ফিলিপাইনে ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানে মৃতের সংখ্যা শতাধিক

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৩৯
স্থলভাগে আঘাত হানা বিশ্বের স্মরণকালের সবচেয়ে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হাইয়ানের আঘাতে ফিলিপাইনের ট্যাকলোবান শহরে অন্ততপক্ষে ১শ’ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোর ৫টায় ঘূর্ণিঝড়টি ফিলিপাইনে আঘাত হানে। প্রথমে আঘাত হানে পূর্বাঞ্চলের সামার দ্বীপে। আর যে এলাকাগুলো মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হচ্ছে তার মধ্যে আছে গুইয়ান। সেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করে যাদের অধিকাংশই জেলে। ঘূর্ণিঝড়টির আঘাতে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় এই শহরটি প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ফিলিপাইনের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের উপ-মহাপরিচালক ক্যাপ্টেন জন অ্যান্ড্রুজ এর উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন। প্রাণহীন দেহগুলো ট্যাকলোবানের রাস্তায় শায়িত ছিল বলে জানিয়েছেন অ্যান্ড্রুজ। শুক্রবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি ঘণ্টায় ৩৮৯ কিলোমিটার বেগে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে ৪৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসও উপকূলে আঘাত হানে, পাশাপাশি ৪শ’ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। বাতাসের এ প্রবল বেগে ট্যাকলোবান শহরের ভবনগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। শহরের প্রায় সব ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্গত এলাকার বিদ্যুত্ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার কালে ট্যাকলোবান শহরটি পানিতে ডুবে যায়। বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিমানবন্দর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরটিতে পৌঁছতে ত্রাণ সংস্থাগুলোর কর্মীদের রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে। ফলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি আরো অনেক বাড়তে পারে। শুধু সামরিক বিমানযোগে শহরটিতে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ড্রুজ।