বিশ্বের শিয়া সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় আয়োজন পবিত্র আশুরা। ৬১ হিজরীর এই দিনে ইরাকের ফোরাত নদীর কিনারায় হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রিয় দৌহিত্র, আলী (রা.) ও ফাতেমা (রা.)-এর নয়নমণি ইমাম হোসাইন (রা.) ও তার পরিবার-পরিজনসহ মোট ৭২ জন মর্দে মুজাহিদ এক বিন্দু পানি হতে বঞ্চিত হয়ে শাহাদাত বরণ করেছিলেন। যার কারণে শিয়া মুসলিমগণ ১ মহররম থেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছেন। তার অংশ হিসাবে গতকাল বাংলাদেশের শিয়া সমপ্রদায়ের কেন্দ্র হোসেনী দালানের পাশের মাঠে জিঞ্জির মাতম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাজার হাজার শিয়া-সুন্নীর মুখে হায় হোসেন, হায় হোসেন ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হয় এবং তারা শরীর থেকে রক্ত প্রবাহিতও করেন।
তাছাড়া গতকাল মাগরিবের নামাজের পর হোসেনী দালান ইমামবাড়া থেকে এক বিশাল শাহী তাজিয়া মিছিল বের হয়। আশুরা পালন কর্তৃপক্ষ বলেন, আমরা ৮ মহররমের সব অনুষ্ঠান কাসেমের স্মরণে করেছি। আর আজ ৯ মহররম ইমাম হোসেনের বড় পুত্র আলী আকবর ও শিশুপুত্র আলী আজগর-এর স্মরণে ও কারবালার সকল শহীদের স্মরণে পালন করবো। আজ মাগরিবের পরও একই স্থান থেকে গতকালের মতো শাহী তাজিয়া মিছিল বের হবে। উল্লেখ্য, আজ রাত সাড়ে বারোটায় হোসেনী দালানে মজলিসে আশুরা অনুষ্ঠিত হবে। তারপর রাত দেড়টায় গাহওয়ারা গাশত (ভোররাতের মিছিল) অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া আজ সকাল সাড়ে নয়টায় ইমামবাড়া মীর ইয়াকুব ওয়াকফ দালানে শিয়া আঞ্জুমানে হোসাইনীর আয়োজনে বয়ান হবে। সিরাজী হাউজে সকাল ১১টায় পুরুষ মজলিস অনুষ্ঠিত হবে। রাত সাড়ে দশটায় মজলিস-এ শাব-এ আশুরা অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া পুরান ঢাকার সকল ইমামবাড়া ও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, মগবাজার-এর সকল পারিবারিক ও ওয়াকফ ইমামবাড়ায় একযোগে আশুরার প্রস্তুতি অনুষ্ঠান হচ্ছে। এছাড়া ইরান কালচারাল সেন্টারে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শোক মজলিস ও মর্সিয়া পাঠ হচ্ছে। আর আগামীকাল শিয়া সমপ্রদায়ের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান পবিত্র আশুরা দিবসের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
