কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আধুনিক চিকিত্সা সেবা

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৩, ২১:৫৫
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালটি ঢাকা সেনানিবাস এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হলেও এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। দেশের উন্নতর চিকিত্সাসেবা বঞ্চিত বিশাল জনগোষ্ঠীর একাংশের স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে তাদের জন্য হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। সাধারণ রোগী এটিকে সশস্ত্র বাহিনীর হাসপাতাল ভেবে চিকিত্সার জন্য ঐ হাসপাতালে তেমন যায় না। মুমূর্ষু কিংবা যে কোন রোগে আক্রান্তরা নিত্যদিন ঐ হাসপাতালটির সামনে দিয়ে জরুরি চিকিত্সাসেবার জন্য অন্য হাসপাতালে যাতায়াত করছে। অথচ হাতের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ও দৃষ্টিনন্দন ১২ তলা ভবন বিশিষ্ট কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ঐ সব রোগীদের দ্রুত চিকিত্সাসেবা দেয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা বলেছেন, যত দ্রুত সুচিকিত্সা সেবা মুমূর্ষু কিংবা যে কোন জটিল রোগীকে দেয়া যায় তবেই রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি কমে যায়। গতকাল শনিবার সরেজমিনে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপকালে তারা এবিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। তারা জানান, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হাসপাতালের চিকিত্সাসেবা প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় জনসাধারণের আধুনিক চিকিত্সাসেবা প্রদানেই আমাদের উদ্দেশ্য। অথচ জনসাধারণ হাসপাতালটির চিকিত্সা প্রদান সম্পর্কে অভিহিত নন। তাদের এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেনাবাহিনীর মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ হাসপাতালটি নির্মিত হয়েছে। ঢাকা মেগাসিটির উত্তরাঞ্চলের মহাখালী এলাকা থেকে শুরু করে খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, উত্তরা, গাজীপুর, টঙ্গী, আশুলিয়া ও সাভারসহ আশপাশের জনসাধারণের উন্নতর সুচিকিত্সা সেবার আওতায় আনায়নের লক্ষ্যে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করা হয় বলে পরিচালক জানান। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি হাসপাতালের ন্যায় ঐ হাসপাতালটিতে চিকিত্সাসেবা দেয়া হয়ে থাকে। জরুরি বিভাগ ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। ১৫টি আধুনিক অপারেশন থিয়েটার বিশিষ্ট ওটি কমপ্লেক্স, ৫২ শয্যা বিশিষ্ট আইসিইউ, ৭২ শয্যার পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ, ২৮ শয্যার সিসিইউ, ৬টি ভিভিআইপিসহ ৬০টি উন্নতমানের কেবিন। পোড়া ও ঘটনা দুর্ঘটনা আহতদের রয়েছে পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সা ব্যবস্থা। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল ২টি বেজমেন্টসহ ১২ তলা ভবনে রয়েছে ৫শ শয্যা। এটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতাল। সব ধরনের সুচিকিত্সা ব্যবস্থা রয়েছে ঐ হাসপাতালে। মরচুয়ারিসহ ২শ যানবাহন রাখার আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশন ও রেডিসন হোটেলের উল্টো দিকে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। উপ-পরিচালক কর্নেল জালাল উদ্দিন ও সহকারী পরিচালক লে. কর্নেল শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, রোগীদের স্ব স্ব বিভাগে যাওয়ার এবং চিকিত্সা গ্রহণের রয়েছে আধুনিক ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহ বলেন, অসহায় ও দরিদ্রদের জন্য রয়েছে বিনামূল্যে সুচিকিত্সা ব্যবস্থা। রোগীদের যাতায়াতে বাসস্ট্যান্ড ও ফুটওভার ব্রীজ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বছর ১৩ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে কুর্মিটোলা হাসপাতালটি চিকিত্সা সেবার কার্যক্রম চালু করা হয়।