ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং জ্লাটান ইব্রাহিমোভিচ বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম। তবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে এই দুজনের মধ্য থেকে যে কোনো একজনের খেলা দেখতে পারবে ফুটবল বিশ্ব। কারণ আগামীকাল শুক্রবার পর্তুগালের মাঠ স্তাদিও ডি লুইস স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের প্লে-অফে মুখোমুখি হবে রোনালদোর পর্তুগাল এবং ইব্রাহিমোভিচের সুইডেন। তবে মূল লড়াইটা হবে এই দুজন স্ট্রাইকারের মধ্যে।
নিজ নিজ দেশের মূল শক্তি এই দুই স্ট্রাইকার। প্লে-অফে ভাল কিছু করলেই মিলবে ব্রাজিলের টিকিট। এজন্য দল দুটি চাইবে তাদের মূল শক্তি তাদের স্বরূপে ফিরুক।
ক্লাব ফুটবলে এই দুজন দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এবং একটার পর একটা ম্যাচে দলকে জিতিয়ে চলেছেন। এবারের ‘ব্যালন ডি ’অরের’ দাবিদারদের তালিকায়ও তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। রোনালদো সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ চারবার মাঠে নেমে নয়টি গোল করেছেন। সাহায্য করেছেন আরো দুটি গোলে। একই সময়ে ইব্রাহিমোভিচ পাঁচ ম্যাচে করেছেন ১০টি গোল এবং সাহায্য করেছেন পাঁচটিতে।
ইউরোপের এই দল দুটি ২০০৮ সালের অক্টোবর এবং ২০০৯ সালের মার্চে শেষ দুবার মুখোমুখি হয়েছিল। দুটি খেলাই শেষ হয়েছে গোলশূন্য ভাবে। তবে আগামী কাল প্লে-অফের প্রথম লেগের খেলায় লড়াইটা দারুণ জমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ প্লে-অফের উপরই নির্ভর করছে বিশ্বকাপের ভাগ্য।
রোনালদো নির্ভর পর্তুগাল কাউন্টার অ্যাটাকে সুইডেনের থেকে বেশ খানিকটা এগিয়ে আছে। আগামী মঙ্গলবার প্লে-অফের শেষ খেলায় মুখোমুখি হবে দল দুটি। পর্তুগালের কোচ পাওলো বেনতো বলেন, ‘খেলাটি খুবই জটিল এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। দুই দলের মধ্যে কেউ ফেভারিটের হিসেবে মাঠে নামবে না।’
অবশ্য সুইডেনের কোচ এরিক হ্যামরেন আগামীকালের খেলায় স্বাগতিকদেরকে ফেভারিট মনে করছেন। সুইডিশ কোচ বলেন, ‘পর্তুগাল স্পষ্টভাবেই আমাদের থেকে এগিয়ে আছে। তবে আমাদেরও সুযোগ আছে। বিশ্বকাপে খেলাই আমদের লক্ষ্য।’ নিজের দলের শক্তিমত্তার কথাও জানিয়ে দিয়েছেন হ্যামরেন, ‘তারা সুযোগ তৈরি করলে আমাদের কাছে তারও একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে। এই ম্যাচে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। এবং আমাদের জন্য এটাই সব থেকে বড়ো পরীক্ষা। আমরা যদি কোনো ভুল করি তাহলে সাথে সাথে তার শাস্তি পেতে হবে।’ একই দিনে বাছাই পর্বের প্লে-অফের প্রথম লেগে ইউক্রেনের মাঠে ফ্রান্স খেলবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে। তবে শক্তির বিচারে স্পষ্টভাবেই সফরকারীরা এগিয়ে আছে। ফ্রান্সের মূল শক্তি জাতীয় দলের হয়ে ৭৮ ম্যাচ খেলা সব থেকে অভিজ্ঞ ফুটবলার ফ্রাঙ্ক রিবেরি। ফ্রান্সের সর্বশেষ ১৩টি গোলের ৪টি করেছেন তিনি, করিয়েছেন আরও চারটি। বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা বলেন, ‘আমি চেষ্টা করব সেরাটা দিতে।’
পরিসংখ্যান অবশ্য কথা বলছে ফ্রান্সের পক্ষে। দল দুটির শেষ সাতবারের মুখোমুখিতে অপরাজিত আছে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ীরা। ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম বলেন, ‘উইক্রেনের বিপক্ষের ম্যাচটি আমাদের জন্য সহজ হবে না। তারা যথেষ্ট ভাল দল।’ আগামী মঙ্গলবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হবে প্লে-অফের শেষ খেলাটি। দ্বিতীয় লেগের খেলাটি নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানালেন ফরাসি, ‘দ্বিতীয় খেলাটি আমাদের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। তাই এটা আমাদের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে খেলতে হলে আমাদের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে খেলতে হবে।’ জয়ই ফ্রান্সের একমাত্র লক্ষ্য জানিয়ে দেশম বলেন, ‘মাত্র পাঁচদিনের মধ্যে আমরা দুটি ম্যাচ খেলবো। আমাদের লক্ষ্য খুবই পরিষ্কার। আমরা জয় চাই।’
