দ্য কাউন্সিলর—নামটি শুনলেই চোখের পর্দায় ভেসে ওঠে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গোলটেবিলে বসা গম্ভীর কিছু মানুষের মুখ। কিন্তু সদ্য মুক্তি পাওয়া হলিউডি সিনেমা ‘দ্য কাউন্সিলর’ মোটেও এমন নয়। সিনেমাটিতে রয়েছে প্রেম আর মাফিয়া অ্যাকশন। হলিউডের বাঘা বাঘা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে নির্মিত এ সিনেমাটির কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম
‘দ্য কাউন্সিলর’-এর গল্পটি মেক্সিকোর নামী একজন ব্যক্তিকে নিয়ে, যাকে সেসময় সবাই কাউন্সিলর হিসেবে মানতো। গল্পের শুরুটা হয় একটি প্রেমের ঘটনা দিয়ে। কাউন্সিলর (ফ্যাসবেন্ডার) প্রচণ্ড ভালোবাসে লরাকে (পেনোলোপে)। মেক্সিকোর কোকেন ব্যবসায়ী কাউন্সিলর। এই অবৈধ ব্যবসা দিয়েই সে গড়ে তুলেছে তার আধিপত্যের সাম্রাজ্য। তবে কাউন্সিলর খুব বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিল না কখনোই। সাধারণ জীবনযাপনই পছন্দ করেছে সব সময়। বেশ সুখেই কাটছিল কাউন্সিলর ও লরার জীবন। কিন্তু ভাগ্য মনে হয় তাদের ব্যাপারে খুশি ছিল না।
একদিন কাউন্সিলরের মনে হয় লরাকে তার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দেওয়া উচিত। এ কথা ভেবে সে অ্যামস্টারডাম পাড়ি জমায় একজন ডায়মন্ড ব্যবসায়ীর সাথে দেখা করতে। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল, ডায়মন্ড রিং কিনে তারপর লরাকে প্রস্তাব দেবে। কিন্তু সবাইকে বলে গিয়েছিল যে, সে ব্যবসার কাজে যাচ্ছে। সেখানে গিয়ে পেন্টহাউজের এক পার্টিতে যায় সে, যেখানে বড় বড় ড্রাগ ডিলারের আসা-যাওয়া রয়েছে। সেখানেই পরিচয় হয় রেইনার (বারদেম) ও তার স্ত্রী মালকিনার (ক্যামেরুন ডিয়াজ) সাথে। রেইনারের সাথে কাউন্সিলরের আড্ডার একপর্যায়ে কিছু ব্যবসায়িক কথাবার্তা শুরু হয়। কিন্তু এ আলাপ বেশিদূর এগোয় না, কারণ রেইনার একসময় কাউন্সিলরের ক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করে। রেইনারের দাবি হলো কাউন্সিলরের চেয়ে তার ক্ষমতা বেশি। আলাপ অসমাপ্ত রেখেই রেগে কাউন্সিলর রেইনারের সামনে থেকে চলে যায়। এরপর ফিরে আসে দেশে, মেক্সিকোতে। ফিরে লরাতে বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং লরা রাজিও হয়। বেশ কিছুদিন খুব সুন্দর কাটে তাদের। কিন্তু কাউন্সিলর রেইনারের সেই অপমানের কথা ভুলতে পারে না। ক্ষমতার লড়াইয়ে জেতার নেশা চাপে তার। সে ড্রাগ ডিলারের নেতার সাথে গিয়ে দেখা করে। সব শুনে ড্রাগ ডিলারদের নেতা ওয়েস্টরি (ব্র্যাড পিট) তাকে নিষেধ করে এমন ক্ষমতার যুদ্ধে জড়াতে। কিন্তু কোনো কথা শুনতে রাজি হয় না কাউন্সিলর। আর এখান থেকেই তার মন্দ ভাগ্যের সূচনা হয়। ধীরে ধীরে জটিল ধাঁধার সাথে জড়িয়ে পড়ে সে। নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়তে হয় তাকে। তার জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। একসময় সবকিছু ছেড়ে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টা করে কাউন্সিলর। কিন্তু ফিরে আসার কোনো সহজ রাস্তা পায় না সে। কারণ এরমধ্যে তার প্রেমিকা লরাও তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তাকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে কাউন্সিলর। এভাবেই এগিয়ে চলে সিনেমার গল্পটি। তবে সিনেমার এই পর্যায়েও কিছু টুইস্ট রেখেছেন পরিচালক।
আর এমন টানটান উত্তেজনার গল্পটিকে সিনেমায় প্রাণবন্ত করতে এতে অভিনয় করেছেন হলিউডের বিখ্যাত সব তারকামুখ। এ তালিকায় মধ্যে আছেন পেনোলেপে ক্রুজ, ক্যামেরুন ডিয়াজ, জেনিফার লরেন্স, ব্র্যাড পিট, ব্র্যাডলি কুপার, হ্যাভিয়ার বার্দেমের মতো অভিনয়শিল্পীরা। সিনেমাটি মুক্তির পরপরই উঠে এসেছে হলিউডের
সাম্প্রতিক টপ চার্টে।
