পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করল এক অনন্য শিক্ষা সফর। স্থানটি ছিল দেশের অন্যতম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। এখানে দাঁড়িয়ে এক সাথে সূর্য উদয় ও অস্ত দেখা যায়। রাত প্রায় ১টার দিকে যাত্রা শুরু হল। সাথে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বনায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আলমগীর কবির। গাড়ি ছাড়ার পর গানের পালা শুরু হল। প্রথমে শাহজালাল, মাইদুল, রাম, সাগর, শাওন, আরিফ, ব্যাসদেব, নাহিদ, সনিয়া, নিলিমা, সুবর্না, নিপা, রিয়াজুল, কুনতুলি, মাহফুজা, সাইমুন, অনু, সঞ্চিতা হইহুল্লুর করে গলা ফাটিয়ে গান গাওয়া শুরু করল। তারপর শুরু হল গানের ধাধা। আনন্দের নতুন মাত্রা যোগ হল সকলের মনে। এভাবে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে আমরা ভোর ৪টায় পৌঁছলাম আমাদের গন্তব্যে। আগে থেকে বুকিং দেয়া হোটেলে উঠে যার যার মত করে ব্যাগ রেখে বের হল মোটর সাইকেল যোগে সূর্যোদয়ের অপরূপ দৃশ্য অবলোকন করার জন্য। সেখানে মজার দৃশ্যগুলো ক্যামেরা বন্দি করা হল।
সাগরের পানিতে দু’পা ভিজাতেই মন আনন্দে ভরে উঠল। এরপর আস্তে আস্তে হাঁটু পানিতে গলা পানিতে নামতে শুরু করল সবাই। সাগরের ঢেউয়ে গা ভেজাতে অন্য রকম অনুভূতি। কখনও কখনও হঠাত্ ঢেউ এসে অনেক দূরে নিয়ে যায়। কেউ কেউ আবার ফুটবল নিয়ে খেলতে শুরু করল। কেউ নিল লাইফবায়ার, ক’জন আবার তীরে মোটর সাইকেল চালাতে লাগল। কখনও আবার অনেক জন ভেজা অবস্থায় বসে বিভিন্ন খেলার আসর পাতল। সবাই প্রায় তিন ঘন্টা পানিতে মজা করল।
এবারের আমেজটা ছিল একটু অন্য রকম। শত শত পর্যটকের ভিড় সমুদ্র সৈকতে। সবাই এক অপলক দৃষ্টিতে সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করল। এবার হোটেলে এসে ফেরার পালা। প্রত্যেকে নিজ নিজ ব্যাগ গুছিয়ে গাড়ির দিকে রওয়ানা হল। সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটের দিকে গাড়ি ছাড়ল ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে। আবার শুরু হল হৈই-হুল্লুর, সবাই গলা চেচিয়ে গান ধরল। রাতের খাবারটা শেরে নিলাম যাত্রা বিরতি করে আমতলী। আবার যাত্রা শুরু হল। এবার সবাই অনেক ক্লান্ত। রাত ১০.৩০ মিনিটে গাড়ি পৌঁছল প্রিয় ক্যাম্পাসে। এবার সবাই বিদায় নিয়ে যার যার মত চলে গেল হলে। এভাবেই শেষ হল দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের সফল ট্যুর। ট্যুর শেষ হলেও ট্যুরের স্মৃতি শেষ হবে না কোন দিনই, ভাস্বর হয়ে থাকবে প্রত্যেকের হূদয়ে।
