দখিন হাওয়ায় হুমায়ূনের জন্মদিনে

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৩, ১৯:৩২
তাঁর না থাকার কষ্ট ভুলে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে সবাই। ধানমন্ডির দখিন হাওয়ার ফ্ল্যাটে চলছে জন্মদিন পালনের প্রস্তুতি। হুমায়ূন আহমেদের ৬৫তম জন্মদিন পালন করতে জ্বালানো হয়েছে তিনশ মোমবাতি। সিঙ্গাপুর থেকে চলে এসেছেন শহীদ হোসেন খোকন। গত প্রায় ১০ বছর ধরে হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে প্রতিবছরই এসেছেন তিনি। এবারও ১২টা বাজার ১০ মিনিট আগে ঢুকলেন বাসায়। টেবিলের ওপরে তিনটি কেক রাখা। ঘরের দেয়ালে সাঁটানো একটি ছবি। জন্মদিনে বাবাকে উপহার হিসেবে ছবিটি এঁকেছে নিষাদ, নিনিত। ছবিটা দেখে চোখে পানি চলে আসে। ছবিতে দুটি প্লেন উড়ছে আকাশে। আকাশের গায়ে অনেক অনেক তারা। বাবার নামের ইংরেজি অক্ষরগুলো সেই আকাশের গায়ে সেঁটে দিয়েছে শিশু দুটি। আর লিখেছে ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু বাবা’, ‘আই লাভ ইউ’। বাবা যে পৃথিবীতে নেই, আকাশের ঠিকানায়—কীভাবে বুঝলো এই ছোট্ট শিশু দুটি! মেহের আফরোজ শাওনের চোখে পানি ছলছল করছে। সেই কান্না লুকিয়েই হাসছেন। কথা বলছেন সবার সঙ্গে। আর বারবারই বলছেন, আমরা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিনে কোনো শোক করব না, আনন্দ করব। হুমায়ূন যেভাবে জন্মদিন পালন করতেন ঠিক সেভাবে। সবাইকে বলছেন, কিন্তু তাঁর চোখ সে কথা শুনছে না। ভিজিয়ে দিচ্ছে বারবার। কথা হয় শাওনের সঙ্গে। তিনি বলেন, কেন শোক করব। তিনি তো আনন্দ করতে ভালোবাসতেন। আমরা তাঁর সেই আনন্দময় স্মৃতিটাকেই বাঁচিয়ে রাখতে চাই। প্রশ্ন করি তাঁকে—‘হুমায়ূন স্যার নেই। আসবেন না কখনো। সামনের দিনগুলো কীভাবে পাড়ি দেবেন?’ উত্তরে বলেন, ‘কোনোকিছু ভাবতে পারি না। গত বছরের ১৮ জুলাই আর ১৯ জুলাই সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি দিন ছিল আমাদের জন্য। ১৮ জুলাই চিন্তাই করতে পারিনি পরের দিন তিনি থাকবেন না। সেই ঘোর আজও কাটেনি। কী করব কিছু ভাবতে পারি না। কীভাবে দীর্ঘ জীবন পাড়ি দেবো তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে জীবনের শেষ অংশটা দেখতে পাই চোখের সামনে। আমার দুই ছেলে নিষাদ ও নিনিতকে তার বাবার মতো বড় মনের মানুষ হিসেবে বড় করতে চাই। তারা তার বাবার মতো, হুমায়ূন আহমেদের মতো বিশাল মনের মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে—শুধু এটুকুই প্রত্যাশা।’ দখিন হাওয়ায় হুমায়ূন আহমেদের পাশের ফ্ল্যাটটি অন্যপ্রকাশের মাজহারুল ইসলামের। সেখানে সব অতিথির জন্য খাবারের আয়োজন করেছেন তাঁর স্ত্রী। শাওনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে পাশে পাশে আছেন তিনি। চলে এসেছেন হুমায়ূন আহমেদের ‘ওল্ড ফুলস ক্লাব’-এর বেশ কয়েকজন সদস্য। আর্কিটেক্ট ফজলুল করিম, শাকুর মজিদ, অবসরের প্রকাশক আলমগীর রহমান আর মাজহারুল ইসলাম তো আছেনই। ছিলেন শাওনের মা তহুরা আলী এমপি ও বাবা মোহাম্মদ আলী। ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে মোমবাতি নিভিয়ে কেক কাটা হলো। সবার আনন্দ-চিত্কারে মুখর হয়ে উঠল চারপাশ। মনের মাঝে গুঞ্জরিত হচ্ছিল হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় সেই গান—‘মরিলে কান্দিস না আমার দায়।/ রে যাদু ধন... মরিলে কান্দিস না আমার দায়।’