টেন্ডুলকার জ্বরে এবার কাঁপছে মুম্বাই

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০১৩, ২২:০০
শচীন টেন্ডুলকারের বিদায়ী টেস্টের সাক্ষী হতে ভক্তদের উন্মাদনার মাত্রাটা টের পাওয়া যাচ্ছিল আগে থেকেই। টিকেট প্রার্থীদের হাঙ্গামা এড়াতে তাই আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া মুম্বাই টেস্টের টিকেট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয় মুম্বাই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন (এমসিএ)। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তাতেও। মাত্রাতিরিক্ত চাপ সইতে না পেরে বিক্রি শুরুর প্রায় সাথে সাথেই বিকল হয়ে পড়ে এমসিএ নির্ধারিত ওয়েবসাইটটি। এদিকে অনলাইনে টিকেট বিক্রির এ সিদ্ধান্তের কারণে এমসিএকে পড়তে হয়েছে সমালোচনায়ও। খেলোয়াড়টি যখন শচীন আর ভেন্যু যখন ভারতেরই কোন শহর তখন শচীনকে নিয়ে বাড়তি উত্তেজনা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে গত মাসে শচীন যখন জানিয়ে দেন ক্যারিবিয়দের বিরুদ্ধে দুই টেস্টের এই সিরিজ শেষেই বিদায় জানাবেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে তখন সেই উত্তেজনা পরিণত হয় উন্মাদনায়। ইডেন গার্ডেনে প্রথম টেস্টে সমর্থকদের আবেগের উপচে পড়া বহি:প্রকাশ নিশ্চিত করে টেন্ডুলকারের ঘরের মাঠে এর চেয়ে বেশি কিছুই অপেক্ষা করছে। এর পাশাপাশি যুক্ত হয় টিকেটের অপ্রতুলতা। ওয়ানখেড়ের গ্যালারির অধিকাংশ আসনই সংরক্ষিত থাকায় এবং অবশিষ্ট টিকেটের অধিকাংশই বিভিন্ন ক্লাবকে দিয়ে দেয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ৩৫০০ টিকেট। স্বল্প সংখ্যক টিকেটের বিপরীতে বিপুল পরিমাণ শচীন ভক্তের কথা চিন্তা করে সম্ভাব্য ঝামেলা এড়াতে স্টেডিয়ামের মূল টিকেটে কাউন্টারগুলোতে টিকেট বিক্রি না করে গত রোববার এমসিএ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দ্বিতীয় টেস্টের টিকেট দেয়া হয়েছে অনলাইন প্রতিষ্ঠান কায়াজুঙ্গা ডট কমকে। তবে গতকাল সোমবার বেলা এগারোটায় টিকেট বিক্রির নির্ধারিত সময়ে ঐ ওয়েবসাইটে ঢুকে ভক্তদের কেবল হতাশই হতে হয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে বিক্রি শুরুর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই বিকল হয়ে পরে ওয়েবসাইটটি। এর আগেই অবশ্য যারা শেষ মুহূর্তে জানতে পারেননি কিংবা যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই এমন মানুষ কিভাবে টিকেট সংগ্রহ করবেন এমন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এমসিএকে। সমালোচনার জবাবে অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রবি সাভান্ত বলেন, ‘আমাদের চুক্তি অনুযায়ী আমরা প্রথমে আমাদের ক্লাবগুলোকে টিকেট দিয়েছি। তারপর জিমখানাগুলোতে এবং সর্বশেষ গারওয়ার ক্লাব হাউসকে। এই ক্লাবগুলো পরে টিকেট তাদের সমর্থকদের কাছে বিক্রি করবে। সুতরাং, আমরা ভিন্নভাবে হলেও জনগণের মুখপাত্রের কাছে টিকেট পৌঁছেছি।’ যাদের ইন্টারনেট সংযোগ নেই তারা কিভাবে টিকেট পাবে এমন প্রশ্নের জবাবে রবি বলেন, ‘আমি সমস্যাটা বুঝতে পারছি। কিন্তু সবাইকে সন্তুষ্ট করা তো সম্ভব নয়। যদি আপনার ধারণ ক্ষমতা হয় ৩০ হাজার আর সেখানে চাহিদা হয় ৩০ লাখের তাহলে তো আমি সবাইকে টিকেট দিতে পারবো না। আর পাঁচ হাজার টিকেট আমাদের টিকেট কাউন্টারগুলোর মাধ্যমে বিক্রি করলে কোন সন্দেহ নেই সেখানে বড় ঝামেলা হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি আমি ত্রিশ হাজার টিকেটও এভাবে দেই তাহলেও একই ব্যাপার ঘটবে।’ এদিকে কায়াজুঙ্গা জানিয়েছে , অচীরেই পূনরায় টিকেট বিক্রি শুরু করতে যাচ্ছে তারা। উল্লেখ্য, প্রায় ৩২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামের প্রায় ১৩ হাজার টিকেটই চুক্তি অনুযায়ী এমসিএ দিয়েছে গারওয়ার হাউজ এবং টাটাকে। এরপর বিসিসিআই স্পন্সর, নিজস্ব স্পন্সর এবং টেন্ডুলকারকে ৫০০ টিকেট দেয়ার পর নিজেদের বিক্রি করার মতো এমসিএ’র হাতে কেবল পাঁচ হাজার টিকেটই ছিল। সেখান থেকে দেড় হাজার টিকেট বিদেশি অতিথিদের জন্য রেখে দেয়ার পর স্থানীয় দর্শকদের কেবল এই সাড়ে তিন হাজার টিকেট দিতে পারছে মুম্বাই কর্তৃপক্ষ।