জলবায়ু পরিবর্তনে দেশের কৃষি উত্পাদন হ্রাসের আশঙ্কা

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৮
২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় বর্তমানের তুলনায় ১১ শতাংশ পানি প্রবাহ হ্রাস পেতে পারে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের খরাপ্রবণ এলাকা রাজশাহীর নাচোলে প্রায় ৪০ শতাংশ পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের গড় কৃষি উত্পাদন প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কার কথা বলছেন গবেষকরা। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় অবস্থিত দরিদ্রতম দেশ বাংলাদেশ ও নেপালে ২০৫০ সাল নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানি প্রাপ্যতা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে যেমন শস্য উত্পাদনের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে তেমনি এ অববাহিকায় অবস্থিত দেশসমূহকে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে হবে। বাংলাদেশের সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এন্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও দি স্মল আর্থ নেপাল (এসইএন) যৌথভাবে পরিচালিত গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটির লক্ষ্য কৃষি পানি সম্পদ ও খাদ্য নিরাপত্তার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ এবং শস্য মৌসুমভিত্তিক মাঝারি পরিসরে অবিযোজন পদ্ধতির পূর্বাভাস দেয়া। বুধবার বাংলাদেশ ও নেপালের খাদ্য উত্পাদনের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনটি ভাগে বিভক্ত এ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ আলতাফ আলী। সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. ওয়াজি উল্লাহর সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিইজিআইএসের উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. মমিনুল হক সরকার। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিইজিআইএসের গবেষক ড. আহমাদুল হাসান, মোতালেব হোসেন সরকার, ড. চৌধুরী সালেহ আহমেদ ও নেপালের এসইএনের গবেষক ড. মদন লাল শ্রেষ্ঠা। শেখ আলতাফ আলী বলেন, গবেষণার ফল কৃষক ও সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনে ও সার্বিক উন্নযনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ড. মমিনুল হক সরকার বলেন, যে কোন গবেষণাই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এ গবেষণাপত্রটি ২০৫০ সালকে মাথায় রেখে করা হয়েছে। কিন্তু এর প্রাপ্ত ফলাফলকে ধরে এখন থেকেই কার্যক্রম শুরু করতে পারলে সেটা আমাদের উত্পাদনে ব্যাপক প্রভাব রাখতে সক্ষম হবে।