সংখ্যালঘু নির্যাতনকারীদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২১:০৫
বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারী ও হামলার নেপথ্যের হোতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আক্রান্তদের নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। যারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা হবে না। এ মর্মে নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকার দাবি জানিয়েছে দেশের মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু কয়েকটি সংগঠন। শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে বক্তারা এসব দাবি জানান। মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন ‘বাংলাদেশ মাইনোরিটি সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ সনাতন ধর্মীয় সম্মিলিত পরিষদ, বাংলাদেশ সচেতন হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট ও মানবাধিকার সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়াচ সোসাইটি’র নেতৃবৃন্দ। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, পাবনার সাঁথিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের মন্দির, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, দখলবাজি চলছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের ঘটনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু এসব সহিংস ঘটনা থেকে সংখ্যালঘুদের সরকার নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এমনকি সংখ্যালঘুদের ওপর একের পর এক হামলা হলেও, হামলাকারী ও এর মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সরকার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। তাই এ বিষয়ে সচেতন মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানান নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা-নির্যাতন, বৈষম্য, নিরাপত্তাহীনতা চিরতরে দূর করতে হলে অবশ্যই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বক্তারা বলেন, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে মুক্তিযুদ্ধের ৪ মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে অগ্রসর করতে হবে। কেননা বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানের সহযোগিতায় এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই দেশের সব নাগরিক রাষ্ট্রের সমান অধিকার ভোগের অধিকারী। তারা বলেন, এর আগে রামুতেও গুজব ছড়িয়ে বৌদ্ধপল্লীতে বর্বর হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু হামলাকারীদের আজও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। কয়েক মাস আগে একযোগে সারাদেশে কয়েকশ’ মন্দিরে হামলা হলেও, সরকার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কোথাও কোথাও হামলার আগাম বার্তা থাকা সত্ত্বেও হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন শেখ তারিকুল ইসলাম, ডা. রনজিত কুমার পাল, অ্যাডভোকেট মলয় সাহা, অ্যাডভোকেট অশোক কুমার রায়, ডেভিট ফোলিও, দিলীপ ভদ্র, অধ্যাপক হীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, জগদীস চন্দ্র সরকার, অ্যাডভোকেট. জে.কে পাল, অ্যাডভোকেট. প্রভাষ চন্দ্র তন্ত্রী, ড. বিশ্বনাথ সরকার, দেবব্রত সরকার, লায়ন সমীর দত্ত প্রমুখ।