হ্যাকারদের আক্রমণে কেবল সাধারণ মানুষই নয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও রয়েছে হুমকির মুখে। সাইবার স্পেসের এসব হ্যাকারদের নিয়ে বলতে গেলে সবসময়ই আশংকায় থাকতে হয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও। এর আগে তাই এদের ঠেকাতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এবারে বলতে গেলে কাঁটা দিয়েই কাঁটা তোলার এক যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বেশকিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘হ্যাকারওয়ান’ নামের একটি প্রোগ্রামের আওতায় বিশ্বব্যাপী হ্যাকারদের সুযোগ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন ওয়েব বাগ সন্ধান করে নগদ অর্থ পুরস্কার জিতে নেওয়ার। বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ধরিয়ে দিয়ে পুরস্কার পাওয়া যাবে সর্বনিম্ন ৩শ ডলার থেকে শুরু করে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত। আর যদি অবিশ্বাস্য রকমের কোনো নিরাপত্তা ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তার পুরস্কারও নির্দিষ্ট অংক ছাড়িয়ে যাবে। হ্যাকারদের দিয়েই নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সন্ধান করে নেওয়ার এই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট রয়েছে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, গুগল, ইটসি এবং আইসেক পার্টনার। এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কয়েকজনকে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিচারক প্যানেল। এই প্যানেলই নির্ধারণ করবে হ্যকারদের খুঁজে পাওয়া নিরাপত্তা ত্রুটির মাত্রা। স্যান্ডবক্স, ওপেন এসএসএল, পাইথন, রুবি, পিএইচপি, জ্যাংগো, রেইলস, পার্ল, ফেব্রিকেটর, এনজিংক্স, অ্যাপাচি এইচটিটিপিডি এবং সার্বিকভাবে ইন্টারনেটে কোনো ধরনের বাগ বা নিরাপত্তা ত্রুটি ধরিয়ে দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে হ্যাকারদের প্রতি। একেক প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ত্রুটি উন্মোচনের জন্য অবশ্য আর্থিক পুরস্কারের পরিমাণ একেক রকম। যেমন, রুবি বা পিএইচপি প্ল্যাটফর্মের জন্য ন্যূনতম পুরস্কারের পরিমাণ দেড় হাজার ডলার। আবার স্যান্ডবক্সের জন্য এর পরিমাণ ন্যূনতম ৫ হাজার ডলার। হ্যাকারওয়ানের সাইটে (https://hackerone.com) বলা হয়েছে, হ্যকাররা চাইলে নিজেদের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখেও অংশ নিতে পারবে। হ্যাকারওয়ানের মাধ্যমে কোনো প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ত্রুটি বের হলে সেটা সেই প্ল্যাটফর্মকে জানিয়ে দেওয়া হবে। আর মাসখানেক পরে সকলের জন্য উন্মুক্ত একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হবে। ইন্টারনেটে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে এই বাউন্টি প্রোগ্রাম সহায়ক হবে বলেই ধারণা করছে এই উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।
