি ছবিই বেশ ব্যবসাসফল হয়েছে। বরাবরই তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন অভিনয়কে। তাকে নিয়ে লিখেছেন অজেয় চৌধুরী ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত
শোবিজ মিডিয়ায় আসার স্বপ্ন ছিল মাহির সেই ছোটবেলা থেকেই। তার ভাষ্যে, ‘রাস্তার পাশে যখন বড় বড় বিলবোর্ডে মডেলদের ছবি দেখে মনে মনে ভাবতাম, আমি যদি এ রকম হতে পারতাম। তাহলে কত না ভালো হতো। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে আমি গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমীতে ভর্তি হই ২০০৫ সালে। সেখানে অভিনয় শেখার কোর্স করি এবং ৩টি মঞ্চ নাটকে অভিনয় করি। এরপর অভিনয় করি মুক্তিযুদ্ধের গল্পনির্ভর ধারাবাহিক নাটক ‘ওরা আসবে’-তে। নাটকটি বিটিভিতে প্রচার হয়। অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংও করেছি বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র ও বিলবোর্ডে। এর মধ্যে জাজক শাড়ি, ডানো গুঁড়ো দুধ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। সেই সাথে র্যাম্প মডেল হিসেবেও কয়েকটি ফ্যাশন শো’তে পারফর্ম করি।’ মাহির চলচ্চিত্রে আসার গল্পটা ছিল এ রকম—নাটক ও বিজ্ঞাপনের কাজের জন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জ্যাজ মাল্টিমিডিয়ায় ছবি জমা দিয়েছিলেন তিনি। প্রথম দিন মাহিকে দেখে প্রযোজক শীষ মনোয়ার ও পরিচালক শাহীন বলেছিলেন, ‘মাহি, তোমাকে আমাদের পছন্দ হয়েছে; কিন্তু ভাইয়া, এত বেশি স্লিম হলে তো নায়িকা হওয়া যাবে না!’ আর মাহিকে ঠেকায় কে। সঙ্গে সঙ্গে সবার সামনে মাত্র এক সপ্তাহ সময় চেয়ে নিলেন। বললেন, ‘এখন থেকে এক সপ্তাহ পর আমাকে দেখবেন। তখন যদি আমি মোটা হতে পারি, তাহলে কিন্তু আমাকে সুযোগ দিতে হবে। প্রমিজ করেন।’ মেয়ের দৃঢ়তা দেখে সবাই অবাক। শীষ মনোয়ার বললেন, ‘ঠিক আছে। এক সপ্তাহ পর দেখা কোরো।’ সেদিন বাসায় এসেই অন্য রকম এক কাণ্ড ঘটালেন মাহি। যে মেয়ে একটা ডিম খেতে নাক সিঁটকাতেন, সেই তিনিই কিনা একে একে পাঁচটা সিদ্ধ ডিম খেয়ে ফেললেন! শুধু তা-ই নয়, মাকে জানিয়ে দিলেন, এখন থেকে প্রতিদিন সকালে পাঁচটি, দুপুরে দুটি এবং রাতে তিনটি সিদ্ধ ডিম খাবেন। মেয়ের কথা শুনে মা হাসলেন। ভাবলেন, এ পাগলামি দুদিনেই থেমে যাবে। কিন্তু মাহি তেমনটাই করলেন, যেমনটা বলেছিলেন। এক সপ্তাহে খানিকটা মোটাও হলেন। পরে ওই প্রযোজনা হাউসে মাহি আবার গেলে অভিনয়ের পরীক্ষা নেন তারা। মাহি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তখন তার স্বপ্ন পূরণে বাঁধ সাধেন বাবা-মা। মাহির বাবা-মা কখনোই চাননি তাদের মেয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় করুক। পরে অবশ্য উত্তরা কলেজের এক স্যারের সাথে পরামর্শ করে মাহি সিদ্ধান্ত নেন চলচ্চিত্রে কাজ করার। এবং নিজের ইচ্ছা বাবা-মাকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। উত্তরের জেলা শহর রাজশাহীর এই কন্যার বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। তার জীবনের সবচেয়ে পছন্দের মানুষ মাত্র পাঁচজন। তারা হলেন—বাবা, মা, জব, হাসান ও শাওন। তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম ছবি শাহীন সুমন পরিচালিত ‘ভালোবাসার রঙ’। ছবিটি প্রযোজনা করেছিল জাজ মাল্টিমিডিয়া। এরপর মুক্তি পায় শাহীন সুমন পরিচালিত ‘অন্যরকম ভালোবাসা’, জাকির হোসেন রাজুর ‘পোড়ামন’, পিএ কাজলের ‘ভালোবাসা আজকাল’ ও মনতাজুর রহমান আকবরের ‘তবুও ভালোবাসি’। এসব ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন বাপ্পী চৌধুরী, সাইমন, শাকিব খানের বিপরীতে। খুব শিগগিরই মুক্তি পাবে মাহি অভিনীত ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত ‘অগ্নি’ ছবিটি। এতে তার বিপরীতে আছেন আরেফিন শুভ। বর্তমানে তিনি জাকির হোসেন রাজুর ‘দবির সাহেবের সংসার’ ছবির শুটিংয়ে ব্যস্ত। মাহির ভবিষ্যত্ স্বপ্ন হলো বড় অভিনেত্রী হওয়া। যিনি হবেন সবার আইডল, আর তাকেই সবাই ফলো করবেন। মাহি নামটিকে দর্শকরা ভালোবাসবেন।
