আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন (সদর উপজেলা) থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিএনপি নেতারা বলছেন, সব দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত। অপরদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি আগামী নির্বাচনে তাদের দলীয় প্রার্থীই বিজয় লাভ করবে। ধানের শীষের দুর্গ বলে পরিচিত জেলার চারটি আসনই গত নির্বাচনে ছিনিয়ে নেয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু নানা ইস্যুতে এবার নৌকার স্রোত বিপরীতমুখী হতে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।
কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ও সাবেক এমপি কেএম আব্দুল খালেক চন্টু’র নাম শোনা যাচ্ছে দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান। কেন্দ্রেও রয়েছে অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের শক্ত অবস্থান। অপরদিকে হাই কমান্ডের সিগন্যাল পেয়েই প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বলে দলীয় সূত্র জানায়। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত ১৪টি ইউনিয়নের কমলাপুর, জিয়ারখি, হরিণায়নপুর, আব্দালপুর, আলামপুর, করিমপুর, নুরপুর, হরিপুরসহ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ছুটছেন তিনি এবং কর্মীসভা, মতবিনিময় করছেন। দলীয় কর্মকান্ডের পাশাপাশি শহর-গ্রামে নির্বাচনী এলাকার মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার পোষ্টার লাগানো হয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এই আসনটি ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে মাঠ গোছাতে জোরেশোরে কাজ করছেন। বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী দলীয় এমপি খন্দকার রশিদুজ্জামান দুদু নির্বাচিত হওয়ার পর পরই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণে রাজনৈতিক ও দলীয় কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রয়েছেন। আগামী নির্বাচনে এই আসন থেকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ব্যারিষ্টার এম. আমিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, পৌর মেয়র আনোয়ার আলী, এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মাসুম, ডাক্তার আমিনুল হক রতনের নাম শোনা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কুষ্টিয়া-৩ আসনে মূলত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে তুমুল লড়াই ও জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে।
