সরকারি তিতুমীর কলেজ

৫৫ হাজার শিক্ষার্থীর ক্যাম্পাস

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:১১
ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত মানুষ হতে হবে। নিজেকে জ্ঞানী-গুণী মানুষ হিসেবে তৈরি করে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত রাখতে হবে। যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে হবে। পৃথিবীর মানচিত্রে এ দেশকে উজ্জ্বল করে তুলতে হবে। -ড. দিলারা হাফিজ অধ্যক্ষ, সরকারি তিতুমীর কলেজ উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করে যারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিভিন্ন কলেজে অধ্যয়ন করার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন তাদের পছন্দের তালিকার প্রথমদিকেই সরকারি তিতুমীর কলেজ। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিকতাসহ সকল ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের প্রিয় ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে কলেজটি। অর্ধ লক্ষেরও বেশি ছাত্রছাত্রী নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরা কলেজে পরিণত হয়েছে সরকারি তিতুমীর কলেজ। ১৯৭২ সালে শুধু বাংলা ও রসায়ন নিয়ে স্নাতক সম্মানের কার্যক্রম শুরু হলেও তা বিস্তৃতি লাভ করে এখন ১৯টি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির বিষয়গুলো হলো— বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা, পদার্থবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণিবিদ্যা, গণিত, সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, ইসলামী শিক্ষা, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং ও মার্কেটিং। মাস্টার্স প্রথম পর্বের পাঁচটি বিষয়— ইংরেজী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, গণিত এবং বাকি ১৪ টি বিষয়ে মাস্টার্স শেষ পর্বের কোর্স চালানো হয়। এছাড়া শিফট অনুযায়ী ডিগ্রি কোর্সেরও শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তিতুমীর কলেজ। গুলশান থানার অধীনে মহাখালীতে ১৯৬৮ সালে জিন্নাহ কলেজ নামে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে তা তিতুমীর কলেজ নামে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে ৫৫ হাজার ছাত্রছাত্রী, ১৫১ জন শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়ে সকাল ৮.৪৫ থেকে বিকাল ৪.০০ পর্যন্ত দুই শিফটে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালাচ্ছে কলেজটি। প্রায় ২৪ হাজার বিভিন্ন ধরনের পাঠ্য বইসহ অন্যান্য বইয়ের সমারোহ নিয়ে একটি লাইব্রেরি আছে। ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক ও সাংস্কৃতিক কাজের সহায়তার জন্য আছে ১০ টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের ল্যাব, তথ্য-প্রযুক্তির জন্য কম্পিউটার ল্যাব, ৪টি সেমিনার রুম, শরীর চর্চা কক্ষ ও চিকিত্সা কেন্দ্রসহ আছে একটি বিশাল অডিটরিয়াম। ছাত্রছাত্রীদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য বর্তমান অধ্যক্ষের উদ্যোগে একটি মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি ফটো গ্যালারি স্থাপন করা হয়েছে। তবে কিছু সমস্যা ও সীমাব্ধতার কথাও উঠে আসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ছাত্র মাহমুদুল হক জুয়েল অভিযোগ করেন, ‘আমরা হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এখানে অধ্যয়ন করি। এখানে ৫৫ হাজার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মাত্র তিনটি হল। ছাত্রদের একটি ও ছাত্রীদের দুটি যার শিক্ষার্থী ধারণ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০০। যা শিক্ষার্থীর তুলনায় কিছুই না। কর্তৃপক্ষের কাছে এ সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ারও আহবান জানান এ ছাত্র।’ ফারজানা লোপা। রসায়ন বিভাগের ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি মিরপুর থেকে আসি। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে বাসে উঠলেও বসার জায়গা পাই না। আবার জ্যামে পড়লে মাঝে মাঝে ক্লাসও মিস করতে হয়। শুধু আমিই না। আমার মতো যারা বাহির থেকে বাসে যাতায়াত করে তারা সবাই এ সমস্যার মুখোমুখি হয়। এ বিশাল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি মাত্র বাস পরিবহন সুবিধা দিয়ে থাকে। যা শিক্ষার্থীদের চাহিদার তুলনাই খুবই নগণ্য।’ এদিকে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. দিলারা হাফিজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়ে বলেন, ‘আমরা এসব সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। আশাকরি সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ইতিবাচক সাড়া পাব। তাছাড়া ক্যাম্পাস সংলগ্ন রাজউকের কিছু খালি জায়গা আছে। আমরা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য রাজউকের কাছে কিছু জায়গা চেয়েছি। তারা আন্তরিক হলে আমরা আমাদের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের কাজ শুরু করতে পারব।’