নাঈমা সুলতানা। পড়াশুনা করেন উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্সি বিভাগে। পড়ালেখায় খুব ছোট বেলা থেকেই অনন্য। নাঈমা শুধু নিজ বিভাগে নয়, পুরো অনুষদে অনন্য ফলাফল করায় পরিচিতি ক্যাম্পাস জুড়েই। আজকের প্রিয়মুখ তাই নাঈমা সুলতানা। খুব ছোটো বেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি দারুণ মনোযোগী নাঈমা। প্রত্যেক পরীক্ষায়ই ভালো ফলাফল যেন ডালভাত। পঞ্চম শ্রেণীতে টেলেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে অষ্টম শ্রেণীতেও টেলেন্টপুলে বৃত্তি পান নাঈমা। এসএসসি সমমান পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে মাদরাসা বোর্ডে মেয়েদের মধ্যে দ্বিতীয়স্থান লাভ করেন। এছাড়া এইচএসসিতে রাজশাহী মসজিদ মিশন একাডেমি থেকে বোর্ড বৃত্তি পান তিনি। এরপর উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা অনুষদের ফার্সি বিভাগে। বিভাগে পড়ালেখায় কখনোই কেউ তাকে হারাতে পারেনি। প্রতিটি বর্ষে প্রথমস্থান যেন নাঈমার জন্য নির্ধারিত। এভাবেই বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে অনার্স শেষ করেন। পুরো কলা অনুষদে প্রথমস্থান অর্জন করায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-ইউজিসির বৃত্তি পান নাঈমা। একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মাস্টার্সেও প্রথম হওয়ার পাশাপাশি ভাষা বিভাগের সববিভাগের মধ্যে প্রথম হন। এছাড়া আরবী, ফার্সি ও উর্দূ ভাষার সার্টিফিকেট কোর্সেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। এমফিল গবেষণারত নাঈমা এমফিল কোর্সে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপও পেয়েছেন। বাবা প্রফেসর ডক্টর নকিবুল্লাহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক। পড়ালেখায় বরাবর শীর্ষে থাকা নাঈমার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে বাবার মতই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। দুই ভাই, এক বোনের মধ্যে সবার বড় নাঈমা তার ভবিষ্যত্ স্বপ্নে একবিন্দুও ছাড় দিতে চান না। তাই সব সময় পড়ালেখায় সিরিয়াস থেকেছেন। নাঈমা জানান, তার পড়ালেখার পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন বাবা ও নানা। তাদের নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণাই সব সময় ভালো ফলাফলে তাকে প্রেরণা জুগিয়েছে। আদর্শ শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্যে অবিচল নাঈমা জীবনের সবক্ষেত্রেই সফল হবে এমনটাই প্রত্যাশা বন্ধু, শিক্ষকসহ তার সব শুভাকাঙ্ক্ষীর।
