কলকাতায় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব। জমকালো উদ্বোধনীর পর তারকা মেলা আর চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর নানা অনুষঙ্গে এখন বলিউড-টলিউড-ঢালিউড মিডিয়ার ফোকাস যেন এদিকটাতেই অনেকখানি। দেশীয় একাধিক চ্যানেলের ক্যামেরাও গিয়েছে সেখান থেকে ধারণকৃত রিপোর্ট প্রচারের কাজে। বিনোদন প্রতিদিন-এর পাঠকদের জন্য নিয়মিত এ ফেস্টিভ্যাল নিয়ে কলকাতা থেকে লিখছেন নাহিদ হোসেন
অপেক্ষার শেষ, অপেক্ষার শুরু, মূল অনুষ্ঠান শুরু হতে তখনও ঘণ্টা কয়েক বাকি। কিন্তু কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের চারপাশে মানুষ গিজ গিজ করছে। আর ভেতরে ঢাকের আওয়াজ যেন তাদের আনন্দটাও বাড়িয়ে দিচ্ছিল বহুগুণ। সবার চোখে মুখেই অদ্ভুত এক অপেক্ষা। যেন বহু আকাঙ্ক্ষিত কিছু একটা পাবেন তারা। আর সেজন্যই চাতক পাখির মতো দাঁড়িয়ে আছেন। স্টেডিয়ামের গেট যখন খুলে দেওয়া হলো তখন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৩টা। সবগুলো গেট দিয়ে ঢুকছেন দর্শকেরা। আর মূল গেট দিয়ে ঢুকছেন সেলিব্রেটিরা। তাপস পাল, রচনা ব্যানার্জি, শুভশ্রী, সায়ন্তিকা, আবির, নচিকেতা, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রিমঝিম, মৌসুমী নেই। তাদের চোখেমুখেও একই অপেক্ষা। পাঠক ভাবছেন কীসের অপেক্ষা? এবার খোলাসা করি। পর্দা উঠবে ১৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সব, আর সেখানে থাকবেন স্বয়ং অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, কমল হাসান, মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিত্ টালিউড-বলিউড মহাতারকারা। সাড়ে পাঁচটার দিকে দেখা মিলল অমিতাভ বচ্চনের। স্বভাবসুল হাসি আর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাথে খুনসুটি করেতে করতেই আসনে বসলেন। সাথে ছিলেন কমল হাসানও। মিঠুন চক্রবর্তী, প্রসেনজিতরাও হাজির। তখনও দেখা মেলেনি কিং খানের। এর মধ্যেই শুরু হলো মঞ্চ মাতানো পরিবেশনা। একঝাঁক নৃত্যশিল্পী আলো-আঁধারির মঞ্চে একের পর এক নৃত্য পরিবেশনা করছেন। হঠাত্ করেই স্ক্রিনে দেখা মিলল কিং খানের। তখন মুহুর্মুহু করতালি আর শিস। শাহরুখও মাথা ঝুঁকে জবাব দিলেন। পরিবেশনার পর এবার মঞ্চে ওঠার পালা। সবাই একে একে মঞ্চে তুললেন। মমতা ব্যানার্জি নিজেই দৌড়ে দৌড়ে অনেককে হাত ধরে টেনে নিয়ে আসছেন। ততক্ষণে মঞ্চে এসে পড়েছে মঙ্গল প্রদীপ। টালিউেডর জনপ্রিয় নায়িকা শুভশ্রী এলেন বিশেষ ভূমিকায়। তিনিই নিয়ে এলেন মোমবাতি। একে একে আমন্ত্রিত সবাই সেই মোমবাতির বহ্নিশিখায় জ্বালালেন মঙ্গল প্রদীপ। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের আলো যেন আলোকিত করল গোটা কলকাতা শহরকে। এরপর মাইকে এলেন শাহরুখ খান। বললেন, ‘কলকাতার সিনেমা এখন পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক সিনেমার সঙ্গে। আর একে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা দরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং টালিউড তা-ই করছে।’ অমিতাভ বচ্চন মাইকে এসে কথা বললেন প্রায় ত্রিশ মিনিট। তিনি যে বাংলা সিনেমা সম্পর্কে কতটা জানেন তা বুঝা গেল এই বক্তব্যে। বাংলায় প্রশংসা করতে গিয়ে আবৃত্তি করে শোনালেন ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি’। আলোচনার পর সবাই আবার মঞ্চ ছেড়ে দর্শকসারিতে। আর তখনই মঞ্চ অন্ধকার। পর্দায় ভেসে উঠল ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘সানগ্লাস’ ছবির হিন্দি ভার্সন ‘তাক ঝাঁক’। প্রয়াত এই নির্মাতাকে এবারের উত্সবে দেওয়া হয়েছে স্পেশাল ট্রিবিউট। এই নির্মাতার প্রতি সম্মান জানিয়েই শুরু হলো এই উত্সব। ৬৩টি দেশের ১৮৯টি চলচ্চিত্র নিয়ে এই উত্সব চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবার একে একে সেই চলচ্চিত্র দেখার অপেক্ষা শুরু।
