ভাবনার পালাবদল

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:১৮
অভিনয়ের সাথে তার সখ্যতা হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের একটু বাড়তি আগ্রহ পেয়েছেন নওশাবা। সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে তার কাজের ধারাও। অভিনয় নিয়েই তার এখনকার সব ভাবনা। বর্তমানে তার তিনটি ধারাবাহিক নাটক প্রচার হচ্ছে। তাকে নিয়ে লিখেছেন অজেয় জৌধুরী ও ছবি তুলেছেন আশীষ সেনগুপ্ত একজন ভালো অভিনয়শিল্পীর বড় গুণ হলো শেখার মানসিকতা। এই ধারার শিল্পীদের মধ্যে নওশাবাকে একটু এগিয়েই রাখতে হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় করে দর্শকদের ভালোবাসা অর্জনের পরও এই অভিনেত্রী এখনও নিজেকে অভিনয়ের শিক্ষার্থী ভাবতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আর তার এই মানসিকতার কারণেই সমসাময়িক অন্যদের থেকে তাকে সহজেই আলাদা করা যায়। নিজের ভাবনার এই ভিন্নতা নিয়ে এভাবেই বললেন নওশাবা, ‘আমি যেহেতু অভিনয় শিখে এসে টিভি নাটকে কাজ করার সুযোগ পাইনি, তাই অভিনয় করতে করতেই আমাকে তা শিখতে হয়েছে। আমি একটি নাটকে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি, তা-ই পরবর্তী নাটকে কাজে লাগাই। আর আমার এই অভিনয় শেখার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করছেন আমার সিনিয়র শিল্পীরা। আমি কাজ করতে গিয়ে একেকজনের কাছ থেকে অভিনয়ের বিভিন্ন বিষয় রপ্ত করেছি। সত্যি বলতে কি, অভিনয়টা আসলে অবজারবেশনের বিষয়। আমি প্রতিনিয়ত নানা রঙের মানুষ দেখে তাদের মাঝ থেকেই নিজের অভিনীত চরিত্রের বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করি। তবে বেশিরভাগ সময়ই চেষ্টা থাকে নিজের চরিত্রগুলোকে একটু আলাদাভাবে উপস্থাপনের।’ ক্যামেরার পেছনের কাজ দিয়ে মিডিয়ায় যাত্রা শুরু করেন নওশাবা। অমিতাভ রেজার প্রোডাকশন হাউস হাফ স্টপ ডাউনে কাজ করেছিলেন কিছুটা সময়। ক্যামেরার পেছনেই থাকার ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু অভিনয়টা তাকে টানত চুম্বকের মতো। সেই আকর্ষণেই ‘সিসিমপুর’-এ কাজ শুরু করেন নওশাবা। ‘সিসিমপুর’-এর জনপ্রিয় চরিত্র ‘ইকরিমিকরি’র ভূমিকায় দীর্ঘ ছয় বছর ধরে কণ্ঠ দিচ্ছেন নওশাবা। কিন্তু অভিনয়ের প্রতি যার অদম্য প্রেম তাকে তো একদিন ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়াতেই হয়। গুণী বিজ্ঞাপন নির্মাতা কিসলুর হাত ধরে বাংলালিংকের একটি বিজ্ঞাপনে নওশাবা প্রথম ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়ালেন। শুরু হলো নওশাবার অভিনেত্রী অধ্যায়। কাজ করলেন বাংলালিংক, গ্রামীণফোন, বিবিসি, টেলিটক, আরএফএল সোফা, হ্যামিডেন্ট চুইংগামের বিজ্ঞাপনচিত্রে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি দর্শকদের নজর কাড়লেন। তার মেধাকে মূল্যায়ন করে এগিয়ে এলেন গুণী নির্মাতারা। তার অভিনীত প্রথম নাটক ‘ছোটবেলা বড়বেলা’। আর জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ললিতা’ তার প্রথম ধারাবাহিক নাটক। এই নাটকে তিনি পতিতার চরিত্রে অভিনয় করেন। নওশাবা অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে—‘ললিতা’, ‘ঈদ ভেকেশন’, ‘গরুর মূল্য সত্তর হাজার টাকা’, ‘সুমনের একদিন’ ‘রূপকথা’, ‘সবুজ নক্ষত্র’, ‘সাতকাহন’, ‘গহীনে’, ‘মিঠাহাঁড়ি’, ‘রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ’, ‘আউট অব কন্ট্রোল’, ‘রাইট অর রং’ প্রভৃতি। বর্তমানে তিনটি চ্যানেলে প্রচার হচ্ছে নওশাবা অভিনীত তিনটি ধারাবাহিক নাটক। এগুলো হলো—এনটিভিতে ‘ভালোবাসার চতুস্কোণ’, বাংলাভিশনে ‘অ-এর গল্প’ এবং এসএ টিভিতে ‘কাম টু দ্য পয়েন্ট’। বর্তমানে ব্যস্ততা বেশ কিছু নাটকের শুটিং নিয়ে। এরইমধ্যে চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছেন নওশাবা। সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘উধাও’, যার ইংরেজি টাইটেল ‘রানঅ্যাওয়ে’। অমিত আশরাফ পরিচালিত অ্যাকশন থ্রিলার এই চলচ্চিত্রটি দেশের বাইরে বিভিন্ন উত্সবে অংশ নিয়ে নামও কামিয়েছে বেশ। এই ছবিতে নওশাবা ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন অনিমেষ আইচ, শাহেদ আলী, ঋতু সাত্তার, শাহিন আক্তার ও মনির আহমেদ। এই চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে নওশাবা বলেন, ‘এই ছবির গল্প বাবু নামের এক রিকশাওয়ালাকে কেন্দ্র করে। তার জীবন দর্শন, কামনা-বাসনা, এমনকি তার জীবনযুদ্ধও এতে উঠে এসেছে। সুইডেনে অনুষ্ঠিত গোটেবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি প্রথম প্রদর্শিত হয়। ছবিটি মোট ২০টি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণ করে নমিনেশন পেয়েছে ১০টিতে। যার মধ্যে ৭টিতেই পুরস্কার জিতেছে। এ ছাড়া গ্রান্ট পেয়েছে দুটি—গোটেবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ও পিআইএফভিএ। এ রকম একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’ সম্প্রতি নওশাবা শেষ করলেন রুবাইয়াত হোসেনের পরিচালনায় ‘আন্ডার কন্সট্রাকশন’ ছবির কাজ। অভিনয় নিয়ে আগামীর ভাবনার কথা জানতে চাইলে নওশাবা বলেন, ‘এখন অভিনয়ই আমার সবকিছু। আমি অভিনয় নিয়েই থাকতে চাই আগামীতেও।’