শিশুর টিভি আসক্তি

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৩, ২২:৩৭
নাগরিক ব্যস্ত জীবনে বিনোদনের মাধ্যম সংকুচিত হয়ে আসছে। বিশেষত শিশুদের জন্য সুস্থ বিনোদন, সৃজনশীল কাজ, খেলাধূলার সুযোগ সীমিত। পারস্পরিক ভাব বিনিময়ের সঙ্গী ও সুযোগেরও অভাব। ফলে, শিশুর সময় কাটানো ও বিনোদন টিভি ও কম্পিউটার গেম-কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। অতিরিক্ত টিভি দেখা এক পর্যায়ে আসক্তির রূপ নিচ্ছে। এই আসক্তি শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটা এখন গবেষণালব্ধ ও স্বীকৃত তথ্য। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনি পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর বেশী সময় টিভি দেখার অভ্যাস বয়সকালে হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। টেলিভিশনের সামনে অতিরিক্ত সময় বসে থাকলে শারীরিক পরিশ্রম কম হয় এবং অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে, যার ফলশ্রুতিতে ওজন বাড়ে। ব্রিটিশ গবেষকদের গবেষণায় দেখা যায়, যারা ঘন্টার পর ঘন্টা টিভি দেখে, তাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার ঝুঁকি বাড়ে। খুব কাছ থেকে বা টানা টিভি দেখার ফলে চোখের সমস্যা, মাথা ব্যথা প্রভৃতি হতে পারে। টিভি দেখায় শিশু নিজস্ব ভাব বিনিময় করতে পারে না এবং একাধিক ভাষার অনুষ্ঠান দেখে বলে ভাষা শিখতে ও বলতে সমস্যা হয়। টিভি-আসক্ত অনেক শিশুর অমনোযোগিতা ও অতিচঞ্চলতা রোগ দেখা দিতে পারে। আত্মনিয়ন্ত্রণ, কল্পনাশক্তি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। মারামারি বা ধ্বংসাত্মক অনুষ্ঠান বেশী দেখার ফলে শিশুর যেমন উগ্র স্বভাব ও আচরণগত সমস্যা বা কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার হওয়ার আশংকা থাকে, অনেকে আবার পরিবেশ ও মানুষ সম্পর্কে ভীতি জন্মানোর ফলে সামাজিক পরিবেশে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। শিশুর টিভি-আসক্তি কমানোর জন্য অভিভাবককেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম হয়- এমন খেলাধূলার সুযোগ করে দিতে হবে। মানসিক বিকাশের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা যেমন, অক্ষর নিয়ে খেলা, ধাঁধাঁ প্রভৃতি শেখাতে হবে। শিশুকে সমবয়সীদের সাথে মেশার ও খেলার ব্যবস্থা করতে হবে। সৃজনশীল কাজ যেমন, নাচ-গান, অভিনয়, আবৃত্তি, ছবি আঁঁকা প্রভৃতির সুযোগ করে দিতে হবে। শিশুকে গল্পের বই পড়ে শোনাতে ও বইয়ের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। টিভি দেখার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে হবে। বাড়ির বড়দেরও টিভি দেখা কমাতে হবে। আমেরিকান একাডেমী অব পেডিয়াট্রিকসের মতে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের টিভি দেখতে না দেয়াই ভালো। দুই বছরের বেশী বয়সীদের দৈনিক সর্বোচ্চ দুই ঘন্টা বয়স-উপযোগী অনুষ্ঠান দেখতে দেয়া যেতে পারে। ডা: মুনতাসীর মারুফ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট